Dhaka , Sunday, 1 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না          —–ডা. শফিকুর রহমান জায়গার সংকট, আগাছা-জঙ্গলে বেহাল বাগেরহাটের বড় কবরস্থান, দাফনেও ভোগান্তি বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা ৩০ অক্টোবর থেকে দুবলার চরে শুঁটকি উৎসব, জীবিকার সন্ধানে সাগরে নামছেন হাজারো জেলে বাগেরহাটে নাগরিক ফোরামের ত্রৈমাসিক সভা ও কার্যক্রম মূল্যায়নর কর্মশালা অনুষ্ঠিত  ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ, বাগেরহাটে কাটাখালীতে পথসভা পল্টন ট্র্যাজেডিতে শহীদদের স্মরণে বাগেরহাটে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল বাগেরহাটে বাংলালিংক কর্মীকে কুপিয়ে লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বাগেরহাটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ

বাগেরহাটে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 06:47:20 pm, Thursday, 9 April 2026
  • 304 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আসাদুর রহমানের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে ১৯ মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অফিসের ভেতরে আলাদা কক্ষে রান্না-বান্না ও থাকার ব্যবস্থা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগে বিষয়টি নিয়ে খোদ পরিবেশ অধিদপ্তরের ভেতরেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাগেরহাট পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিসে ঝাড়ুদার (পরিচ্ছন্নতাকর্মী) হিসেবে কর্মরত নীলিমা সরকার নামে এক কর্মচারীর মাসিক ৫ হাজার টাকার বেতন দেখানো হলেও তাকে বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২ হাজার টাকা। বাকি অর্থ ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রায় ১০ বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘মাসুদ ইন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পুরোনো ভাউচার ব্যবহার করে ৪ হাজার ২০০ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে অফিসের জন্য টেবিলের গ্লাস ক্রয় না করেই ৩ হাজার টাকার ভাউচার দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আরও জানা গেছে, এক বছরে গাড়ির টায়ার পরিবর্তনের নামে একটি দোকান থেকে ৯ হাজার ৪০০ টাকার বিল দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে ওই খাতে কোনো ক্রয় হয়নি।অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ভাউচার সংগ্রহ করে নিজের ইচ্ছামতো বিল তৈরি করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন অভিযানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের আপ্যায়নের খরচ দেখিয়েও অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সরেজমিনে বাগেরহাট শহরের ভিআইপি মোড়ে অবস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের একটি কক্ষ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে রান্না, খাওয়া ও অবস্থানের ব্যবস্থা করেছেন উপ-পরিচালক আসাদুর রহমান। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর সাইদুর রহমান বলেন, তিনি নিজে কোনো বিল-ভাউচার সংগ্রহ করেন না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিল-ভাউচার সংগ্রহ করে তাকে লিখতে দেন এবং তিনি সেভাবেই তা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে জমা দেন।পরিবেশ অধিদপ্তরের গাড়িচালক আরিফুর রহমান বলেন, তিনি এখানে যোগদানের পর শুধুমাত্র একটি গাড়ির টায়ার পরিবর্তন করা হয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনো গাড়ির টায়ার পরিবর্তন করা হয়নি।পরিচ্ছন্নতাকর্মী নীলিমা সরকার বলেন, আমি এখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করি। আমাকে মাসে দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়। খাতা-কলমে পাঁচ হাজার টাকা দেখানো হলেও এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তিনি আরও জানান, তাকে মৌখিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি নিয়মিত দুই হাজার টাকাই পান।অভিযোগের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আসাদুর রহমান বলেন, অফিসে কোনো জিনিসপত্র কেনার জন্য তাৎক্ষণিক বরাদ্দ থাকে না। এজন্য ভাউচার করে কিছু টাকা আগে উত্তোলন করে রাখা হয়, পরে তা সমন্বয় করা হয়। তিনি দাবি করেন, অভিযানে গেলে পুলিশ সদস্যদের খাওয়া-দাওয়া, ফায়ার সার্ভিসকে সঙ্গে নিলে তাদের জ্বালানি খরচ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আগমনে আপ্যায়নসহ কিছু ‘হিডেন কস্ট’ থাকে, যা বিল করা যায় না। এসব খরচ মেটাতেই বিভিন্ন খাত থেকে সমন্বয় করে অর্থ উত্তোলন করা হয়। তিনি আরও বলেন, আমি তো আমার পকেট থেকে এই টাকা দেব না। এভাবেই আমাদের সমন্বয় করে চলতে হয়।এ বিষয়ে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, অগ্নিকাণ্ড বা যেকোনো দুর্ঘটনার খবর পেলে তারা ২৪ ঘণ্টা সেবা দিয়ে থাকেন এবং এর বিনিময়ে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করেন না। সব খরচ সরকার বহন করে।বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী বলেন, কোনো সরকারি দপ্তরের অভিযানে পুলিশের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অর্থ গ্রহণের কোনো বিধান নেই। অর্থ গ্রহণের প্রশ্নই আসে না।এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক খোন্দকার মো. ফজলুল হক বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বাগেরহাটে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট টাইম : 06:47:20 pm, Thursday, 9 April 2026

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আসাদুর রহমানের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে ১৯ মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অফিসের ভেতরে আলাদা কক্ষে রান্না-বান্না ও থাকার ব্যবস্থা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগে বিষয়টি নিয়ে খোদ পরিবেশ অধিদপ্তরের ভেতরেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাগেরহাট পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিসে ঝাড়ুদার (পরিচ্ছন্নতাকর্মী) হিসেবে কর্মরত নীলিমা সরকার নামে এক কর্মচারীর মাসিক ৫ হাজার টাকার বেতন দেখানো হলেও তাকে বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২ হাজার টাকা। বাকি অর্থ ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রায় ১০ বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘মাসুদ ইন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পুরোনো ভাউচার ব্যবহার করে ৪ হাজার ২০০ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে অফিসের জন্য টেবিলের গ্লাস ক্রয় না করেই ৩ হাজার টাকার ভাউচার দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আরও জানা গেছে, এক বছরে গাড়ির টায়ার পরিবর্তনের নামে একটি দোকান থেকে ৯ হাজার ৪০০ টাকার বিল দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে ওই খাতে কোনো ক্রয় হয়নি।অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ভাউচার সংগ্রহ করে নিজের ইচ্ছামতো বিল তৈরি করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন অভিযানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের আপ্যায়নের খরচ দেখিয়েও অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সরেজমিনে বাগেরহাট শহরের ভিআইপি মোড়ে অবস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের একটি কক্ষ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে রান্না, খাওয়া ও অবস্থানের ব্যবস্থা করেছেন উপ-পরিচালক আসাদুর রহমান। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর সাইদুর রহমান বলেন, তিনি নিজে কোনো বিল-ভাউচার সংগ্রহ করেন না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিল-ভাউচার সংগ্রহ করে তাকে লিখতে দেন এবং তিনি সেভাবেই তা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে জমা দেন।পরিবেশ অধিদপ্তরের গাড়িচালক আরিফুর রহমান বলেন, তিনি এখানে যোগদানের পর শুধুমাত্র একটি গাড়ির টায়ার পরিবর্তন করা হয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনো গাড়ির টায়ার পরিবর্তন করা হয়নি।পরিচ্ছন্নতাকর্মী নীলিমা সরকার বলেন, আমি এখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করি। আমাকে মাসে দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়। খাতা-কলমে পাঁচ হাজার টাকা দেখানো হলেও এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তিনি আরও জানান, তাকে মৌখিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি নিয়মিত দুই হাজার টাকাই পান।অভিযোগের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আসাদুর রহমান বলেন, অফিসে কোনো জিনিসপত্র কেনার জন্য তাৎক্ষণিক বরাদ্দ থাকে না। এজন্য ভাউচার করে কিছু টাকা আগে উত্তোলন করে রাখা হয়, পরে তা সমন্বয় করা হয়। তিনি দাবি করেন, অভিযানে গেলে পুলিশ সদস্যদের খাওয়া-দাওয়া, ফায়ার সার্ভিসকে সঙ্গে নিলে তাদের জ্বালানি খরচ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আগমনে আপ্যায়নসহ কিছু ‘হিডেন কস্ট’ থাকে, যা বিল করা যায় না। এসব খরচ মেটাতেই বিভিন্ন খাত থেকে সমন্বয় করে অর্থ উত্তোলন করা হয়। তিনি আরও বলেন, আমি তো আমার পকেট থেকে এই টাকা দেব না। এভাবেই আমাদের সমন্বয় করে চলতে হয়।এ বিষয়ে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, অগ্নিকাণ্ড বা যেকোনো দুর্ঘটনার খবর পেলে তারা ২৪ ঘণ্টা সেবা দিয়ে থাকেন এবং এর বিনিময়ে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করেন না। সব খরচ সরকার বহন করে।বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী বলেন, কোনো সরকারি দপ্তরের অভিযানে পুলিশের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অর্থ গ্রহণের কোনো বিধান নেই। অর্থ গ্রহণের প্রশ্নই আসে না।এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক খোন্দকার মো. ফজলুল হক বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।