বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটে এক ব্যক্তির মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রকাশিত বেসামরিক গেজেট বাতিলের চার বছর পার হলেও তাঁর মেয়ের মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পাওয়া সরকারি চাকরি বহাল থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মোড়েলগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়নের জামুয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আসাদুজ্জামান, পিতা- হাকিম মোল্লার নামে প্রকাশিত বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধা গেজেট নম্বর ৩১৮৫ বাতিল করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট অধিশাখার স্মারক নম্বর ৪৮.০০.০০০০.০০৪.৩৭.০০১.২২.৫০৩, তারিখ ১০ মার্চ ২০২২-এর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এবং জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৭৮তম সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তাঁকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শনাক্ত করে গেজেটটি বাতিল করা হয়। গেজেটটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২৩ মে ২০০৬ তারিখে, পৃষ্ঠা নম্বর ৪৪৫০।স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, আসাদুজ্জামান মুক্তিযুদ্ধের সময় সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেও পরবর্তী সময়ে অনিয়মের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। এ বিষয়ে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা সম্মিলিতভাবে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে অভিযোগ দাখিল করেন। পরবর্তী সময়ে অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে তাঁকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শনাক্ত করে তাঁর গেজেট বাতিল করা হয়।অভিযোগ রয়েছে, গেজেট বাতিলের বিরুদ্ধে আসাদুজ্জামান নিজেকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন। তবে চার বছর পার হলেও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।এদিকে, গেজেট বাতিল হওয়া আসাদুজ্জামানের মেয়ে শিল্পী আক্তার (লাভনী) ২০০৯ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। বর্তমানে তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার পোটাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।অভিযোগকারীদের দাবি, বাবার মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিল হওয়ার পরও তাঁর মেয়ের মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পাওয়া চাকরির বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকায় তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের কাছে আগে কোনো অভিযোগ আসেনি। যেহেতু বিষয়টি এখন জানতে পেরেছি, তাই তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শিল্পী আক্তার (লাভনী)এর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।সংশ্লিষ্টদের মতে, মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিলের পর ওই গেজেটের ভিত্তিতে পাওয়া চাকরির বৈধতা ও পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভুক্ত। তাই বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ ঘটনায় বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
পিসি কলেজে জাতীয় ছাত্রশক্তির উন্মুক্ত বইঘর উদ্বোধন
Reporter Name 














