Dhaka , Sunday, 1 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না          —–ডা. শফিকুর রহমান জায়গার সংকট, আগাছা-জঙ্গলে বেহাল বাগেরহাটের বড় কবরস্থান, দাফনেও ভোগান্তি বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা ৩০ অক্টোবর থেকে দুবলার চরে শুঁটকি উৎসব, জীবিকার সন্ধানে সাগরে নামছেন হাজারো জেলে বাগেরহাটে নাগরিক ফোরামের ত্রৈমাসিক সভা ও কার্যক্রম মূল্যায়নর কর্মশালা অনুষ্ঠিত  ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ, বাগেরহাটে কাটাখালীতে পথসভা পল্টন ট্র্যাজেডিতে শহীদদের স্মরণে বাগেরহাটে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল বাগেরহাটে বাংলালিংক কর্মীকে কুপিয়ে লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বাগেরহাটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ

সরকারি খাল দখলমুক্তের দাবিতে বাগেরহাটে তিন দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি শুরু

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 04:35:32 pm, Sunday, 26 July 2026
  • 166 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি।

বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন সরকারি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তিন দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে এলাকাবাসী ও সামাজিক সংগঠন অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাট। রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কর্মসূচির প্রথম দিনের অবস্থান পালন করা হয়।আন্দোলনকারীরা জানান, জেলার অধিকাংশ সরকারি খাল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর অবৈধ দখলে রয়েছে। খালগুলোতে বাঁধ ও পাটা বসিয়ে মাছ চাষ করায় স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, কৃষিজমিতে সময়মতো পানি না পৌঁছানো, নৌযান ও স্থানীয় চলাচলে বিঘ্ন, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়াসহ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
কর্মসূচি থেকে প্রধান মন্ত্রীর তারেক রহমানের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে জেলার সরকারি খালগুলো জরুরি ভিত্তিতে দখলমুক্ত করা, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, খালের সীমানা সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে পুনরায় দখল রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, সাতফুলের খাল, ইমামবাড়ী খাল, খুন্তাকাটা খাল, মান্দারতলা খাল, রাম বাবুর খাল, বাদুখালীর খাল, পদ্মবিল-আমতলা খাল, হোজির খালসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি খাল দ্রুত দখলমুক্ত করতে হবে।
অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাটের প্রতিনিধি শেখ ইমরান বলেন,বাগেরহাটের সব প্রবাহমান খাল জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একসময় এসব খাল থেকে মাছ ধরে বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করত। এখন প্রভাবশালীরা বাঁধ ও পাটা দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণ করে মাছ চাষ করছে। কৃষকের প্রয়োজনের সময় পানি আটকে রাখা হয়, আবার প্রয়োজন না থাকলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ভয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারছেন না।আন্দোলনে অংশ নেওয়া বমাফুজ মাঝি বলেন,শুধু বাগেরহাট সদর নয়, রামপালেও একই চিত্র। ইয়াসিন খাল, ঝনঝনিয়ার খালসহ বিভিন্ন সরকারি খাল প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই সব সরকারি খাল দ্রুত দখলমুক্ত করতে হবে।
পশ্চিম ডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা শেখ মারুফ বলেন, মান্দারতলা খালসহ আমাদের এলাকার অধিকাংশ খাল দীর্ঘদিন ধরে দখলে রয়েছে। খালগুলো উন্মুক্ত না থাকায় চিংড়ি চাষ ও কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা বহুবার মানববন্ধন, আবেদন ও স্মারকলিপি দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। দ্রুত খালগুলো জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানাই।
স্থানীয় বাসিন্দা মোশারেফ বলেন,দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময়ে সরকারি খাল দখল করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ এসবের প্রতিবাদ করতে পারে না। আমরা চাই সব সরকারি খাল দখলমুক্ত হোক এবং জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।এ বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, সরকারি খাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখলে থাকার সুযোগ নেই। খাল দখলের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ বা সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি খাল জনগণের স্বার্থে সংরক্ষণ এবং স্বাভাবিক জলপ্রবাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন,সরকারি খাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না। খাল দখলের কারণে কৃষি, পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারি খালগুলো দ্রুত দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক জলপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আমি কাজ করব। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সরকারি খাল দখলমুক্তের দাবিতে বাগেরহাটে তিন দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি শুরু

আপডেট টাইম : 04:35:32 pm, Sunday, 26 July 2026

বাগেরহাট প্রতিনিধি।

বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন সরকারি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তিন দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে এলাকাবাসী ও সামাজিক সংগঠন অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাট। রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কর্মসূচির প্রথম দিনের অবস্থান পালন করা হয়।আন্দোলনকারীরা জানান, জেলার অধিকাংশ সরকারি খাল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর অবৈধ দখলে রয়েছে। খালগুলোতে বাঁধ ও পাটা বসিয়ে মাছ চাষ করায় স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, কৃষিজমিতে সময়মতো পানি না পৌঁছানো, নৌযান ও স্থানীয় চলাচলে বিঘ্ন, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়াসহ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
কর্মসূচি থেকে প্রধান মন্ত্রীর তারেক রহমানের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে জেলার সরকারি খালগুলো জরুরি ভিত্তিতে দখলমুক্ত করা, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, খালের সীমানা সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে পুনরায় দখল রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, সাতফুলের খাল, ইমামবাড়ী খাল, খুন্তাকাটা খাল, মান্দারতলা খাল, রাম বাবুর খাল, বাদুখালীর খাল, পদ্মবিল-আমতলা খাল, হোজির খালসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি খাল দ্রুত দখলমুক্ত করতে হবে।
অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাটের প্রতিনিধি শেখ ইমরান বলেন,বাগেরহাটের সব প্রবাহমান খাল জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একসময় এসব খাল থেকে মাছ ধরে বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করত। এখন প্রভাবশালীরা বাঁধ ও পাটা দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণ করে মাছ চাষ করছে। কৃষকের প্রয়োজনের সময় পানি আটকে রাখা হয়, আবার প্রয়োজন না থাকলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ভয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারছেন না।আন্দোলনে অংশ নেওয়া বমাফুজ মাঝি বলেন,শুধু বাগেরহাট সদর নয়, রামপালেও একই চিত্র। ইয়াসিন খাল, ঝনঝনিয়ার খালসহ বিভিন্ন সরকারি খাল প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই সব সরকারি খাল দ্রুত দখলমুক্ত করতে হবে।
পশ্চিম ডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা শেখ মারুফ বলেন, মান্দারতলা খালসহ আমাদের এলাকার অধিকাংশ খাল দীর্ঘদিন ধরে দখলে রয়েছে। খালগুলো উন্মুক্ত না থাকায় চিংড়ি চাষ ও কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা বহুবার মানববন্ধন, আবেদন ও স্মারকলিপি দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। দ্রুত খালগুলো জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানাই।
স্থানীয় বাসিন্দা মোশারেফ বলেন,দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময়ে সরকারি খাল দখল করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ এসবের প্রতিবাদ করতে পারে না। আমরা চাই সব সরকারি খাল দখলমুক্ত হোক এবং জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।এ বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, সরকারি খাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখলে থাকার সুযোগ নেই। খাল দখলের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ বা সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি খাল জনগণের স্বার্থে সংরক্ষণ এবং স্বাভাবিক জলপ্রবাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন,সরকারি খাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না। খাল দখলের কারণে কৃষি, পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারি খালগুলো দ্রুত দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক জলপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আমি কাজ করব। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।