Dhaka , Tuesday, 3 November 2026
শিরোনাম :
জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দায়িত্ব পেলেন বাগেরহাটের সৈয়দ মোরশেদ আনোয়ার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে বাগেরহাটে যুবদলের প্রস্তুতি সভা বাগেরহাটে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে চেক বিতরণ বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সড়ক মন্ত্রীর এসি প্রদান বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না          —–ডা. শফিকুর রহমান জায়গার সংকট, আগাছা-জঙ্গলে বেহাল বাগেরহাটের বড় কবরস্থান, দাফনেও ভোগান্তি বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা ৩০ অক্টোবর থেকে দুবলার চরে শুঁটকি উৎসব, জীবিকার সন্ধানে সাগরে নামছেন হাজারো জেলে

বাগেরহাটে কুমিরের সাথে তপুর বন্ধুত্ব, ভিডিও ভাইরাল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 02:34:40 pm, Wednesday, 9 July 2025
  • 90 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি
কুমির দেখলে যেখানে মানুষ দৌড়ে পালায়, সেখানে কিনা কুমিরের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন বাগেরহাটের মেহেদী হাসান তপু নামের এক যুবক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুমিরের সাথে তপুর খুনসুটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা সকলের নজরে আসে। মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি। বলছিলাম বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (র:) মাজারের দিঘিতে থাকা কুমিরের সম্পর্কে। মাজারের দিঘীর পাশেই বসবাস করে তপু নামের এক যুবক নিয়মিত কুমিরের খোঁজখবর নেয়, ডাকে, খাবার খাওয়ায় এবং কুমিরও তার ডাকে সাড়া দেয়।ভিডিওতে দেখা যায়, পানিতে থাকা ধলা পাহাড় নামের কুমিরটি কে শান্তভাবে হাত দিয়ে স্পর্শ করছেন। কুমিরটিকে থামতে এবং চলতে আদেশ করছেন। কুমিরটিও তপুর কথা মতো চলছে, থামছে এবং এগিয়ে যাচ্ছে। মাথা উঁচু করছে, মুরগি খাচ্ছে, উপরে উঠতে বললে উঠছে। তবে অনেকে তার এ কাজের প্রশংসা করেছে। আবার কেউ কেউ খুবই বিপদজ্জনক বলে সমালোচনা করেছেন।স্থানীয়রা জানান ,তপু ছোটবেলা থেকেই মাজার এলাকায় বড় হয়েছে। তার কুমিরের প্রতি একটা আলাদা টান রয়েছে। প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে সে মাজারে গিয়ে ধলাপাহাড় নামে পরিচিত কুমিরদের ডাক দেয়। তপুর ডাক শুনলেই কুমিরগুলো পানির উপর ভেসে উঠে, এমনকি তপুর হাতে খাবার খেতেও এগিয়ে আসে। এভাবেই এই কুমিরের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে গড়ে তুলেছেন তপু।স্থানীয় বাসিন্দা রহিম উদ্দিন বলেন, ছোটবেলা থেকে দিঘির কুমির দেখে আসছি। আমরা কখনো ভাবিনি কেউ এত কাছ থেকে কুমিরের সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে। তপুর সাহস আর মমতা দেখে মুগ্ধ আমরা সবাই মুগ্ধ হয়ে গেছি ওর কথা শুনে চলে এই ধলা পাহাড় কুমির।তুষার ফকির বলেন, মেহেদী হাসান তপু ভাই যে সাহসিকতা ও ভালোবাসা দেখাচ্ছে, তা আমাদের গর্বিত করছে। কুমিরের মতো হিংস্র প্রাণীর সঙ্গে এমন বন্ধুত্ব সত্যিই আসলে দেখা যায় না। আমার মাজারের পাশে বাড়ি কিন্তু আমি কখনো এতো সাহস করে কাছে গিয়ে খাবার দিতে পারি নাই। কাছে গেলে মনে হয় কখন জানি কামড়ে ধরে মনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে।