Dhaka , Sunday, 1 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না          —–ডা. শফিকুর রহমান জায়গার সংকট, আগাছা-জঙ্গলে বেহাল বাগেরহাটের বড় কবরস্থান, দাফনেও ভোগান্তি বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা ৩০ অক্টোবর থেকে দুবলার চরে শুঁটকি উৎসব, জীবিকার সন্ধানে সাগরে নামছেন হাজারো জেলে বাগেরহাটে নাগরিক ফোরামের ত্রৈমাসিক সভা ও কার্যক্রম মূল্যায়নর কর্মশালা অনুষ্ঠিত  ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ, বাগেরহাটে কাটাখালীতে পথসভা পল্টন ট্র্যাজেডিতে শহীদদের স্মরণে বাগেরহাটে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল বাগেরহাটে বাংলালিংক কর্মীকে কুপিয়ে লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বাগেরহাটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ
ভোগান্তিতে নানা পেশার মানুষ

১৮ ঘণ্টাই বন্ধ থাকে মোংলার একমাত্র ফেরিঘাট, ভোগান্তিতে নানা পেশার মানুষ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 03:53:17 pm, Sunday, 21 January 2024
  • 391 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
নাব্যতা সংকটে বাগেরহাটের মোংলা নদীর একমাত্র ফেরিঘাট দিনরাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টাই বন্ধ হয়ে পড়ে থাকছে। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন গুরুতর অসুস্থ রোগী ও ব্যবসায়ীসহ ভুক্তভোগী নানা পেশার মানুষ। দিনে-রাতে দুইবার জোয়ারের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে এ্যাম্বুলেন্স, পণ্যবাহী ট্রাক, পিক আপ, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন চালকদের।বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মোংলা উপজেলাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ২০০২ সালে মোংলা নদী পারাপারে একটি ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেয়। প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মোংলা নদীর দক্ষিণ (পুরোনো মোংলা) ও উত্তর (বাস স্ট্যান্ড) পাড়ে দুটি ফেরিঘাট নির্মাণ শেষে ২০০৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি সার্ভিসটি চালু করা হয়। এ ফেরি সার্ভিসটি চালু হওয়ায় নদী পার হয়ে বিভিন্ন যানবাহন মোংলা শহরসহ আশপাশের এলাকায় প্রবেশের সুযোগ পায়।ভোগান্তি কমতে থাকে দ্রæত পচনশীল মাছ ও কাঁচা মালসহ অন্যান্য পণ্য পরিবহনের। এতে করে ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনে অধিক সময় ও অর্থ ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি জরুরিভাবে রোগীসহ অন্যান্য প্রয়োজনে খেয়ায় নদী পার হওয়ার ঝুঁকি ও দুর্ভোগ কমতে থাকে। ফেরি সার্ভিসটি মোংলা নদী পারাপারে দ্রæতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।ফেরি সার্ভিসটি চালুর ৫-৬ বছর যেতে না যেতেই নদীতে অব্যাহতভাবে চর পড়তে থাকায় এর স্বাভাবিক চলাচল দারুণভাবে ব্যাহত হতে থাকে। বর্তমানে অবস্থা আরও ভয়াবহ।ফেরির মাস্টার (চালক) সোহরাব হোসেন বলেন, বর্তমানে নদীর দক্ষিণ পাড়ের (পুরোনো মোংলা) প্রায় মাঝ খান পর্যন্ত এলাকায় ভাটার সময় চর জেগে উঠছে। আর এ কারণে দিনে রাতে ২৪ ঘণ্টার ১৭-১৮ ঘণ্টাই পানির অভাবে ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখতে হচ্ছে।সোহরাব আরও বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ফেরি ঘাটের পন্টুন ও বেইলি ব্রিজ কয়েক দফায় নদীর দিকে ৩০০ ফুট বাড়ালেও অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। কয়েক দিনের মধ্যেই বর্ধিত অংশে নতুন করে চর জেগে উঠছে। বিশেষ করে শীতকালে এ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।