খুলনা প্রতিনিধি।
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ডিপ্লোমা ইন অর্থোপেডিক্স কোর্সে অধ্যয়নরত প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক ডা. জিল্লুর রহমান হাসপাতালের ভেতরে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে ক্লাস ও বিভাগীয় প্রশিক্ষণে অংশ নিতে নিরাপত্তা চেয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ও রোগীসেবায় অংশ নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হবে না। এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসকদের মধ্যেও উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, গত ১ জুলাই সরকারি আদেশে ডা. জিল্লুর রহমান খুলনা মেডিকেল কলেজে ডিপ্লোমা ইন অর্থোপেডিক্স কোর্সে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তবে গত রোববার দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে হাসপাতালের পরিচালকের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন তিনি। ডা. জিল্লুর রহমান জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের প্রচার সম্পাদক।
ডা. জিল্লুর রহমান বলেন, সরকারি আদেশে তিনি এ কোর্সে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু প্রকাশ্যে হামলার ঘটনায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ক্লাস করা, প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া এবং রোগী দেখা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি হলেও সেখান থেকে পড়াশোনা চালিয়ে অর্থোপেডিক্স ডিপ্লোমা কোর্সে সুযোগ পান এবং সরকারি আদেশে প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগ দেন। তার দাবি, হামলার সময় আগে থেকেই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত তার ভাঙা পায়েও আঘাত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, রোববার দুপুর প্রায় ১টার দিকে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অর্থোপেডিক্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন ডা. জিল্লুর রহমান। এ সময় খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক ডা. আবু জাফর সালেহ, ডা. ডেভিড ও কয়েকজন আউটসোর্সিং কর্মচারী সেখানে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, ডা. আবু জাফর সালেহ বিভাগীয় প্রধানকে জানান, ডা. জিল্লুর রহমান এই হাসপাতালে কোর্স করতে পারবেন না। বিভাগীয় প্রধান সরকারি আদেশে তিনি প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে এসেছেন বলে জানালে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ডা. জিল্লুর রহমানকে লাথি মারা হয় এবং পরে কয়েকজন মিলে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মারধর করতে করতে তাকে তৃতীয় তলা থেকে নিচতলা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। এতে হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং রোগী-স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক ডা. আবু জাফর সালেহের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিন ফোন কল রিসিভ করেন নি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ আমানুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। শারীরিক নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “সে আমাদের শিক্ষার্থী। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।
শিশুদের পড়িয়ে, হাটে বড়ই বিক্রি করে এসএসসিতে এ প্লাস পেল দুর্জয়
Reporter Name 



















