Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে IELTS ও জাপানি ভাষা শিক্ষা নিয়ে সেমিনার বাগেরহাট পৌরসভার সড়ক উন্নয়নে অনিয়মের অভিযোগ, পুরোনো ঠিকাদারের হাতেই একাধিক কাজ,

মধ্যনগরের উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদে সেবা সংকট, জন্মনিবন্ধন সংশোধনে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 08:57:50 pm, Saturday, 1 August 2026
  • 28 বার

বিশেষ প্রতিবেদক।

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ১ নং উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন, নিবন্ধন সংশোধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা প্রদানে অনিয়ম, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি না থাকায় জন্মনিবন্ধন, নিবন্ধন সংশোধন, প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন সেবা নিতে এসে অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ফিরে যান। এমনকি কোনো কোনো দিন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।ভুক্তভোগীদের দাবি, জন্মনিবন্ধন ও নিবন্ধন সংশোধনের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে প্রতি আবেদনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর নবী তালুকদার অসুস্থ থাকায় পরিষদের সার্বিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতির সুযোগে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্বে অবহেলার কারণে জনসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল হালিম একই সঙ্গে মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তাঁকে প্রায়ই নিজ কর্মস্থলে পাওয়া যায় না। এতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জনসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা।

এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য মানিক মিয়া বলেন, “আমার বাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই। বিভিন্ন সময় যাতায়াতের পথে দেখি ইউনিয়ন পরিষদ বন্ধ থাকে। অনেক সময় সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অফিসে পাওয়া যায় না। মানুষ সেবা নিতে এসে ফিরে যান। চেয়ারম্যান বর্তমানে অসুস্থ থাকায় কেউ কেউ এ পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন। জন্মনিবন্ধন ও নিবন্ধন সংশোধনের জন্য অনেক মানুষকে মাসের পর মাস ঘুরতে হচ্ছে।” অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, “অফিসের বিভিন্ন সরকারি ও প্রশাসনিক কাজে আমাকে প্রায়ই উপজেলা কার্যালয়ে যেতে হয়। এছাড়া আমি মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। এ কারণে সব সময় অফিসে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। তবে দাপ্তরিক কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করা হয়। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ শামসুদ্দিন বলেন, “আমি মানুষের কাছ থেকে যে টাকা বা কাগজপত্র গ্রহণ করি, সেগুলো অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর শুভ সরকারের কাছে জমা দিই।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন পরিষদের অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর শুভ সরকার বলেন, “আমি কারও কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত কোনো অর্থ গ্রহণ করি না। যদি কেউ এ ধরনের অভিযোগ করেন, তাহলে তিনি লিখিতভাবে অভিযোগ ও প্রমাণ দাখিল করুন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ বিষয়ে উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর নবী তালুকদারের ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে তাঁর সহধর্মিণী কল রিসিভ করে সাংবাদিকদের জানান, চেয়ারম্যান বর্তমানে অসুস্থ রয়েছেন। তিনি সুস্থ হয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রমে যোগ দেওয়ার পর অভিযোগগুলোর বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জনি রায় বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি সেবা প্রদানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে বিধি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা যাচাই, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক জনসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয়

মধ্যনগরের উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদে সেবা সংকট, জন্মনিবন্ধন সংশোধনে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

আপডেট টাইম : 08:57:50 pm, Saturday, 1 August 2026

বিশেষ প্রতিবেদক।

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ১ নং উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন, নিবন্ধন সংশোধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা প্রদানে অনিয়ম, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি না থাকায় জন্মনিবন্ধন, নিবন্ধন সংশোধন, প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন সেবা নিতে এসে অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ফিরে যান। এমনকি কোনো কোনো দিন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।ভুক্তভোগীদের দাবি, জন্মনিবন্ধন ও নিবন্ধন সংশোধনের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে প্রতি আবেদনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর নবী তালুকদার অসুস্থ থাকায় পরিষদের সার্বিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতির সুযোগে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্বে অবহেলার কারণে জনসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল হালিম একই সঙ্গে মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তাঁকে প্রায়ই নিজ কর্মস্থলে পাওয়া যায় না। এতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জনসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা।

এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য মানিক মিয়া বলেন, “আমার বাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই। বিভিন্ন সময় যাতায়াতের পথে দেখি ইউনিয়ন পরিষদ বন্ধ থাকে। অনেক সময় সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অফিসে পাওয়া যায় না। মানুষ সেবা নিতে এসে ফিরে যান। চেয়ারম্যান বর্তমানে অসুস্থ থাকায় কেউ কেউ এ পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন। জন্মনিবন্ধন ও নিবন্ধন সংশোধনের জন্য অনেক মানুষকে মাসের পর মাস ঘুরতে হচ্ছে।” অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, “অফিসের বিভিন্ন সরকারি ও প্রশাসনিক কাজে আমাকে প্রায়ই উপজেলা কার্যালয়ে যেতে হয়। এছাড়া আমি মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। এ কারণে সব সময় অফিসে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। তবে দাপ্তরিক কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করা হয়। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ শামসুদ্দিন বলেন, “আমি মানুষের কাছ থেকে যে টাকা বা কাগজপত্র গ্রহণ করি, সেগুলো অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর শুভ সরকারের কাছে জমা দিই।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন পরিষদের অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর শুভ সরকার বলেন, “আমি কারও কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত কোনো অর্থ গ্রহণ করি না। যদি কেউ এ ধরনের অভিযোগ করেন, তাহলে তিনি লিখিতভাবে অভিযোগ ও প্রমাণ দাখিল করুন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ বিষয়ে উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর নবী তালুকদারের ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে তাঁর সহধর্মিণী কল রিসিভ করে সাংবাদিকদের জানান, চেয়ারম্যান বর্তমানে অসুস্থ রয়েছেন। তিনি সুস্থ হয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রমে যোগ দেওয়ার পর অভিযোগগুলোর বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জনি রায় বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি সেবা প্রদানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে বিধি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা যাচাই, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক জনসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।