Dhaka , Tuesday, 3 November 2026
শিরোনাম :
জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দায়িত্ব পেলেন বাগেরহাটের সৈয়দ মোরশেদ আনোয়ার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে বাগেরহাটে যুবদলের প্রস্তুতি সভা বাগেরহাটে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে চেক বিতরণ বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সড়ক মন্ত্রীর এসি প্রদান বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না          —–ডা. শফিকুর রহমান জায়গার সংকট, আগাছা-জঙ্গলে বেহাল বাগেরহাটের বড় কবরস্থান, দাফনেও ভোগান্তি বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা ৩০ অক্টোবর থেকে দুবলার চরে শুঁটকি উৎসব, জীবিকার সন্ধানে সাগরে নামছেন হাজারো জেলে

সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণের মূল হোতা গ্রেপ্তার।

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 05:24:38 pm, Thursday, 8 January 2026
  • 37 বার

আল আমিন খান ,বাগেরহাট

সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূল হোতা মাসুম মৃধা (২৩)-কে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে কোস্টগার্ড। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন ধানখালী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এসময় তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার মাসুমের আস্তানা থেকে তিনটি দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান, আট রাউন্ড তাজা কার্তুজ, চার রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি দেশীয় কুড়াল, একটি দা ও একটি স্টিল পাইপ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ জিম্মি করা পর্যটকদের পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একটি হাতঘড়িও উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড।গ্রেপ্তার ডাকাত এবং জব্দকৃত আলামতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান। তিনি বলেন, সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে সুন্দরবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এছাড়াও জলোচ্ছ্বাস এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।এছাড়া তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে কয়েকটি ডাকাত দল বনজ সম্পদ লুণ্ঠন, জেলে ও বনজীবীদের অপহরণসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কার্যক্রম করে আসছে। ডাকাত চক্র সমূহের কর্মকাণ্ডে পর্যটন শিল্প, বাস্তুসংস্থান এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কোস্ট গার্ড তার দায়িত্বের অংশ হিসেবে সূচনালগ্ন থেকে ডাকাতের বিরুদ্ধে অপারেশন পরিচালনা করে আসছে। জানা যায়, গত ২ জানুয়ারি সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট হতে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় কাঠের বোট যোগে ভ্রমণকালে ডাকাত মাসুম বাহিনী দুইজন পর্যটকসহ গোলকানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কোস্ট গার্ডকে অবগত করলে কোস্ট গার্ড যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। গোয়েন্দা তথ্য, ড্রোন নজরদারি ও ফিনান্সিয়াল ট্রেসিং ব্যবহার করে টানা ৪৮ ঘণ্টা অভিযানের পর জিম্মি পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ডাকাত চক্রের সদস্য কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মো. সালাম বক্স (২৪), মেহেদী হাসান (১৯), আলম মাতব্বর (৩৮), অয়ন কুণ্ডু (৩০), মো. ইফাজ ফকির (২৫), জয়নবী বিবি (৫৫) এবং মোছা দৃধা (৫৫)-কে সুন্দরবন, দাকোপ এবং খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করে দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়।কোস্ট গার্ড গত এক বছরে সুন্দরবনে ডাকাত ও জলদস্যু বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মোট ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, দুটি হাতবোমা, ৭৪টি দেশীয় অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জামাদি, ৪৪৮ রাউন্ড কার্তুজ এবং জিম্মি থাকা ৫২ জন নারী ও পুরুষকে উদ্ধার করে। এসব অভিযানে মোট ৪৯ জন সক্রিয় ডাকাতকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দায়িত্ব পেলেন বাগেরহাটের সৈয়দ মোরশেদ আনোয়ার

সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণের মূল হোতা গ্রেপ্তার।

আপডেট টাইম : 05:24:38 pm, Thursday, 8 January 2026

আল আমিন খান ,বাগেরহাট

সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূল হোতা মাসুম মৃধা (২৩)-কে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে কোস্টগার্ড। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন ধানখালী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এসময় তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার মাসুমের আস্তানা থেকে তিনটি দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান, আট রাউন্ড তাজা কার্তুজ, চার রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি দেশীয় কুড়াল, একটি দা ও একটি স্টিল পাইপ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ জিম্মি করা পর্যটকদের পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একটি হাতঘড়িও উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড।গ্রেপ্তার ডাকাত এবং জব্দকৃত আলামতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান। তিনি বলেন, সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে সুন্দরবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এছাড়াও জলোচ্ছ্বাস এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।এছাড়া তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে কয়েকটি ডাকাত দল বনজ সম্পদ লুণ্ঠন, জেলে ও বনজীবীদের অপহরণসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কার্যক্রম করে আসছে। ডাকাত চক্র সমূহের কর্মকাণ্ডে পর্যটন শিল্প, বাস্তুসংস্থান এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কোস্ট গার্ড তার দায়িত্বের অংশ হিসেবে সূচনালগ্ন থেকে ডাকাতের বিরুদ্ধে অপারেশন পরিচালনা করে আসছে। জানা যায়, গত ২ জানুয়ারি সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট হতে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় কাঠের বোট যোগে ভ্রমণকালে ডাকাত মাসুম বাহিনী দুইজন পর্যটকসহ গোলকানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কোস্ট গার্ডকে অবগত করলে কোস্ট গার্ড যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। গোয়েন্দা তথ্য, ড্রোন নজরদারি ও ফিনান্সিয়াল ট্রেসিং ব্যবহার করে টানা ৪৮ ঘণ্টা অভিযানের পর জিম্মি পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ডাকাত চক্রের সদস্য কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মো. সালাম বক্স (২৪), মেহেদী হাসান (১৯), আলম মাতব্বর (৩৮), অয়ন কুণ্ডু (৩০), মো. ইফাজ ফকির (২৫), জয়নবী বিবি (৫৫) এবং মোছা দৃধা (৫৫)-কে সুন্দরবন, দাকোপ এবং খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করে দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়।কোস্ট গার্ড গত এক বছরে সুন্দরবনে ডাকাত ও জলদস্যু বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মোট ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, দুটি হাতবোমা, ৭৪টি দেশীয় অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জামাদি, ৪৪৮ রাউন্ড কার্তুজ এবং জিম্মি থাকা ৫২ জন নারী ও পুরুষকে উদ্ধার করে। এসব অভিযানে মোট ৪৯ জন সক্রিয় ডাকাতকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।