খুলনা থেকে আসা খোকন খন্দকার বলেন, আমি ইন্টারনেটে ভিডিওটি দেখে কৌতূহল নিয়ে আসলাম। নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। এটা শুধু একটা ভিডিও না, বরং প্রাণীর সাথে এতো টা বন্ধুত্বের সম্পর্ক হতে পারে। আসলে না আসলে বুঝতে পারতাম না।মেহেদী হাসান তপু বলেন, আমি ছোট বেলা থেকেই খান জাহান আলী মাজারের কুমির দেখাশোনা করে আসছি। সেই থেকেই কুমিরের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।কুমির টি অনেক বার এই দিঘীর বাইরে চলে গেছে আমি আর আমার ছোট মামা ধরে এনে আবার দিঘীতে ছেড়ে দিয়েছি। প্রতিদিন বিকাল হলে ধলা পাহাড় মাজারের ঘাটে চলে আসে। দেখতে মানুষের ভিড় করে। আমি এই ধলা পাহাড় কুমিরের সাথে খেলা করি কখনো কখনো চুমু খাই সে আবার আমার কথা শুনে মাদার কুমির।আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি মাদি কুমিরকে বলা হয় ধলা পাহাড় আর পুরুষ কুমির কে বলা হয় কালা পাহাড়।ও হচ্ছে মাদি কুমির ওকে আমরা ধলা পাহাড় বলে ডাকি ডাকলেই চলে আসে। প্রতি দিন এই মাজারের হাজার হাজার মানুষের ঢল দেখা যায়। কেউ মাজারে এসে মনের আশা পূরণের জন্য মানদ করে । কেউ কেউ আবার কুমির কে মুরগি খাওয়ানোর জন্য মুরগি নিয়ে আসে। আমি ধলা পাহাড় কে নিজের বন্ধু ভাবি। অনেক সময় ওরা আমাকে চিনে আসে, এটা দেখে ভালো লাগে।খান জানান আলী মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম বলেন, তপুর মতো একজন যুবক কুমিরের সঙ্গে এমন বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছে, এটা সত্যিই অবাক করার মতো। তপু তার নিয়মিত খাওয়ায়, কুমিরের সাথে খেলা করে, ওর ডাকে ছুটে চলে আসে, ছোট বেলা থেকেই তপুর কুমির প্রতি টান রয়েছে।আর যখন এই ধলা পাহাড় নামের কুমির টিকে দিঘীতে ছাড়া হয়েছিল এইটা ইন্ডিয়া থেকে ২০০৫ সালে ছয়টি কুমির আনা হয়েছিল তার একটি অবশিষ্ট । আর কালা পাহাড় ২০২৩ সালে মারা যায়।তখন থেকেই ওর সাথে কেমন জানি বন্ধু হয়ে গেছে তপুর।এই বন্ধুত্বের দেখে অনেক পর্যটক এখন দিঘির পাশে ভিড় করে। অনেকে বলছে, কুমিরের মতো হিংস্র প্রাণীর সঙ্গে মানুষের এমন সম্পর্ক সত্যিই দেখা যায় না।এখন সবাই বলে মানুষ আর কুমিরের মাঝেও বন্ধুত্ব হতে পারে, তার প্রমাণ তপু।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দায়িত্ব পেলেন বাগেরহাটের সৈয়দ মোরশেদ আনোয়ার

বাগেরহাটে কুমিরের সাথে তপুর বন্ধুত্ব, ভিডিও ভাইরাল

আপডেট টাইম : 02:34:40 pm, Wednesday, 9 July 2025

বাগেরহাট প্রতিনিধি
কুমির দেখলে যেখানে মানুষ দৌড়ে পালায়, সেখানে কিনা কুমিরের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন বাগেরহাটের মেহেদী হাসান তপু নামের এক যুবক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুমিরের সাথে তপুর খুনসুটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা সকলের নজরে আসে। মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি। বলছিলাম বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (র:) মাজারের দিঘিতে থাকা কুমিরের সম্পর্কে। মাজারের দিঘীর পাশেই বসবাস করে তপু নামের এক যুবক নিয়মিত কুমিরের খোঁজখবর নেয়, ডাকে, খাবার খাওয়ায় এবং কুমিরও তার ডাকে সাড়া দেয়।ভিডিওতে দেখা যায়, পানিতে থাকা ধলা পাহাড় নামের কুমিরটি কে শান্তভাবে হাত দিয়ে স্পর্শ করছেন। কুমিরটিকে থামতে এবং চলতে আদেশ করছেন। কুমিরটিও তপুর কথা মতো চলছে, থামছে এবং এগিয়ে যাচ্ছে। মাথা উঁচু করছে, মুরগি খাচ্ছে, উপরে উঠতে বললে উঠছে। তবে অনেকে তার এ কাজের প্রশংসা করেছে। আবার কেউ কেউ খুবই বিপদজ্জনক বলে সমালোচনা করেছেন।