বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে খুলনার বয়রায় অবস্থিত বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে মাজারের পূর্ব পাড়ের একটি ডোবা থেকে কুমিরটিকে ধরেন বন বিভাগের সদস্যরা। এ সময় বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী, সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির, বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুনসহ প্রশাসন ও বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মঙ্গলবার রাত ১০টায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাজারে আগত দেশি-বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে আপাতত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, দুই দিন আগে মাজারের দীঘিতে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
সাত বছর বয়সী এক শিশুকে কুমির টেনে নিয়ে যায়। এরপর থেকে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তায় কুমিরটিকে খুলনার বয়রায় অবস্থিত বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে কুমিরটিকে কোথায় রাখা হবে এবং এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে।
সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কুমিরটিকে ধরে খুলনার বয়রায় অবস্থিত বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। সেখানে কুমিরটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। সেখান থেকে কুমিরটি সুন্দরবনের করমজলে নেয়া হবে কি না, তা পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত ৮টার দিকে মাজারের দীঘিতে গোসল করতে নেমে সাত বছর বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিরটি শিশুটির পা ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। পরদিন মঙ্গলবার ভোরে মাজারসংলগ্ন দীঘির মহিলা ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি ওঠে।
শিশুদের পড়িয়ে, হাটে বড়ই বিক্রি করে এসএসসিতে এ প্লাস পেল দুর্জয়
Reporter Name 



