গতকাল সকাল ১০টায় মোংলা ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে ৩০ টিরও বেশি গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। ফেরিটি ঘাটের সামনে জেগে ওঠা চরে আটকে আছে।ইউনিভার্সেল ফুডসের পণ্য সরবরাহকারী পাবনা থেকে আগত আলমগীর হোসেন বলেন,গত ০১ দিন পূর্বে রাতে ফেরিটি চালু হওয়ার পর আমরা পণ্যবাহী ট্রাকটি নিয়ে মোংলা শহরে প্রবেশ করি। পণ্য বিতরণ করে আজ ভোর থেকে এখানে বসে আছি। ফেরির চালক জানিয়েছেন, সন্ধ্যায় জোয়ার আসলে ফেরি ছাড়া যাবে। কখন পাবনা পৌঁছাব জানি না। খুবই ভোগান্তির ব্যাপার। মোংলা বন্দর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ইমান হোসেন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গুরুতর অসুস্থ রোগীর চিকিৎসা সম্ভব না হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা নিয়ে যেতে হয়। ভাটির সময় ফেরি সার্ভিস না চলায় গুরুতর অসুস্থ ও মুমূর্ষু রোগীসহ তাদের স্বজনদের নদী পার হতে না পেরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে জোয়ারের অপেক্ষা করতে হয়। এ অবস্থায় ভুক্তভোগীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহায়।মোংলা উপজেলা মৎস্য আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি ওলিয়ার রহমান বলেন, দ্রæত পচনশীল ও জরুরি পণ্য নিয়ে সময়মতো ফেরি পার হতে না পারায় তা অনেক ক্ষেত্রেই নষ্ট হয়ে পড়ছে। আমাদের বসে থাকতে হয় কখন নদীতে জোয়ার আসবে। শুধু জোয়ার আসলেই হবে না। জোয়ারে পুরো নদী না ভরা পর্যন্ত ফেরি চলাচলের উপযোগী হয় না। এতে করে আমরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম স¤পাদক ও মোংলা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুর আলম শেখ বলেন, যাত্রী পারাপারে বিকল্প হিসাবে খেয়া নৌকা থাকলেও পণ্য পরিবহনে মোংলার ব্যবসায়ীদের ফেরি ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। দিনে রাতে মাত্র ৬-৭ ঘণ্টা ফেরি চালু থাকার কারণে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের মালামাল পরিবহনেও ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। বিআইডবিøউটিসির নিয়মিত নদীর খনন অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলে যদি এ সমস্যার কোনো সমাধান হয়। তিনি আরও বলেন, এ নদীর ওপর সেতু নির্মাণই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ভোগান্তিতে নানা পেশার মানুষ

১৮ ঘণ্টাই বন্ধ থাকে মোংলার একমাত্র ফেরিঘাট, ভোগান্তিতে নানা পেশার মানুষ

আপডেট টাইম : 03:53:17 pm, Sunday, 21 January 2024

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
নাব্যতা সংকটে বাগেরহাটের মোংলা নদীর একমাত্র ফেরিঘাট দিনরাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টাই বন্ধ হয়ে পড়ে থাকছে। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন গুরুতর অসুস্থ রোগী ও ব্যবসায়ীসহ ভুক্তভোগী নানা পেশার মানুষ। দিনে-রাতে দুইবার জোয়ারের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে এ্যাম্বুলেন্স, পণ্যবাহী ট্রাক, পিক আপ, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন চালকদের।বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মোংলা উপজেলাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ২০০২ সালে মোংলা নদী পারাপারে একটি ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেয়। প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মোংলা নদীর দক্ষিণ (পুরোনো মোংলা) ও উত্তর (বাস স্ট্যান্ড) পাড়ে দুটি ফেরিঘাট নির্মাণ শেষে ২০০৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি সার্ভিসটি চালু করা হয়। এ ফেরি সার্ভিসটি চালু হওয়ায় নদী পার হয়ে বিভিন্ন যানবাহন মোংলা শহরসহ আশপাশের এলাকায় প্রবেশের সুযোগ পায়।