Dhaka , Wednesday, 4 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে ঘেরের মাছ লুট, নিঃস্ব পরিবার ৫ নভেম্বর মোংলা বন্দরে ৪০৬৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী মায়ের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৩ লাখ টাকা, অনিশ্চয়তায় এক মাসের শিশুর ভবিষ্যৎ বাবার মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিলের চার বছর পরও কোটায় পাওয়া মেয়ের চাকরি বহাল থাকার অভিযোগ জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দায়িত্ব পেলেন বাগেরহাটের সৈয়দ মোরশেদ আনোয়ার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে বাগেরহাটে যুবদলের প্রস্তুতি সভা বাগেরহাটে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে চেক বিতরণ বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সড়ক মন্ত্রীর এসি প্রদান বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মায়ের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৩ লাখ টাকা, অনিশ্চয়তায় এক মাসের শিশুর ভবিষ্যৎ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 04:19:49 pm, Wednesday, 4 November 2026
  • 3 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি

জন্মের পর যে বয়সে মায়ের কোলে নিরাপদে বেড়ে ওঠার কথা কিন্তু সেই সময়েই মাকে হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে এক মাসের শিশু। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর থেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন ২০ বছর বয়সী টুকটুকি। চিকিৎসার জন্য জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। কিন্তু অর্থাভাবে থমকে আছে তার চিকিৎসা। মেয়েকে বাঁচাতে অসহায় বাবা আব্দুল কাইয়ুম হাওলাদার এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে সহযোগিতা চাইছেন। টুকটুকির বাড়ি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের ভরাঘাটা গ্রামে। তার বাবা পেশায় দিনমজুর। অভাবের সংসারে বিয়ে হলেও অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্বামী আজিজুল ইসলাম তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সন্তান জন্ম দেন টুকটুকি। কিন্তু প্রসবের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় টুকটুকির। পরে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার পেটে রক্ত জমাট বেঁধে শক্ত পিণ্ডের মতো তৈরি হওয়ার বিষয়টি জানান। এখনো রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়নি। চিকিৎসকেরা তার ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন। একদিকে নিজের শারীরিক যন্ত্রণা, অন্যদিকে মাত্র এক মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তা—দুই দিক থেকেই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি টুকটুকি। মেয়ের চিকিৎসার পেছনে ইতিমধ্যে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সব অর্থ ব্যয় করেছেন বাবা আব্দুল কাইয়ুম। ধারদেনা করেও চালিয়েছেন চিকিৎসা। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে এখন আর সামনে এগোতে পারছেন না।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, টুকটুকির জীবন বাঁচাতে দ্রুত অস্ত্রোপচার করানো প্রয়োজন। এ জন্য আনুমানিক দুই থেকে তিন লাখ টাকা লাগবে। দিনমজুর বাবার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে বাড়িতে শয্যাশায়ী অবস্থায় দিন কাটছে টুকটুকির। মেয়ের এমন পরিস্থিতিতে দিশেহারা আব্দুল কাইয়ুম। একদিকে অসুস্থ মেয়ের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা, অন্যদিকে মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় থাকা নাতনির ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে পুরো পরিবারে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা।স্থানীয় বাসিন্দা বাপ্পা বলেন,টুকটুকির বয়স খুবই কম তার কোলের শিশুটির বয়স মাত্র এক মাস। এই বয়সে শিশুটির মায়ের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কিন্তু অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না। আমরা চাই, সমাজের বিত্তবান মানুষ ও মানবিক সংগঠনগুলো এগিয়ে আসুক। সবার সহযোগিতায় টুকটুকি সুস্থ হয়ে আবার তার সন্তানের কাছে ফিরে আসুক। একজন মা ও তার শিশুর মুখের দিকে তাকিয়ে সবাইকে পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। টুকটুকির চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন মানবিক সংগঠন এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত হৃদয়বান মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য বিপু আহম্মেদ। সম্মিলিত উদ্যোগে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা গেলে টুকটুকির অস্ত্রোপচার করানো সম্ভব হবে।

ইউপি সদস্য বিপু আহম্মেদ বলেন, অর্থের অভাবে ২০ বছর বয়সী একজন তরুণীর জীবন যেন অকালে শেষ হয়ে না যায়। মাত্র এক মাসের শিশুটি যেন মায়ের স্নেহ ও ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত না হয়। সবার সামান্য সহযোগিতায় হয়তো টুকটুকির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। মোরেলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন,নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করা হলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। টুকটুকির পরিবারের এখন একটাই চাওয়া—অর্থের অভাবে যেন তার চিকিৎসা বন্ধ না থাকে। মায়ের কোলে সন্তানটি যেন ফিরে পায় তার নিরাপদ আশ্রয়। এ জন্য প্রয়োজন সবার সম্মিলিত মানবিক সহযোগিতা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে ঘেরের মাছ লুট, নিঃস্ব পরিবার

মায়ের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৩ লাখ টাকা, অনিশ্চয়তায় এক মাসের শিশুর ভবিষ্যৎ

আপডেট টাইম : 04:19:49 pm, Wednesday, 4 November 2026

বাগেরহাট প্রতিনিধি

জন্মের পর যে বয়সে মায়ের কোলে নিরাপদে বেড়ে ওঠার কথা কিন্তু সেই সময়েই মাকে হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে এক মাসের শিশু। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর থেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন ২০ বছর বয়সী টুকটুকি। চিকিৎসার জন্য জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। কিন্তু অর্থাভাবে থমকে আছে তার চিকিৎসা। মেয়েকে বাঁচাতে অসহায় বাবা আব্দুল কাইয়ুম হাওলাদার এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে সহযোগিতা চাইছেন। টুকটুকির বাড়ি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের ভরাঘাটা গ্রামে। তার বাবা পেশায় দিনমজুর। অভাবের সংসারে বিয়ে হলেও অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্বামী আজিজুল ইসলাম তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সন্তান জন্ম দেন টুকটুকি। কিন্তু প্রসবের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় টুকটুকির। পরে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার পেটে রক্ত জমাট বেঁধে শক্ত পিণ্ডের মতো তৈরি হওয়ার বিষয়টি জানান। এখনো রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়নি। চিকিৎসকেরা তার ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন। একদিকে নিজের শারীরিক যন্ত্রণা, অন্যদিকে মাত্র এক মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তা—দুই দিক থেকেই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি টুকটুকি। মেয়ের চিকিৎসার পেছনে ইতিমধ্যে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সব অর্থ ব্যয় করেছেন বাবা আব্দুল কাইয়ুম। ধারদেনা করেও চালিয়েছেন চিকিৎসা। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে এখন আর সামনে এগোতে পারছেন না।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, টুকটুকির জীবন বাঁচাতে দ্রুত অস্ত্রোপচার করানো প্রয়োজন। এ জন্য আনুমানিক দুই থেকে তিন লাখ টাকা লাগবে। দিনমজুর বাবার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে বাড়িতে শয্যাশায়ী অবস্থায় দিন কাটছে টুকটুকির। মেয়ের এমন পরিস্থিতিতে দিশেহারা আব্দুল কাইয়ুম। একদিকে অসুস্থ মেয়ের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা, অন্যদিকে মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় থাকা নাতনির ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে পুরো পরিবারে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা।স্থানীয় বাসিন্দা বাপ্পা বলেন,টুকটুকির বয়স খুবই কম তার কোলের শিশুটির বয়স মাত্র এক মাস। এই বয়সে শিশুটির মায়ের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কিন্তু অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না। আমরা চাই, সমাজের বিত্তবান মানুষ ও মানবিক সংগঠনগুলো এগিয়ে আসুক। সবার সহযোগিতায় টুকটুকি সুস্থ হয়ে আবার তার সন্তানের কাছে ফিরে আসুক। একজন মা ও তার শিশুর মুখের দিকে তাকিয়ে সবাইকে পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। টুকটুকির চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন মানবিক সংগঠন এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত হৃদয়বান মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য বিপু আহম্মেদ। সম্মিলিত উদ্যোগে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা গেলে টুকটুকির অস্ত্রোপচার করানো সম্ভব হবে।

ইউপি সদস্য বিপু আহম্মেদ বলেন, অর্থের অভাবে ২০ বছর বয়সী একজন তরুণীর জীবন যেন অকালে শেষ হয়ে না যায়। মাত্র এক মাসের শিশুটি যেন মায়ের স্নেহ ও ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত না হয়। সবার সামান্য সহযোগিতায় হয়তো টুকটুকির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। মোরেলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন,নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করা হলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। টুকটুকির পরিবারের এখন একটাই চাওয়া—অর্থের অভাবে যেন তার চিকিৎসা বন্ধ না থাকে। মায়ের কোলে সন্তানটি যেন ফিরে পায় তার নিরাপদ আশ্রয়। এ জন্য প্রয়োজন সবার সম্মিলিত মানবিক সহযোগিতা।