Dhaka , Tuesday, 3 November 2026
শিরোনাম :
বাবার মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিলের চার বছর পরও কোটায় পাওয়া মেয়ের চাকরি বহাল থাকার অভিযোগ জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দায়িত্ব পেলেন বাগেরহাটের সৈয়দ মোরশেদ আনোয়ার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে বাগেরহাটে যুবদলের প্রস্তুতি সভা বাগেরহাটে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে চেক বিতরণ বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সড়ক মন্ত্রীর এসি প্রদান বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না          —–ডা. শফিকুর রহমান জায়গার সংকট, আগাছা-জঙ্গলে বেহাল বাগেরহাটের বড় কবরস্থান, দাফনেও ভোগান্তি বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা

বাবাকে ফিরে পেতে মেয়ে ঘুরছে দ্বারে দ্বারে বাবার শোকে দিশেহারা (পর্ব-১)

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 07:11:47 pm, Friday, 11 August 2023
  • 137 বার

জেলা প্রতিনিধি, বাগেরহাট

এই পৃথিবীর বুক জুড়ে একমাত্র বাবা যে তার সন্তানদেরকে বেঁচে থাকার আশার স্বপ্ন দেখাতে শিখায়। কালের নির্মম হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় ছেলে-মেয়েদের সেই স্বপ্ন দেখানো হলো না, বাবা অক্লান্ত পরিশ্রম জীবনের সব মায়া ত্যাগ করে একটি পরিবারকে ছায়াতলে আগলে রাখে সব সময় এগিয়ে যাওয়ার জন্য সাহায্য করে। সুখ-দুঃখকে ভাগাভাগি করে নেওয়ার প্রতিটি পিতার দায়িত্ব ও কর্তব্য এরই নামই হলো বাবার ভালোবাসা। সেই ভালবাসাকে হার মানিয়েছে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেওযা জন্ম থেকে শত কষ্টের মাঝে গড়ে ওঠা এক “জয়ন্তী” মা’য়ের অজানা-কাহিনি।
বাগেরহাট সদর উপজেলার রাখালগাছি ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের সন্তোষ দেবনাথের স্ত্রী রত্না দেবনাথ জন্মের পর থেকে পিতার শূন্যতায় দিন কাটছে চোখের পানিতে আর বুক ভরা ব্যথা নিয়ে বাবা থেকেও যেন আজ বাবার স্মেহ ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত এমন এক হৃদয় বিদারক ঘটনায়কে সঙ্গী করে জন্মের ৪৫ বছর ধরে বাবাকে কাছে না পাওয়ার আশায় আত্মহারা। নিখোঁজ পিতার খোঁজে ঘুরছে দ্বারে দ্বারে জীবিত আছে কি না মৃত আছে জানতে চাইলে অঝরে কাঁদলেন। পিতা হারা ২ সন্তানের মা দীর্ঘ ৪৫ বছর পর বাবাকে দেখার শেষ ইচ্ছা কথা তুলে ধরেছেন তার জীবনের শেষ ইচ্ছা কথা গণমাধ্যমের কাছে। নিখোঁজ পিতাকে ফিরে পাওয়ার জন্য কাজ করছে গনমাধ্যমকর্মী ও প্রিন্ট মিডিয়া । তার দাবি বাবাকে পেয়ে বাবার মুখটা দেখে জীবনের শেষ ইচ্ছা পূরণ করে যেতে চাই । এ ব্যাপারে একটি অনুসন্ধান টিম চোখে ক্যামেরায় রাখালগাছির রসুলপুর গ্রামের নারায়ণ কুমার দাস এক সাক্ষাৎকারে তুলে আসে নিখোঁজ নেপাল মণ্ডল ও তার সহধর্মিনীর অজানা কাহিনী তিনি গণমাধ্যমকে বলেন একজন অসহায় হতদরিদ্র আমার বাড়িতে এসে আশ্রয় নেন খুকুমনি নামে এক
