Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে IELTS ও জাপানি ভাষা শিক্ষা নিয়ে সেমিনার বাগেরহাট পৌরসভার সড়ক উন্নয়নে অনিয়মের অভিযোগ, পুরোনো ঠিকাদারের হাতেই একাধিক কাজ,

মাত্র ৬ মাসে ৩০ পারা কোরআনের হাফেজ ১১ বছরের মাহমুদ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 03:28:23 pm, Friday, 7 November 2025
  • 353 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি

মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই পুরো ৩০ পারা পবিত্র কোরআন শরীফ মুখস্থ করে হাফেজে কোরআনের মর্যাদা অর্জন করেছে ১১ বছর বয়সী মাহমুদ হাসান। অল্প বয়সে এমন বিরল কীর্তি স্থাপন করে সে এখন বাগেরহাটবাসীর গর্বে পরিণত হয়েছে।বাগেরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম বাসাবাটি, দরাটানার ৯ নং ওয়ার্ডের এক শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান মাহমুদ হাসান।বর্তমানে পুরাতন কোর্ট চত্বর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মডেল হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।তার পিতা মোঃ মামুন মোল্লা পেশায় একজন দিনমজুর এবং মাতা মোসা মারুফা আক্তার একজন গৃহিণী। তিন ভাইয়ের মধ্যে মাহমুদ হাসান দ্বিতীয়। এর আগে সে বাসাবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে।ছোটবেলা থেকেই ইসলামের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখে বাবা-মা তাকে হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। তারপর থেকেই শুরু হয় মাহমুদের নিরলস পরিশ্রম। প্রতিদিন প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে কোরআন তিলাওয়াত ও মুখস্থ করায় মগ্ন থাকতো সে।বাগেরহাট শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মডেল হাফিজিয়া মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক ও ইমাম ও খতিব মাওলানা রুহুল আমিন খান বলেন,মাহমুদ হাসান ছিল অত্যন্ত মনোযোগী, শৃঙ্খলাপরায়ণ ও ভদ্র ছাত্র। ছয় মাসে ৩০ পারা মুখস্থ করা সাধারণ মানুষের পক্ষে কল্পনাতীত। কিন্তু মাহমুদ তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অগাধ মনোযোগ ও আল্লাহর রহমতে সেটা সম্ভব করেছে। সে কখনও পড়াশোনায় অলসতা করেনি, বরং সবার আগে এসে সবার শেষে মাদ্রাসা ছাড়তো। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে সে ইসলামের একজন যোগ্য দাঈ (দাওয়াতদাতা) হিসেবে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। এছাড়া আমাদের এই মাদ্রাসায় এই প্রথমেই মুখ উজ্জ্বল করলো এই মাহমুদ হাসান এর আগে কখনো এমন প্রতিভাবান ছাত্র আমরা পাইনি আমাদের বুকটা আসলে ভরে গেছে ওর এই কৃতিত্ব দেখে আমরা সব সময় ওরে দোয়া করি যেন বড় আলেম হতে পারে আল্লাহর দাওয়াত দিতে পারে।শিশু হাফেজ মাহমুদের পিতা মোঃ মামুন মোল্লা বলেন,আমি দিনমজুর মানুষ, প্রতিদিনের আয়ে সংসার চলে। কিন্তু সবসময় চেয়েছি আমার সন্তান যেন আল্লাহর কালাম মুখস্থ করে মানুষ হয়। মাহমুদ আজ হাফেজ হয়েছে এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তার এই সাফল্য আমার কষ্টকে সার্থক করেছে। আমার মৃত্যুর পর যেন আমার ছেলে আমার জানাজাটা পড়াতে পারে এটাই আমার চাওয়া। একদিন তো সবারই মরতে হবে তাই আমার সন্তানকে নিয়ে আমি অনেক গর্বিত যাতে মানুষের কাছে এখন বলতে পারব আমি একজন হাফেজের বাবা আমার আর কোন দুঃখ নেই।মাতা মোসা মারুফা আক্তার বলেন,ছোটবেলা থেকেই আমার ছেলে নামাজ-রোজায় আগ্রহী ছিল। আমি সবসময় তার জন্য দোয়া করেছি যেন আল্লাহ তাকে কোরআনের আলোয় আলোকিত করেন। ছয় মাসে হাফেজ হওয়া সত্যিই এক অলৌকিক ব্যাপার এটা আল্লাহর অসীম রহমত।বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান বলেন,এমন সাফল্য আমাদের সমাজে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। অল্প বয়সে মাহমুদের কোরআন মুখস্থ করার ঘটনা শুধু পরিবারের নয়, পুরো জেলার জন্য গর্বের। আমরা চাই প্রশাসন ও সমাজ এই ধরনের প্রতিভাবান শিশুদের পাশে দাঁড়াক, যাতে তারা ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় আরও এগিয়ে যেতে পারে।বাংলাভিশনের সাংবাদিক মোল্লা মাসুদুল হক বলেন,একজন আদর্শবান বাবার ছেলে মাহমুদ হাসান মাত্র ছয় মাসে পুরো কোরআন মুখস্থ করেছে এটা সত্যিই অনুপ্রেরণার গল্প। এমন উদাহরণ দেখলে বোঝা যায়, মেধা ও ইচ্ছাশক্তির জোরে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। মাহমুদ ভবিষ্যতে আল্লাহর দীন প্রচারে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।মাহমুদের এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, সাংবাদিক ও এলাকাবাসী সবাই আনন্দিত ও গর্বিত। তারা বিশ্বাস করেন, এই ছোট্ট হাফেজ ভবিষ্যতে একজন আদর্শ আলেম হয়ে সমাজে ইসলামের আলো ছড়াবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয়

