Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
রামপালের এক ইউনিট বন্ধ, উৎপাদন নেমেছে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা

রণজিৎপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 10:15:52 pm, Sunday, 26 April 2026
  • 746 বার

 

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের রণজিৎপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক সরদার মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। নবম ও দশম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে অশোভন মন্তব্য, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ এবং মানসিকভাবে বিব্রতকর আচরণের অভিযোগ করেছেন। ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বর্ণা দাস অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক ক্লাসে এসে ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। কখনো গায়ে হাত দেন, কখনো ওড়না ধরে টান দেন। এছাড়া ছাত্রীদের চোখের দিকে তাকাতে বলেন এবং “মনের ভাষা পড়ে দিতে পারি” এ ধরনের মন্তব্য করেন। অনেক সময় কপালের টিপ সরিয়ে দেওয়া এবং চোখ মারার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।নবম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী টলি মজুমদার বলেন, স্যার প্রায়ই বলেন,আমার চোখের দিকে তাকাও আমি তোমার মন পড়ে নিতে পারব। যদি তোমার মন নিয়ে নিই, তাহলে আর ফেরত দেব না।এ ধরনের মন্তব্যে তারা অস্বস্তিতে পড়েন বলে জানান তিনি।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাজহারুল পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, পড়া পারুক বা না পারুক শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের অপমান করেন। পাশাপাশি ছাত্রীদের কপালে টিপ দেওয়া ও গায়ে হাত দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বর্ণা দাস বলেন, ক্লাসে পড়াশোনার বদলে উল্টাপাল্টা কথা বলেন শিক্ষক। অনেক সময় মেয়েদের গায়ে হাত দেন এবং সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় ঘাড়ে হাত দিয়ে নামেন, যা তাদের বিব্রত করে।

আরেক শিক্ষার্থী নাজিফা খাতুন অভিযোগ করেন, কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, মাঝে মাঝে এমন অশালীন গল্প বলা হয় যা তারা কাউকে বলতে পারেন না।

অভিযোগের বিষয়ে শারীরিক শিক্ষক সরদার মাহবুবুর রহমানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

রণজিৎপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক দাস এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।এদিকে অভিভাবক ইলিয়াস শেখ বলেন, তার মেয়ে আগে ওই বিদ্যালয়ে পড়ত। শিক্ষকের আচরণে অস্বস্তি বোধ করায় তিনি মেয়েকে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান। তার দাবি, ছাত্রীদের পাস করিয়ে দেওয়ার কথা বলে বাইরে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ও রয়েছে। এছাড়া স্কুলের সামনে দোকানে বসে ওপেনে ধূমপান করার বিষয়ে ও জানান তিনি।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী হবিব বলেন, শিক্ষকের আচরণ দীর্ঘদিন ধরেই অস্বাভাবিক। একসময় শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করে তাকে সতর্ক করলেও আচরণে পরিবর্তন আসেনি।এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি সবাইকে হুমকি দেন। এছাড়া কিছুদিন আগে এক ভ্যানচালককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় থানায় অভিযোগ হলেও পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয় বলে জানা গেছে।

বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাগেরহাট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে কিছু আপত্তিকর বিষয় তার নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালের এক ইউনিট বন্ধ, উৎপাদন নেমেছে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে

রণজিৎপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগ

আপডেট টাইম : 10:15:52 pm, Sunday, 26 April 2026

 

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের রণজিৎপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক সরদার মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। নবম ও দশম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে অশোভন মন্তব্য, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ এবং মানসিকভাবে বিব্রতকর আচরণের অভিযোগ করেছেন। ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বর্ণা দাস অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক ক্লাসে এসে ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। কখনো গায়ে হাত দেন, কখনো ওড়না ধরে টান দেন। এছাড়া ছাত্রীদের চোখের দিকে তাকাতে বলেন এবং “মনের ভাষা পড়ে দিতে পারি” এ ধরনের মন্তব্য করেন। অনেক সময় কপালের টিপ সরিয়ে দেওয়া এবং চোখ মারার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।নবম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী টলি মজুমদার বলেন, স্যার প্রায়ই বলেন,আমার চোখের দিকে তাকাও আমি তোমার মন পড়ে নিতে পারব। যদি তোমার মন নিয়ে নিই, তাহলে আর ফেরত দেব না।এ ধরনের মন্তব্যে তারা অস্বস্তিতে পড়েন বলে জানান তিনি।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাজহারুল পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, পড়া পারুক বা না পারুক শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের অপমান করেন। পাশাপাশি ছাত্রীদের কপালে টিপ দেওয়া ও গায়ে হাত দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বর্ণা দাস বলেন, ক্লাসে পড়াশোনার বদলে উল্টাপাল্টা কথা বলেন শিক্ষক। অনেক সময় মেয়েদের গায়ে হাত দেন এবং সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় ঘাড়ে হাত দিয়ে নামেন, যা তাদের বিব্রত করে।

আরেক শিক্ষার্থী নাজিফা খাতুন অভিযোগ করেন, কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, মাঝে মাঝে এমন অশালীন গল্প বলা হয় যা তারা কাউকে বলতে পারেন না।

অভিযোগের বিষয়ে শারীরিক শিক্ষক সরদার মাহবুবুর রহমানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

রণজিৎপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক দাস এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।এদিকে অভিভাবক ইলিয়াস শেখ বলেন, তার মেয়ে আগে ওই বিদ্যালয়ে পড়ত। শিক্ষকের আচরণে অস্বস্তি বোধ করায় তিনি মেয়েকে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান। তার দাবি, ছাত্রীদের পাস করিয়ে দেওয়ার কথা বলে বাইরে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ও রয়েছে। এছাড়া স্কুলের সামনে দোকানে বসে ওপেনে ধূমপান করার বিষয়ে ও জানান তিনি।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী হবিব বলেন, শিক্ষকের আচরণ দীর্ঘদিন ধরেই অস্বাভাবিক। একসময় শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করে তাকে সতর্ক করলেও আচরণে পরিবর্তন আসেনি।এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি সবাইকে হুমকি দেন। এছাড়া কিছুদিন আগে এক ভ্যানচালককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় থানায় অভিযোগ হলেও পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয় বলে জানা গেছে।

বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাগেরহাট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে কিছু আপত্তিকর বিষয় তার নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।