অন্তঃসত্তা মহিলা এখানে সে ভিক্ষাবৃত্তি করে মানবেতার জীবন যাপন করতেন। নারায়ন কুমার দাসের সাথে কথা বলে জানা যায় বড়পাইকপাড়া গ্রামের ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রবি ঠাকুরের বাড়িতে রত্না ১৯৭৮সালে জন্মগ্রহণ করেন। স্বামী পেলে আসা খুকুমনি দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে দিন এনে দিনে খেয়ে অন্যের দুয়ারে দুয়ারে জরাজীর্ণ জীবন নিয়ে অসহায় হতদরিদ্র খুকুমনি শিশু কন্যা রত্নাকে নিয়ে পরবর্তীতে আশ্রয় নেন রসুলপুর গ্রামের চাঁদ নামের আরেক জনের বাড়িতে সেই বাড়িতে দীর্ঘ ১৫ বছর মানবেতার জীবনযাপন করে আশ্রয় নেওয়া স্বামীহারা ও দুই সন্তানের জননী নেপাল মণ্ডলের স্ত্রী খুকুমণি স্বামী ও ছেলের শোকে দিন কাটে কষ্টের মাঝে পরিবারের আপনজনকে কাছে না পেয়ে ভারসাম্যহীন ভাবে খোলা আকাশের নিচেয় দিন কাটান। নিখোঁজ নেপাল মন্ডলের স্ত্রীর কাছে তার স্বামী ও সন্তানের কথা জানতে চাওয়া হলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন আমার স্বামীর নাম নেপাল মন্ডল ও তার বড় ছেলের নাম জানতে চাইলে স্মৃতি শক্তি হারিয়ে যাওয়ার কারনে ঠিক মত বলতে পারেন নি একপর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন গ্রামের বাড়ির কথা জানতে চাওয়া হলে তিনি এক সময় ফকিরহাট, মোল্লারহাটের কথা বলেন। স্বামী ও সন্তানকে হারিয়ে সর্বশান্ত ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় চাঁদের বাড়িতে পালিত মেয়ে রত্নাকে রাখালগাছি ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের সন্তোষ দেবনাথ এর সাথে ৩০ বছর আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের ৩০ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও বাবাকে যে সন্তানরা ভুলে না ইতিহাসে এটাই সাক্ষী নিখোঁজ পিতার খোঁজে রত্না দেবনাথ গণমাধ্যমকর্মীকে বলেন আমার পিতাকে কখনো জন্মের পর থেকে কখনো দেখিনি পিতা হারানোর ব্যথা ভুলতে পারিনা এত কষ্ট নিয়েও স্বামী ও দুই সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে শিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলা এ আমার জীবনের বড় পাওয়া। বাবা হারানোর শূন্যতা ও ব্যাথা নিয়ে আজও বেচে আছি । আমার নিখোঁজ বাবা ও ভাইকে ফিরে পেতে চাই গণমাধ্যম ও সচেতন মহলের কাছে একটাই দাবি পিতাকে ফিরে পাওয়ার এই সহযোগিতা কামনা করি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

বাবার মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিলের চার বছর পরও কোটায় পাওয়া মেয়ের চাকরি বহাল থাকার অভিযোগ

বাবাকে ফিরে পেতে মেয়ে ঘুরছে দ্বারে দ্বারে বাবার শোকে দিশেহারা (পর্ব-১)

আপডেট টাইম : 07:11:47 pm, Friday, 11 August 2023

জেলা প্রতিনিধি, বাগেরহাট

এই পৃথিবীর বুক জুড়ে একমাত্র বাবা যে তার সন্তানদেরকে বেঁচে থাকার আশার স্বপ্ন দেখাতে শিখায়। কালের নির্মম হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় ছেলে-মেয়েদের সেই স্বপ্ন দেখানো হলো না, বাবা অক্লান্ত পরিশ্রম জীবনের সব মায়া ত্যাগ করে একটি পরিবারকে ছায়াতলে আগলে রাখে সব সময় এগিয়ে যাওয়ার জন্য সাহায্য করে। সুখ-দুঃখকে ভাগাভাগি করে নেওয়ার প্রতিটি পিতার দায়িত্ব ও কর্তব্য এরই নামই হলো বাবার ভালোবাসা। সেই ভালবাসাকে হার মানিয়েছে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেওযা জন্ম থেকে শত কষ্টের মাঝে গড়ে ওঠা এক “জয়ন্তী” মা’য়ের অজানা-কাহিনি।
বাগেরহাট সদর উপজেলার রাখালগাছি ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের সন্তোষ দেবনাথের স্ত্রী রত্না দেবনাথ জন্মের পর থেকে পিতার শূন্যতায় দিন কাটছে চোখের পানিতে আর বুক ভরা ব্যথা নিয়ে বাবা থেকেও যেন আজ বাবার স্মেহ ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত এমন এক হৃদয় বিদারক ঘটনায়কে সঙ্গী করে জন্মের ৪৫ বছর ধরে বাবাকে কাছে না পাওয়ার আশায় আত্মহারা। নিখোঁজ পিতার খোঁজে ঘুরছে দ্বারে দ্বারে জীবিত আছে কি না মৃত আছে জানতে চাইলে অঝরে কাঁদলেন। পিতা হারা ২ সন্তানের মা দীর্ঘ ৪৫ বছর পর বাবাকে দেখার শেষ ইচ্ছা কথা তুলে ধরেছেন তার জীবনের শেষ ইচ্ছা কথা গণমাধ্যমের কাছে। নিখোঁজ পিতাকে ফিরে পাওয়ার জন্য কাজ করছে গনমাধ্যমকর্মী ও প্রিন্ট মিডিয়া । তার দাবি বাবাকে পেয়ে বাবার মুখটা দেখে জীবনের শেষ ইচ্ছা পূরণ করে যেতে চাই । এ ব্যাপারে একটি অনুসন্ধান টিম চোখে ক্যামেরায় রাখালগাছির রসুলপুর গ্রামের নারায়ণ কুমার দাস এক সাক্ষাৎকারে তুলে আসে নিখোঁজ নেপাল মণ্ডল ও তার সহধর্মিনীর অজানা কাহিনী তিনি গণমাধ্যমকে বলেন একজন অসহায় হতদরিদ্র আমার বাড়িতে এসে আশ্রয় নেন খুকুমনি নামে এক
অন্তঃসত্তা মহিলা এখানে সে ভিক্ষাবৃত্তি করে মানবেতার জীবন যাপন করতেন। নারায়ন কুমার দাসের সাথে কথা বলে জানা যায় বড়পাইকপাড়া গ্রামের ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রবি ঠাকুরের বাড়িতে রত্না ১৯৭৮সালে জন্মগ্রহণ করেন। স্বামী পেলে আসা খুকুমনি দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে দিন এনে দিনে খেয়ে অন্যের দুয়ারে দুয়ারে জরাজীর্ণ জীবন নিয়ে অসহায় হতদরিদ্র খুকুমনি শিশু কন্যা রত্নাকে নিয়ে পরবর্তীতে আশ্রয় নেন রসুলপুর গ্রামের চাঁদ নামের আরেক জনের বাড়িতে সেই বাড়িতে দীর্ঘ ১৫ বছর মানবেতার জীবনযাপন করে আশ্রয় নেওয়া স্বামীহারা ও দুই সন্তানের জননী নেপাল মণ্ডলের স্ত্রী খুকুমণি স্বামী ও ছেলের শোকে দিন কাটে কষ্টের মাঝে পরিবারের আপনজনকে কাছে না পেয়ে ভারসাম্যহীন ভাবে খোলা আকাশের নিচেয় দিন কাটান। নিখোঁজ নেপাল মন্ডলের স্ত্রীর কাছে তার স্বামী ও সন্তানের কথা জানতে চাওয়া হলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন আমার স্বামীর নাম নেপাল মন্ডল ও তার বড় ছেলের নাম জানতে চাইলে স্মৃতি শক্তি হারিয়ে যাওয়ার কারনে ঠিক মত বলতে পারেন নি একপর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন গ্রামের বাড়ির কথা জানতে চাওয়া হলে তিনি এক সময় ফকিরহাট, মোল্লারহাটের কথা বলেন। স্বামী ও সন্তানকে হারিয়ে সর্বশান্ত ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় চাঁদের বাড়িতে পালিত মেয়ে রত্নাকে রাখালগাছি ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের সন্তোষ দেবনাথ এর সাথে ৩০ বছর আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের ৩০ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও বাবাকে যে সন্তানরা ভুলে না ইতিহাসে এটাই সাক্ষী নিখোঁজ পিতার খোঁজে রত্না দেবনাথ গণমাধ্যমকর্মীকে বলেন আমার পিতাকে কখনো জন্মের পর থেকে কখনো দেখিনি পিতা হারানোর ব্যথা ভুলতে পারিনা এত কষ্ট নিয়েও স্বামী ও দুই সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে শিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলা এ আমার জীবনের বড় পাওয়া। বাবা হারানোর শূন্যতা ও ব্যাথা নিয়ে আজও বেচে আছি । আমার নিখোঁজ বাবা ও ভাইকে ফিরে পেতে চাই গণমাধ্যম ও সচেতন মহলের কাছে একটাই দাবি পিতাকে ফিরে পাওয়ার এই সহযোগিতা কামনা করি