মাত্র ৬ মাসে ৩০ পারা কোরআনের হাফেজ ১১ বছরের মাহমুদ

আপডেট টাইম : 03:28:23 pm, Friday, 7 November 2025

বাগেরহাট প্রতিনিধি

মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই পুরো ৩০ পারা পবিত্র কোরআন শরীফ মুখস্থ করে হাফেজে কোরআনের মর্যাদা অর্জন করেছে ১১ বছর বয়সী মাহমুদ হাসান। অল্প বয়সে এমন বিরল কীর্তি স্থাপন করে সে এখন বাগেরহাটবাসীর গর্বে পরিণত হয়েছে।বাগেরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম বাসাবাটি, দরাটানার ৯ নং ওয়ার্ডের এক শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান মাহমুদ হাসান।বর্তমানে পুরাতন কোর্ট চত্বর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মডেল হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।তার পিতা মোঃ মামুন মোল্লা পেশায় একজন দিনমজুর এবং মাতা মোসা মারুফা আক্তার একজন গৃহিণী। তিন ভাইয়ের মধ্যে মাহমুদ হাসান দ্বিতীয়। এর আগে সে বাসাবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে।ছোটবেলা থেকেই ইসলামের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখে বাবা-মা তাকে হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। তারপর থেকেই শুরু হয় মাহমুদের নিরলস পরিশ্রম। প্রতিদিন প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে কোরআন তিলাওয়াত ও মুখস্থ করায় মগ্ন থাকতো সে।বাগেরহাট শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মডেল হাফিজিয়া মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক ও ইমাম ও খতিব মাওলানা রুহুল আমিন খান বলেন,মাহমুদ হাসান ছিল অত্যন্ত মনোযোগী, শৃঙ্খলাপরায়ণ ও ভদ্র ছাত্র। ছয় মাসে ৩০ পারা মুখস্থ করা সাধারণ মানুষের পক্ষে কল্পনাতীত। কিন্তু মাহমুদ তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অগাধ মনোযোগ ও আল্লাহর রহমতে সেটা সম্ভব করেছে। সে কখনও পড়াশোনায় অলসতা করেনি, বরং সবার আগে এসে সবার শেষে মাদ্রাসা ছাড়তো। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে সে ইসলামের একজন যোগ্য দাঈ (দাওয়াতদাতা) হিসেবে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। এছাড়া আমাদের এই মাদ্রাসায় এই প্রথমেই মুখ উজ্জ্বল করলো এই মাহমুদ হাসান এর আগে কখনো এমন প্রতিভাবান ছাত্র আমরা পাইনি আমাদের বুকটা আসলে ভরে গেছে ওর এই কৃতিত্ব দেখে আমরা সব সময় ওরে দোয়া করি যেন বড় আলেম হতে পারে আল্লাহর দাওয়াত দিতে পারে।শিশু হাফেজ মাহমুদের পিতা মোঃ মামুন মোল্লা বলেন,আমি দিনমজুর মানুষ, প্রতিদিনের আয়ে সংসার চলে। কিন্তু সবসময় চেয়েছি আমার সন্তান যেন আল্লাহর কালাম মুখস্থ করে মানুষ হয়। মাহমুদ আজ হাফেজ হয়েছে এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তার এই সাফল্য আমার কষ্টকে সার্থক করেছে। আমার মৃত্যুর পর যেন আমার ছেলে আমার জানাজাটা পড়াতে পারে এটাই আমার চাওয়া। একদিন তো সবারই মরতে হবে তাই আমার সন্তানকে নিয়ে আমি অনেক গর্বিত যাতে মানুষের কাছে এখন বলতে পারব আমি একজন হাফেজের বাবা আমার আর কোন দুঃখ নেই।মাতা মোসা মারুফা আক্তার বলেন,ছোটবেলা থেকেই আমার ছেলে নামাজ-রোজায় আগ্রহী ছিল। আমি সবসময় তার জন্য দোয়া করেছি যেন আল্লাহ তাকে কোরআনের আলোয় আলোকিত করেন। ছয় মাসে হাফেজ হওয়া সত্যিই এক অলৌকিক ব্যাপার এটা আল্লাহর অসীম রহমত।বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান বলেন,এমন সাফল্য আমাদের সমাজে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। অল্প বয়সে মাহমুদের কোরআন মুখস্থ করার ঘটনা শুধু পরিবারের নয়, পুরো জেলার জন্য গর্বের। আমরা চাই প্রশাসন ও সমাজ এই ধরনের প্রতিভাবান শিশুদের পাশে দাঁড়াক, যাতে তারা ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় আরও এগিয়ে যেতে পারে।বাংলাভিশনের সাংবাদিক মোল্লা মাসুদুল হক বলেন,একজন আদর্শবান বাবার ছেলে মাহমুদ হাসান মাত্র ছয় মাসে পুরো কোরআন মুখস্থ করেছে এটা সত্যিই অনুপ্রেরণার গল্প। এমন উদাহরণ দেখলে বোঝা যায়, মেধা ও ইচ্ছাশক্তির জোরে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। মাহমুদ ভবিষ্যতে আল্লাহর দীন প্রচারে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।মাহমুদের এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, সাংবাদিক ও এলাকাবাসী সবাই আনন্দিত ও গর্বিত। তারা বিশ্বাস করেন, এই ছোট্ট হাফেজ ভবিষ্যতে একজন আদর্শ আলেম হয়ে সমাজে ইসলামের আলো ছড়াবে।