ভোগান্তি কমতে থাকে দ্রæত পচনশীল মাছ ও কাঁচা মালসহ অন্যান্য পণ্য পরিবহনের। এতে করে ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনে অধিক সময় ও অর্থ ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি জরুরিভাবে রোগীসহ অন্যান্য প্রয়োজনে খেয়ায় নদী পার হওয়ার ঝুঁকি ও দুর্ভোগ কমতে থাকে। ফেরি সার্ভিসটি মোংলা নদী পারাপারে দ্রæতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।ফেরি সার্ভিসটি চালুর ৫-৬ বছর যেতে না যেতেই নদীতে অব্যাহতভাবে চর পড়তে থাকায় এর স্বাভাবিক চলাচল দারুণভাবে ব্যাহত হতে থাকে। বর্তমানে অবস্থা আরও ভয়াবহ।ফেরির মাস্টার (চালক) সোহরাব হোসেন বলেন, বর্তমানে নদীর দক্ষিণ পাড়ের (পুরোনো মোংলা) প্রায় মাঝ খান পর্যন্ত এলাকায় ভাটার সময় চর জেগে উঠছে। আর এ কারণে দিনে রাতে ২৪ ঘণ্টার ১৭-১৮ ঘণ্টাই পানির অভাবে ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখতে হচ্ছে।সোহরাব আরও বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ফেরি ঘাটের পন্টুন ও বেইলি ব্রিজ কয়েক দফায় নদীর দিকে ৩০০ ফুট বাড়ালেও অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। কয়েক দিনের মধ্যেই বর্ধিত অংশে নতুন করে চর জেগে উঠছে। বিশেষ করে শীতকালে এ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।গতকাল সকাল ১০টায় মোংলা ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে ৩০ টিরও বেশি গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। ফেরিটি ঘাটের সামনে জেগে ওঠা চরে আটকে আছে।ইউনিভার্সেল ফুডসের পণ্য সরবরাহকারী পাবনা থেকে আগত আলমগীর হোসেন বলেন,গত ০১ দিন পূর্বে রাতে ফেরিটি চালু হওয়ার পর আমরা পণ্যবাহী ট্রাকটি নিয়ে মোংলা শহরে প্রবেশ করি। পণ্য বিতরণ করে আজ ভোর থেকে এখানে বসে আছি। ফেরির চালক জানিয়েছেন, সন্ধ্যায় জোয়ার আসলে ফেরি ছাড়া যাবে। কখন পাবনা পৌঁছাব জানি না। খুবই ভোগান্তির ব্যাপার। মোংলা বন্দর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ইমান হোসেন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গুরুতর অসুস্থ রোগীর চিকিৎসা সম্ভব না হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা নিয়ে যেতে হয়। ভাটির সময় ফেরি সার্ভিস না চলায় গুরুতর অসুস্থ ও মুমূর্ষু রোগীসহ তাদের স্বজনদের নদী পার হতে না পেরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে জোয়ারের অপেক্ষা করতে হয়। এ অবস্থায় ভুক্তভোগীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহায়।মোংলা উপজেলা মৎস্য আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি ওলিয়ার রহমান বলেন, দ্রæত পচনশীল ও জরুরি পণ্য নিয়ে সময়মতো ফেরি পার হতে না পারায় তা অনেক ক্ষেত্রেই নষ্ট হয়ে পড়ছে। আমাদের বসে থাকতে হয় কখন নদীতে জোয়ার আসবে। শুধু জোয়ার আসলেই হবে না। জোয়ারে পুরো নদী না ভরা পর্যন্ত ফেরি চলাচলের উপযোগী হয় না। এতে করে আমরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম স¤পাদক ও মোংলা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুর আলম শেখ বলেন, যাত্রী পারাপারে বিকল্প হিসাবে খেয়া নৌকা থাকলেও পণ্য পরিবহনে মোংলার ব্যবসায়ীদের ফেরি ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। দিনে রাতে মাত্র ৬-৭ ঘণ্টা ফেরি চালু থাকার কারণে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের মালামাল পরিবহনেও ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। বিআইডবিøউটিসির নিয়মিত নদীর খনন অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলে যদি এ সমস্যার কোনো সমাধান হয়। তিনি আরও বলেন, এ নদীর ওপর সেতু নির্মাণই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান।