Dhaka , Sunday, 1 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না          —–ডা. শফিকুর রহমান জায়গার সংকট, আগাছা-জঙ্গলে বেহাল বাগেরহাটের বড় কবরস্থান, দাফনেও ভোগান্তি বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা ৩০ অক্টোবর থেকে দুবলার চরে শুঁটকি উৎসব, জীবিকার সন্ধানে সাগরে নামছেন হাজারো জেলে বাগেরহাটে নাগরিক ফোরামের ত্রৈমাসিক সভা ও কার্যক্রম মূল্যায়নর কর্মশালা অনুষ্ঠিত  ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ, বাগেরহাটে কাটাখালীতে পথসভা পল্টন ট্র্যাজেডিতে শহীদদের স্মরণে বাগেরহাটে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল বাগেরহাটে বাংলালিংক কর্মীকে কুপিয়ে লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বাগেরহাটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ

দুই দিনে সুন্দরবনে ২১ জেলে অপহৃত, চার দিনেও সন্ধান মেলেনি, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 06:29:59 pm, Wednesday, 30 September 2026
  • 31 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি,

পূর্ব সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত ২১ জেলের চার দিনেও সন্ধান মেলেনি। তাঁরা কোথায় বা কী অবস্থায় রয়েছেন, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে অপহৃত জেলেদের পরিবার ও মহাজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া অন্য জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যেও দস্যু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে কোস্ট গার্ড। দস্যু ও জেলেদের অবস্থান শনাক্ত করতে সুন্দরবনের আকাশে ড্রোন উড়ানোর পাশাপাশি নৌপথে একাধিক দল চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে। জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার করেছে বন বিভাগও। কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহাবুব হোসেন বলেন, সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ড জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এর অংশ হিসেবে অপহৃত ২১ জেলেকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। দস্যুদের অবস্থান শনাক্তে ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি নৌপথে চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে।’ দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলেদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্র ও শনিবার রাতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের নারকেলবাড়িয়া, আমড়বাড়িয়া, ভদ্রা ও ভাঙ্গা এলাকায় জেলেদের ওপর হামলা চালায় বনদস্যুরা। পৃথক ঘটনায় তিনটি দস্যুদলের সদস্যরা ২১ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় একটি মাছ ধরার ট্রলার, পাঁচটি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়। এর মধ্যে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে সাগরসংলগ্ন ভাঙ্গা, আমড়বাড়িয়া ও নারকেলবাড়িয়া এলাকায় মাছ ধরারত জেলেদের বহরে হামলা চালায় অজ্ঞাতপরিচয় বনদস্যুরা। তারা বিভিন্ন নৌকা থেকে একজন করে মোট ১৫ জেলেকে তুলে একটি ট্রলারে নিয়ে যায়। এর আগে শুক্রবারও পৃথক ঘটনায় ছয় জেলেকে অপহরণ করা হয়। সব মিলিয়ে দুই দিনে অপহৃত জেলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জনে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় বলেন, শনিবার দিবাগত রাতে সাগরসংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরারত জেলেদের বহরে হামলা চালিয়ে ১৫ জনকে অপহরণ করে দস্যুরা। অপহৃতদের মধ্যে ১০ জনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন—আরিফ (২৫), সগীর (৩৪), মিঠু (৩০), ফেরদাউস (২৮), ইব্রাহিম (৩৫), ইমরান (২৫), মোস্তাফিজুর (৩৫), আলামিন (২৮), হানিফ (৩৮) ও মারুফ (৪৯)। প্রথম চারজনের বাড়ি খুলনায় বলে জানা গেছে। শরণখোলা এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে ও মহাজন বলেন, দুই দিনে ২১ জেলে অপহরণের ঘটনায় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অপহৃতদের দ্রুত উদ্ধার ও বনদস্যুদের দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন তাঁরা। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, শুক্র ও শনিবার দুই দিনে ২১ জেলেকে বনদস্যুরা অপহরণ করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কোস্ট গার্ডকেও অবহিত করা হয়েছে। বনদস্যুদের বিরুদ্ধে বন বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে অবস্থানরত জেলেদের রাতে দলবদ্ধভাবে এবং বন কার্যালয়ের কাছাকাছি অবস্থান করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জেলেদের নিরাপত্তায় বন বিভাগের স্টেশন ও টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

দুই দিনে সুন্দরবনে ২১ জেলে অপহৃত, চার দিনেও সন্ধান মেলেনি, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা

আপডেট টাইম : 06:29:59 pm, Wednesday, 30 September 2026

বাগেরহাট প্রতিনিধি,

পূর্ব সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত ২১ জেলের চার দিনেও সন্ধান মেলেনি। তাঁরা কোথায় বা কী অবস্থায় রয়েছেন, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে অপহৃত জেলেদের পরিবার ও মহাজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া অন্য জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যেও দস্যু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে কোস্ট গার্ড। দস্যু ও জেলেদের অবস্থান শনাক্ত করতে সুন্দরবনের আকাশে ড্রোন উড়ানোর পাশাপাশি নৌপথে একাধিক দল চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে। জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার করেছে বন বিভাগও। কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহাবুব হোসেন বলেন, সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ড জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এর অংশ হিসেবে অপহৃত ২১ জেলেকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। দস্যুদের অবস্থান শনাক্তে ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি নৌপথে চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে।’ দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলেদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্র ও শনিবার রাতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের নারকেলবাড়িয়া, আমড়বাড়িয়া, ভদ্রা ও ভাঙ্গা এলাকায় জেলেদের ওপর হামলা চালায় বনদস্যুরা। পৃথক ঘটনায় তিনটি দস্যুদলের সদস্যরা ২১ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় একটি মাছ ধরার ট্রলার, পাঁচটি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়। এর মধ্যে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে সাগরসংলগ্ন ভাঙ্গা, আমড়বাড়িয়া ও নারকেলবাড়িয়া এলাকায় মাছ ধরারত জেলেদের বহরে হামলা চালায় অজ্ঞাতপরিচয় বনদস্যুরা। তারা বিভিন্ন নৌকা থেকে একজন করে মোট ১৫ জেলেকে তুলে একটি ট্রলারে নিয়ে যায়। এর আগে শুক্রবারও পৃথক ঘটনায় ছয় জেলেকে অপহরণ করা হয়। সব মিলিয়ে দুই দিনে অপহৃত জেলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জনে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় বলেন, শনিবার দিবাগত রাতে সাগরসংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরারত জেলেদের বহরে হামলা চালিয়ে ১৫ জনকে অপহরণ করে দস্যুরা। অপহৃতদের মধ্যে ১০ জনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন—আরিফ (২৫), সগীর (৩৪), মিঠু (৩০), ফেরদাউস (২৮), ইব্রাহিম (৩৫), ইমরান (২৫), মোস্তাফিজুর (৩৫), আলামিন (২৮), হানিফ (৩৮) ও মারুফ (৪৯)। প্রথম চারজনের বাড়ি খুলনায় বলে জানা গেছে। শরণখোলা এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে ও মহাজন বলেন, দুই দিনে ২১ জেলে অপহরণের ঘটনায় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অপহৃতদের দ্রুত উদ্ধার ও বনদস্যুদের দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন তাঁরা। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, শুক্র ও শনিবার দুই দিনে ২১ জেলেকে বনদস্যুরা অপহরণ করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কোস্ট গার্ডকেও অবহিত করা হয়েছে। বনদস্যুদের বিরুদ্ধে বন বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে অবস্থানরত জেলেদের রাতে দলবদ্ধভাবে এবং বন কার্যালয়ের কাছাকাছি অবস্থান করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জেলেদের নিরাপত্তায় বন বিভাগের স্টেশন ও টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।