মোংলা প্রতিনিধি
সম্প্রতি মোংলায় এক বিউটিশিয়ানের মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল করে বিপাকে পড়েছেন এক সাংবাদিক। এ ঘটনায় মোংলায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ফাতেমা আক্তার কেয়া নামের এক বিউটিশিয়ান তার নিজ পার্লারে বসে মাদক সেবন করছেন, এমন একটি ভিডিও ঐ সাংবাদিক তার ফেসবুক প্রোফাইলে প্রচার করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ঐ বিউটিশিয়ান তার ভাই কে বাদী করে ওই সাংবাদিকসহ আরো দুইজনকে আসামি করে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করেন । বৃহস্পতিবার ঐ মামলায় গ্রেফতার হয়ে রবিবার জামিনে বের হয়েছেন মাসুদ রানা নামের ঐ সাংবাদিক। মোংলায় মাদকের বিরুদ্ধে লেখালিখি ও সামাজে যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সোচ্চার ছিলেন তিনি। এতে মাদকের সাথে যুক্ত অনেকে মানুষ তার শত্রু তৈরি হয় তার। এরই মধ্যে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হঠাৎ যুক্তরাজ্য বিএনপির এক নেতা বিলাস হালদার ফেসবুক লাইভে এসে সাংবাদিক গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসময় তিনি সাংবাদিক মাসুদ রানা কে হেনস্থা করা হয়েছে জানিয়ে ফাতেমা আক্তার কেয়ার বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। ফেসবুক লাইভে তিনি মোংলায় বিউটি পার্লারের আড়ালে কেয়ার অন্ধকার জগতের তথ্য তুলে ধরেন।
বিলাস হালদার বলেন, গত বছর মোংলা পৌর শহরের একটি ভাড়া বাড়ীতে কেয়ার বিউটি পার্লারে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসময় ঐ বিউটি পার্লারের ভিতর থেকে বাংলা মদ, ৪০ পিচ ইয়াবা ও বেশ কয়েকটি ডটেড কন্ডম উদ্ধার করে এবং ওই একই বিল্ডিং এর অন্য একটা রুম থেকে একটি বিদেশি জাহাজ থেকে ডাকাতি হওয়া মালামাল উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিলাস হালদার তার লাইভে আরও বলেন, কেয়া একজন মাদকসেবী। পার্লারের কাস্টমারদের কাছে এসব মাদক সে বিক্রি করতো , এমনকি পার্লারের ভিতরে ঐসব মাদক সেবনেরও সুবিধা দিত। তিনি আরও বলেন, নেশার পাশাপাশি ইয়াবা একটি যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, যা সেবনে শরীরে সাময়িক সময়ের জন্য শরীরে যৌন উত্তেজনা বহুগুণ বেড়ে যায়। স্বামী না থাকায় ইয়াবা সেবনের পর কখনো পুরুষের সাথে, এমন কি মেয়েরা মেয়েরা ও বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্ধারকৃত ডটেড কন্ডম সম্পর্কে বিলাস হালদার বলেন, কোমরে বেল্টের মাধ্যমে পুরুষের যৌনাঙ্গের সাদৃশ্য সেক্স টয়ের উপরে বিশেষ ভাবে তৈরি ঐ ডটেড কন্ডম পরে মেয়েরা অপর মেয়ে সঙ্গীর সাথে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হয়। এভাবেই দিনের পর দিন বিউটি পার্লারের অন্তরালে দেহ ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলো এরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ২৫ মে মোংলা বন্দরের আউটারবারে অবস্থানরত একটি বিদেশি জাহাজে ডাকাতির ঘটনা ঘটে, এবং জাহাজের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুট হয়। লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে ঐ দিন থেকেই মোংলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ৩ জনকে আটক করে। আটককৃত ডাকাতদের তথ্য মতে মোংলা পৌর শহরের গিয়াস উদ্দিন সড়কে ব্যাংক ম্যানেজার মোঃ সুলতান এর স্ত্রী রেবেকা সুলতানা রানীর বাড়ীতে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঐ বিল্ডিং এর একটি কক্ষ “কেয়া ড্রাইভের লুকস্ বিউটি পার্লার” নামের একটি বিউটি পার্লার ভাড়া দেয়া ছিলো, যার স্বত্বাধিকারী ছিলেন ফাতেমা আক্তার কেয়া। বিল্ডিং এর অন্য কক্ষগুলোতে তল্লাশি চলাকালীন একটি সময়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য আসে কেয়ার বিউটি পার্লারে ও থাকতে পারে জাহাজের মূল্যবান মালামাল। এরপর পরই ঐ পার্লারে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুরুতে কেয়া তার পার্লারে কিছু নেই বলে দাবি করলেও, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠিন জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে কেয়া তার পার্লারে ইয়াবা ও মদ থাকার কথা স্বীকার করেন। পার্লারের রুমের ভিতরের সানসেটের উপরের রাখা একটি সাদা ছোট ড্রামের মধ্য থেকে উদ্ধার হয় মদ, এবং লুকিয়ে রাখা অবস্থায় পাওয়া যায় ৪০ পিসি ইয়াবা এবং উদ্ধার করা হয় নারীদের যৌনাচারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি বেশ কয়েকটি ডটেড… কনডম। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মদের লাইসেন্স আছে জানিয়ে জনৈক্য কবিরুল ইসলামের নামে একটি লাইসেন্স দেখান কেয়া। অন্যের লাইসেন্স তার কাছে কেন, এবং জনৈক কবিরুল ইসলামের সাথে তার কি সম্পর্ক, এমন প্রশ্নের জবাবে অনেকটা নিশ্চুপ ছিলেন কেয়া। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে এক পর্যায়ে মাদক কারবারীদের সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে কেয়া। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার পা জড়িয়ে ধরে নিজেকে ডিভোর্সিও একটি সন্তান আছে জানিয়ে নিজের অসহায়ত্ব তুলে ধরেন, এবং ক্ষমা চেয়ে কাকুতি-মিনতি করতে থাকেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মূলত জাহাজের মালামাল উদ্ধারের উদ্দেশ্যে অভিযানটি পরিচালনা করেছিল, কিন্তু তার মধ্যে যুক্ত হয়ে যায় কেয়ার বিউটি পার্লারের মাদকের ঘটনা। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে কেয়া কে আটক না করে করে প্রথমবারের মত ক্ষমা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং জাহাজ ডাকাতির ঘটনায় মংলা থানা একটি মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় বাড়ীর মালিক বাড়ি থেকে পার্লার তুলে দেয়ার নোটিশ দেয় কেয়া কে।
অন্য দিকে ফাতেমা আক্তার কেয়ার সাথে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে মোংলার বেশ কয়েকজন উঠতি বয়সী সুন্দরী তরুণীর। এদের মধ্যে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত মুখ, যারা কেয়ার এই অন্ধকার জগতের সহযোগী বলে তথ্য রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণী জানান, কেয়ার তার যৌনাচারের কোন বাধ বিচার নেই। নানা কৌশলে ধনী পরিবারের উঠতি বয়সের ছেলেদের টার্গেট করে কৌশলে সম্পর্ক তৈরি করে কেয়া। মুসলিম পুরুষদের পাশাপাশি হিন্দু পুরুষদের সাথেও ছিলো তার অবৈধ সম্পর্ক। ইপিজেডে একটি বিদেশি কম্পানির সাবেক এক হিন্দু কর্মকর্তার সাথে তার অবৈধ সম্পর্ক ছিলো। বিভিন্ন রিসোর্ট, ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে গিয়েও কেয়া তার সাথে একান্তে কাটাতো ঐ কর্মকর্তার সাথে। বিষয়টি জানাজানি হলে ঐ কর্মকর্তার চাকরি যায়। সম্প্রতি পার্লারের অভ্যন্তরে মাদক সেবনের বেশকিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়। জানা গেছে এসব ছবি ও ভিডিও কেয়ার পার্লারের অভ্যন্তরের ঘটনা। আর এসব ছবি ও ভিডিও “এ আই” নয় বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সুত্র বলছে, কেয়ার বিউটি পার্লার সহ মোংলা বেশ কয়েকটি বিউটি পার্লার মাদক কেনাবেচার নিরাপদ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। মোংলার সম্ভ্রান্ত পরিবারের নারী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ ই এসব মাদকের ক্রেতা। অনেক উঠতি বয়সী নারী ও গৃহিণী এসব পার্লার থেকেই মাদকের হাতে খড়ি পেয়ে থাকে বলে জানা গেছে। কেয়া তার পার্লারে আসা কাস্টমারদের পার্লারে বসে মাদক সেবনের সুযোগ করে দিত, এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কাছে এসব মাদক সরবরাহ করতো বলে জানা গেছে। এরমধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেত্রীর নামও রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফাতেমা আক্তার কেয়া নিজেকে নারী উদ্যোক্তা উল্লেখ করে অভিযোগের বিষয়ে গুলো মিথ্যা বলে দাবি করেন। এছাড়া ভাইরাল হওয়া ছবি ভিডিও গুলো এ আই দিয়ে তৈরি বলে জানান তিনি।
শিশুদের পড়িয়ে, হাটে বড়ই বিক্রি করে এসএসসিতে এ প্লাস পেল দুর্জয়
Reporter Name 

















