Dhaka , Sunday, 1 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না          —–ডা. শফিকুর রহমান জায়গার সংকট, আগাছা-জঙ্গলে বেহাল বাগেরহাটের বড় কবরস্থান, দাফনেও ভোগান্তি বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা ৩০ অক্টোবর থেকে দুবলার চরে শুঁটকি উৎসব, জীবিকার সন্ধানে সাগরে নামছেন হাজারো জেলে বাগেরহাটে নাগরিক ফোরামের ত্রৈমাসিক সভা ও কার্যক্রম মূল্যায়নর কর্মশালা অনুষ্ঠিত  ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ, বাগেরহাটে কাটাখালীতে পথসভা পল্টন ট্র্যাজেডিতে শহীদদের স্মরণে বাগেরহাটে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল বাগেরহাটে বাংলালিংক কর্মীকে কুপিয়ে লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বাগেরহাটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ

 চিতলমারীতে বিশ্বাস ও শেখ বংশের সংঘর্ষ অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরে ক্ষতিগ্রস্থ ৪০ পরিবারকে খাদ্য সহয়তা প্রদান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 06:53:24 pm, Sunday, 29 March 2026
  • 47 বার

 

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাট: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের দুই বংশের সংঘর্ষ, ভাংচুর, বসতবাড়ি লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ পরিবারকে খাদ্য সহয়তা প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসন। রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় চিংগড়ী এলাকায় পৌছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ক্ষতিগ্রস্থদের হাতে এ খাদ্য সহয়তা তুলে দেন।এদিকে ঘটনার তৃতীয় দিনে, বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খানসহ উপজেলা জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ পৃথক ভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শেখ বংশের মোঃ মিরন শেখ বাদী হয়ে ২৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জনকে আসামী দিয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। এর আগে চিতলমারী থানা পুলিশ বাদী হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দেশী অস্ত্র নিয়ে মহড়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় বিশ্বাস বংশের দুইজনকে গ্রেপ্তার ও রাম দা, টেটা, কাস্তেসহ বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জানাযায়, মধুমতির নদীর চরের জমি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের বিশ্বাস ও শেখ বংশের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে আরিফ শেখ নামের এক যুবককে ফুলকুচি (লোহার সিকের তৈরি এক ধরণের মাছধরা অস্ত্র) দিয়ে আঘাত করে বিশ্বাস বংশের লোকেরা। পরে শেখ পরিবার ও বিশ্বাস পরিবারের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে বিশ্বাস বংশের লোকেরা শেখ পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে অন্তত ৪০টি বাড়িঘর ধ্বংসস্তপে পরিনত হয়। আর শেখ বংশের সদস্য রাজিব শেখ নিহত হয়। ঘটনার তিন দিন পরও এলাকাজুড়ে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। পুরুষ শূন্য দুই বংশের বেশিরভাগ পরিবার। এখনও খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর নারী-শিশুসহ বয়স্করা।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, রবিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০টি পরিবারের সদস্যদের শুকনো খাবার দেওয়ার হয়েছে। আর যাদের বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা আবেদন করলে টিনসহ অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা হবে।

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শেখ বংশের মোঃ মিরন শেখ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

 চিতলমারীতে বিশ্বাস ও শেখ বংশের সংঘর্ষ অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরে ক্ষতিগ্রস্থ ৪০ পরিবারকে খাদ্য সহয়তা প্রদান

আপডেট টাইম : 06:53:24 pm, Sunday, 29 March 2026

 

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাট: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের দুই বংশের সংঘর্ষ, ভাংচুর, বসতবাড়ি লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ পরিবারকে খাদ্য সহয়তা প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসন। রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় চিংগড়ী এলাকায় পৌছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ক্ষতিগ্রস্থদের হাতে এ খাদ্য সহয়তা তুলে দেন।এদিকে ঘটনার তৃতীয় দিনে, বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খানসহ উপজেলা জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ পৃথক ভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শেখ বংশের মোঃ মিরন শেখ বাদী হয়ে ২৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জনকে আসামী দিয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। এর আগে চিতলমারী থানা পুলিশ বাদী হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দেশী অস্ত্র নিয়ে মহড়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় বিশ্বাস বংশের দুইজনকে গ্রেপ্তার ও রাম দা, টেটা, কাস্তেসহ বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জানাযায়, মধুমতির নদীর চরের জমি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের বিশ্বাস ও শেখ বংশের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে আরিফ শেখ নামের এক যুবককে ফুলকুচি (লোহার সিকের তৈরি এক ধরণের মাছধরা অস্ত্র) দিয়ে আঘাত করে বিশ্বাস বংশের লোকেরা। পরে শেখ পরিবার ও বিশ্বাস পরিবারের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে বিশ্বাস বংশের লোকেরা শেখ পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে অন্তত ৪০টি বাড়িঘর ধ্বংসস্তপে পরিনত হয়। আর শেখ বংশের সদস্য রাজিব শেখ নিহত হয়। ঘটনার তিন দিন পরও এলাকাজুড়ে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। পুরুষ শূন্য দুই বংশের বেশিরভাগ পরিবার। এখনও খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর নারী-শিশুসহ বয়স্করা।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, রবিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০টি পরিবারের সদস্যদের শুকনো খাবার দেওয়ার হয়েছে। আর যাদের বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা আবেদন করলে টিনসহ অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা হবে।

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শেখ বংশের মোঃ মিরন শেখ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।