স্থানীয়রা জানান ,তপু ছোটবেলা থেকেই মাজার এলাকায় বড় হয়েছে। তার কুমিরের প্রতি একটা আলাদা টান রয়েছে। প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে সে মাজারে গিয়ে ধলাপাহাড় নামে পরিচিত কুমিরদের ডাক দেয়। তপুর ডাক শুনলেই কুমিরগুলো পানির উপর ভেসে উঠে, এমনকি তপুর হাতে খাবার খেতেও এগিয়ে আসে। এভাবেই এই কুমিরের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে গড়ে তুলেছেন তপু।স্থানীয় বাসিন্দা রহিম উদ্দিন বলেন, ছোটবেলা থেকে দিঘির কুমির দেখে আসছি। আমরা কখনো ভাবিনি কেউ এত কাছ থেকে কুমিরের সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে। তপুর সাহস আর মমতা দেখে মুগ্ধ আমরা সবাই মুগ্ধ হয়ে গেছি ওর কথা শুনে চলে এই ধলা পাহাড় কুমির।তুষার ফকির বলেন, মেহেদী হাসান তপু ভাই যে সাহসিকতা ও ভালোবাসা দেখাচ্ছে, তা আমাদের গর্বিত করছে। কুমিরের মতো হিংস্র প্রাণীর সঙ্গে এমন বন্ধুত্ব সত্যিই আসলে দেখা যায় না। আমার মাজারের পাশে বাড়ি কিন্তু আমি কখনো এতো সাহস করে কাছে গিয়ে খাবার দিতে পারি নাই। কাছে গেলে মনে হয় কখন জানি কামড়ে ধরে মনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে।খুলনা থেকে আসা খোকন খন্দকার বলেন, আমি ইন্টারনেটে ভিডিওটি দেখে কৌতূহল নিয়ে আসলাম। নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। এটা শুধু একটা ভিডিও না, বরং প্রাণীর সাথে এতো টা বন্ধুত্বের সম্পর্ক হতে পারে। আসলে না আসলে বুঝতে পারতাম না।মেহেদী হাসান তপু বলেন, আমি ছোট বেলা থেকেই খান জাহান আলী মাজারের কুমির দেখাশোনা করে আসছি। সেই থেকেই কুমিরের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।কুমির টি অনেক বার এই দিঘীর বাইরে চলে গেছে আমি আর আমার ছোট মামা ধরে এনে আবার দিঘীতে ছেড়ে দিয়েছি। প্রতিদিন বিকাল হলে ধলা পাহাড় মাজারের ঘাটে চলে আসে। দেখতে মানুষের ভিড় করে। আমি এই ধলা পাহাড় কুমিরের সাথে খেলা করি কখনো কখনো চুমু খাই সে আবার আমার কথা শুনে মাদার কুমির।আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি মাদি কুমিরকে বলা হয় ধলা পাহাড় আর পুরুষ কুমির কে বলা হয় কালা পাহাড়।ও হচ্ছে মাদি কুমির ওকে আমরা ধলা পাহাড় বলে ডাকি ডাকলেই চলে আসে। প্রতি দিন এই মাজারের হাজার হাজার মানুষের ঢল দেখা যায়। কেউ মাজারে এসে মনের আশা পূরণের জন্য মানদ করে । কেউ কেউ আবার কুমির কে মুরগি খাওয়ানোর জন্য মুরগি নিয়ে আসে। আমি ধলা পাহাড় কে নিজের বন্ধু ভাবি। অনেক সময় ওরা আমাকে চিনে আসে, এটা দেখে ভালো লাগে।খান জানান আলী মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম বলেন, তপুর মতো একজন যুবক কুমিরের সঙ্গে এমন বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছে, এটা সত্যিই অবাক করার মতো। তপু তার নিয়মিত খাওয়ায়, কুমিরের সাথে খেলা করে, ওর ডাকে ছুটে চলে আসে, ছোট বেলা থেকেই তপুর কুমির প্রতি টান রয়েছে।আর যখন এই ধলা পাহাড় নামের কুমির টিকে দিঘীতে ছাড়া হয়েছিল এইটা ইন্ডিয়া থেকে ২০০৫ সালে ছয়টি কুমির আনা হয়েছিল তার একটি অবশিষ্ট । আর কালা পাহাড় ২০২৩ সালে মারা যায়।তখন থেকেই ওর সাথে কেমন জানি বন্ধু হয়ে গেছে তপুর।এই বন্ধুত্বের দেখে অনেক পর্যটক এখন দিঘির পাশে ভিড় করে। অনেকে বলছে, কুমিরের মতো হিংস্র প্রাণীর সঙ্গে মানুষের এমন সম্পর্ক সত্যিই দেখা যায় না।এখন সবাই বলে মানুষ আর কুমিরের মাঝেও বন্ধুত্ব হতে পারে, তার প্রমাণ তপু।