Dhaka , Sunday, 1 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না          —–ডা. শফিকুর রহমান জায়গার সংকট, আগাছা-জঙ্গলে বেহাল বাগেরহাটের বড় কবরস্থান, দাফনেও ভোগান্তি বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা ৩০ অক্টোবর থেকে দুবলার চরে শুঁটকি উৎসব, জীবিকার সন্ধানে সাগরে নামছেন হাজারো জেলে বাগেরহাটে নাগরিক ফোরামের ত্রৈমাসিক সভা ও কার্যক্রম মূল্যায়নর কর্মশালা অনুষ্ঠিত  ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ, বাগেরহাটে কাটাখালীতে পথসভা পল্টন ট্র্যাজেডিতে শহীদদের স্মরণে বাগেরহাটে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল বাগেরহাটে বাংলালিংক কর্মীকে কুপিয়ে লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বাগেরহাটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ

বাগেরহাটে হোটেল ব্যবসায়ীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, ইয়াবাসহ আজিম ভূঁইয়া গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 08:57:06 pm, Wednesday, 22 April 2026
  • 3790 বার

 

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটে মো. রিয়াজুল ইসলাম হাছান নামের এক হোটেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও চাঁদা দাবির ঘটনায় প্রধান আসামি আজিম ভূঁইয়া ওরফে কানা আজিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে শহরের বাসাবাটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

বাগেরহাট সদর মডেল থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. রিয়াজুল ইসলাম হাছান (২৬) বাগেরহাট শহরের রাহাতের মোড়ে অবস্থিত ‘হাছান আবাসিক’ নামে একটি হোটেল তিন বছরের চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করছিলেন। হোটেলটি নেওয়ার পর থেকেই আজিম ভূঁইয়াসহ কয়েকজন তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দিলে হোটেলটি তাদের কাছে হস্তান্তরের জন্য চাপ দিতে থাকে।

এরই মধ্যে গত ১৬ এপ্রিল রাতে রিয়াজুল ইসলাম হোটেলের একটি কক্ষে অবস্থানকালে আজিম ভূঁইয়াসহ ৭–৮ জনের একটি সন্ত্রাসী দল সেখানে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে শহরের বাসাবাটি এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাকে লোহার হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় হোটেলটি হস্তান্তরের বাবদ জোর করে টাকা নেওয়ার স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, পরদিন তাকে হোটেলে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও ২০ এপ্রিল সকালে আবারও অভিযুক্তরা হোটেলে গিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং একটি ভাড়া বাসায় আটক রেখে পুনরায় মারধর করে। এমনকি তাকে অমানবিক নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে গোপন অঙ্গে পানির বোতল ঝুলিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে চাঁদার টাকা না দিলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিকেলে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।মুক্ত হয়ে রিয়াজুল ইসলাম বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে এ ঘটনায় আজিম ভূঁইয়াসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮–১০ জনকে আসামি করে গত ২১ এপ্রিল বাগেরহাট মডেল থানায় মামলা করেন ব্যবসায়ী রিয়াজুল ইসলাম।

 

বাগেরহাট পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক সরদার জসিম বলেন, গত ৫ আগস্টের পর বাগেরহাট শহরের বাসাবাটি এলাকায় আজিম ভূঁইয়া ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনে সাধারণ মানুষ আজ অতিষ্ঠ। আজিম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে মৎস্য ঘের দখল, চাঁদাবাজি ও অপহরণসহ হাজারো অভিযোগ রয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে কথা বলায় গত বছরের ১২ মার্চ আমার বাড়ির সামনে আমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে আজিম ও তার সন্ত্রাসীরা।তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আমি মামলা করলে একটি আবাসিক হোটেল থেকে হাতবোমাসহ আজিম ভূঁইয়া ও তার ভাই সেলিম ভূঁইয়াসহ ১৮ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। তবে বিএনপির কিছু সুবিধাবাদী নেতার কারণে এসব সন্ত্রাসীরা জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। আমরা বাসাবাটি এলাকার সাধারণ মানুষ আজিম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

এদিকে, আজিম ভূঁইয়া ও তার ভাই শ্রমিক নেতা সেলিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মো. ফজলার রহমান নামের এক অবসরপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্টারের সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের রাধাবল্লভ এলাকায় অবস্থিত ৬ একর মৎস্য ঘের লুটেরও অভিযোগ রয়েছে।অবসরপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্টার মো. ফজলার রহমান বলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের রাধাবল্লভ এলাকায় আমার ব্যক্তিমালিকানাধীন ৬ একর জমির উপর একটি মাছের প্রকল্প রয়েছে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি সেলিম ভূঁইয়া ও তার ভাই আজিম ভূঁইয়াসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি সন্ত্রাসী দল প্রবেশ করে প্রকল্পে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতিসহ ঘেরে থাকা বাগদা, গলদা ও রুইসহ প্রায় দুই লাখ টাকার মাছ লুটে নেয়। এছাড়া গত ১০ মার্চ আমার ঘেরে থাকা ছাগল লুট করে নিয়ে যায় সেলিম ও আজিমসহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী। তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনায় বাগেরহাট মডেল থানায় আমি দুটি মামলা করলেও কোনো প্রতিকার পাইনি।

বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, একটি আবাসিক হোটেলের মালিককে অপহরণ করে নির্যাতন ও চাঁদাবাজির মামলায় প্রধান আসামি আজিম ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এছাড়া গ্রেপ্তার আজিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মৎস্য ঘের দখল, অপহরণসহ চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বাগেরহাটে হোটেল ব্যবসায়ীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, ইয়াবাসহ আজিম ভূঁইয়া গ্রেপ্তার

আপডেট টাইম : 08:57:06 pm, Wednesday, 22 April 2026

 

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটে মো. রিয়াজুল ইসলাম হাছান নামের এক হোটেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও চাঁদা দাবির ঘটনায় প্রধান আসামি আজিম ভূঁইয়া ওরফে কানা আজিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে শহরের বাসাবাটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

বাগেরহাট সদর মডেল থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. রিয়াজুল ইসলাম হাছান (২৬) বাগেরহাট শহরের রাহাতের মোড়ে অবস্থিত ‘হাছান আবাসিক’ নামে একটি হোটেল তিন বছরের চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করছিলেন। হোটেলটি নেওয়ার পর থেকেই আজিম ভূঁইয়াসহ কয়েকজন তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দিলে হোটেলটি তাদের কাছে হস্তান্তরের জন্য চাপ দিতে থাকে।

এরই মধ্যে গত ১৬ এপ্রিল রাতে রিয়াজুল ইসলাম হোটেলের একটি কক্ষে অবস্থানকালে আজিম ভূঁইয়াসহ ৭–৮ জনের একটি সন্ত্রাসী দল সেখানে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে শহরের বাসাবাটি এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাকে লোহার হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় হোটেলটি হস্তান্তরের বাবদ জোর করে টাকা নেওয়ার স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, পরদিন তাকে হোটেলে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও ২০ এপ্রিল সকালে আবারও অভিযুক্তরা হোটেলে গিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং একটি ভাড়া বাসায় আটক রেখে পুনরায় মারধর করে। এমনকি তাকে অমানবিক নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে গোপন অঙ্গে পানির বোতল ঝুলিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে চাঁদার টাকা না দিলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিকেলে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।মুক্ত হয়ে রিয়াজুল ইসলাম বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে এ ঘটনায় আজিম ভূঁইয়াসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮–১০ জনকে আসামি করে গত ২১ এপ্রিল বাগেরহাট মডেল থানায় মামলা করেন ব্যবসায়ী রিয়াজুল ইসলাম।

 

বাগেরহাট পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক সরদার জসিম বলেন, গত ৫ আগস্টের পর বাগেরহাট শহরের বাসাবাটি এলাকায় আজিম ভূঁইয়া ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনে সাধারণ মানুষ আজ অতিষ্ঠ। আজিম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে মৎস্য ঘের দখল, চাঁদাবাজি ও অপহরণসহ হাজারো অভিযোগ রয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে কথা বলায় গত বছরের ১২ মার্চ আমার বাড়ির সামনে আমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে আজিম ও তার সন্ত্রাসীরা।তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আমি মামলা করলে একটি আবাসিক হোটেল থেকে হাতবোমাসহ আজিম ভূঁইয়া ও তার ভাই সেলিম ভূঁইয়াসহ ১৮ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। তবে বিএনপির কিছু সুবিধাবাদী নেতার কারণে এসব সন্ত্রাসীরা জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। আমরা বাসাবাটি এলাকার সাধারণ মানুষ আজিম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

এদিকে, আজিম ভূঁইয়া ও তার ভাই শ্রমিক নেতা সেলিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মো. ফজলার রহমান নামের এক অবসরপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্টারের সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের রাধাবল্লভ এলাকায় অবস্থিত ৬ একর মৎস্য ঘের লুটেরও অভিযোগ রয়েছে।অবসরপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্টার মো. ফজলার রহমান বলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের রাধাবল্লভ এলাকায় আমার ব্যক্তিমালিকানাধীন ৬ একর জমির উপর একটি মাছের প্রকল্প রয়েছে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি সেলিম ভূঁইয়া ও তার ভাই আজিম ভূঁইয়াসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি সন্ত্রাসী দল প্রবেশ করে প্রকল্পে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতিসহ ঘেরে থাকা বাগদা, গলদা ও রুইসহ প্রায় দুই লাখ টাকার মাছ লুটে নেয়। এছাড়া গত ১০ মার্চ আমার ঘেরে থাকা ছাগল লুট করে নিয়ে যায় সেলিম ও আজিমসহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী। তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনায় বাগেরহাট মডেল থানায় আমি দুটি মামলা করলেও কোনো প্রতিকার পাইনি।

বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, একটি আবাসিক হোটেলের মালিককে অপহরণ করে নির্যাতন ও চাঁদাবাজির মামলায় প্রধান আসামি আজিম ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এছাড়া গ্রেপ্তার আজিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মৎস্য ঘের দখল, অপহরণসহ চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে।