Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে IELTS ও জাপানি ভাষা শিক্ষা নিয়ে সেমিনার

বাগেরহাট হাসপাতালে আউটসোর্সিং নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক, চাকরি হারানোর শঙ্কায় কর্মীরা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 04:38:35 pm, Thursday, 25 June 2026
  • 630 বার
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিং ভিত্তিতে জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, তদবির বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীদের চাকরি হারানোর শঙ্কা দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের ৯৪ জন কর্মী সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে ঢাকাভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচআরডি অ্যান্ড ই এজেন্সি। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার চেয়ে প্রভাবশালী মহলের সমর্থন ও তদবিরের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছে। নিয়োগ কার্যক্রমে সাবেক এক প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিয়েও স্থানীয় বিভিন্ন মহল ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, আবেদন গ্রহণ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণসহ আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও চূড়ান্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। বরং ব্যক্তিগত সুপারিশ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তদবিরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।এ ছাড়া নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি পূর্বে আউটসোর্সিং ভিত্তিতে কর্মরত প্রায় ৬৬ জন কর্মীকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মীদের মধ্যে চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।চাকরি বহালের দাবিতে ইতোমধ্যে আউটসোর্সিং কর্মীরা হাসপাতাল কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন, কর্মবিরতি ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বল্প বেতনে তারা বছরের পর বছর হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এই চাকরিই তাদের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। তাদের বাদ দেওয়া হলে অধিকাংশ পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়বে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মী বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া চাকরি হারালে আমাদের পরিবার রাস্তায় বসে যাবে।হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে অভিযোগমুক্ত কর্মীদের বহাল রাখার পক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি অংশ মত দিলেও এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে।
এদিকে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, তারা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েও চূড়ান্ত তালিকায় মেধার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছেন না। তাদের দাবি, কিছু ব্যক্তি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও পরবর্তীতে জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) জমা দিয়ে নিয়োগ তালিকায় স্থান পাওয়ার চেষ্টা করছেন। অভিযোগটি সত্য হলে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কয়েকজন প্রার্থী বলেন, “আমরা নিয়ম মেনে পরীক্ষা দিয়েছি এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রত্যাশা করি। কিন্তু চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় যদি তদবির ও সুপারিশ প্রাধান্য পায়, তাহলে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হবেন।”
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, আউটসোর্সিং নিয়োগ পরীক্ষায় যারা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে পূর্বে কর্মরত যেসব কর্মীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই এবং যারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের যেন অযৌক্তিকভাবে বাদ না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে এইচআরডি অ্যান্ড ই এজেন্সির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলো তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক, চাকরিপ্রার্থী ও কর্মীরা। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত না হলে পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু

বাগেরহাট হাসপাতালে আউটসোর্সিং নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক, চাকরি হারানোর শঙ্কায় কর্মীরা

আপডেট টাইম : 04:38:35 pm, Thursday, 25 June 2026
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিং ভিত্তিতে জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, তদবির বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীদের চাকরি হারানোর শঙ্কা দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের ৯৪ জন কর্মী সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে ঢাকাভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচআরডি অ্যান্ড ই এজেন্সি। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার চেয়ে প্রভাবশালী মহলের সমর্থন ও তদবিরের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছে। নিয়োগ কার্যক্রমে সাবেক এক প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিয়েও স্থানীয় বিভিন্ন মহল ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, আবেদন গ্রহণ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণসহ আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও চূড়ান্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। বরং ব্যক্তিগত সুপারিশ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তদবিরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।এ ছাড়া নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি পূর্বে আউটসোর্সিং ভিত্তিতে কর্মরত প্রায় ৬৬ জন কর্মীকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মীদের মধ্যে চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।চাকরি বহালের দাবিতে ইতোমধ্যে আউটসোর্সিং কর্মীরা হাসপাতাল কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন, কর্মবিরতি ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বল্প বেতনে তারা বছরের পর বছর হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এই চাকরিই তাদের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। তাদের বাদ দেওয়া হলে অধিকাংশ পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়বে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মী বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া চাকরি হারালে আমাদের পরিবার রাস্তায় বসে যাবে।হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে অভিযোগমুক্ত কর্মীদের বহাল রাখার পক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি অংশ মত দিলেও এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে।
এদিকে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, তারা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েও চূড়ান্ত তালিকায় মেধার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছেন না। তাদের দাবি, কিছু ব্যক্তি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও পরবর্তীতে জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) জমা দিয়ে নিয়োগ তালিকায় স্থান পাওয়ার চেষ্টা করছেন। অভিযোগটি সত্য হলে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কয়েকজন প্রার্থী বলেন, “আমরা নিয়ম মেনে পরীক্ষা দিয়েছি এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রত্যাশা করি। কিন্তু চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় যদি তদবির ও সুপারিশ প্রাধান্য পায়, তাহলে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হবেন।”
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, আউটসোর্সিং নিয়োগ পরীক্ষায় যারা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে পূর্বে কর্মরত যেসব কর্মীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই এবং যারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের যেন অযৌক্তিকভাবে বাদ না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে এইচআরডি অ্যান্ড ই এজেন্সির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলো তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক, চাকরিপ্রার্থী ও কর্মীরা। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত না হলে পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।