Dhaka , Monday, 14 September 2026
শিরোনাম :
রামপালের এক ইউনিট বন্ধ, উৎপাদন নেমেছে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা

জেলের জালে ২২ কেজির ধাতিনা ভোল, দাম উঠল ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 07:09:47 pm, Thursday, 13 August 2026
  • 46 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি।

বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ২২ কেজি ওজনের বিরল প্রজাতির ‘ধাতিনা ভোল’ মাছ। মাছটি বাগেরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এতে প্রতি কেজি মাছের দাম পড়েছে প্রায় ১৬ হাজার ১৩৬ টাকা।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে বাগেরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মিরাজ হাওলাদারের আড়তে মাছটি বিক্রি হয়। মৎস্য ব্যবসায়ী হারুন মীর মাছটি কিনে নেন।এর আগে গত ১১ আগস্ট বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বগা গ্রামের জেলে ইলিয়াছ হোসেনের মালিকানাধীন ‘এফবি মায়ের দোয়া’ ট্রলারের জালে মাছটি ধরা পড়ে।ট্রলারের মালিক ও মাঝি ইলিয়াছ হোসেন বলেন, সাগরের আবহাওয়া খারাপ থাকায় ইলিশ তেমন ধরা পড়ছে না। তাই বাড়ি ফেরার আগে শেষ মুহূর্তে সাগরে জাল ফেলি। রাতে জাল টানার সময় ধাতিনা ভোল মাছটি পাই। এত বড় ও দামি মাছ পেয়ে আমরা খুবই খুশি।মাছটির ক্রেতা ব্যবসায়ী হারুন মীর বলেন,এই মাছের মণ প্রায় ৬ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ২২ কেজি ওজনের মাছটি ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় কিনেছি। এখন বরফ দিয়ে মাছটি বড় মোকামে নেওয়া হবে। সেখান থেকে চট্টগ্রামে পাঠানো হবে। আশা করছি, মাছটি বিক্রি করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ করতে পারব।উপকূলীয় মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন,কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ছোট ফাঁসের জাল সাগরে নিয়ে যাওয়ায় অনেক মাছ ছোট থাকতেই ধরা পড়ে যায়। অনেক বছর পর ২২ কেজি ওজনের ধাতিনা ভোল ধরা পড়েছে। মাছটি প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর এমন বড় মাছ পাওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত।

মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, ধাতিনা ভোল মাছের পটকার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে চীন, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এর পটকা উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। মাছের পটকা ওষুধ প্রস্তুত, চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের সার্জিক্যাল সুতা (Surgical Thread) এবং প্রসাধনী তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়।বিরল এই মাছটি দেখতে বৃহস্পতিবার সকালে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ভিড় করেন স্থানীয় উৎসুক মানুষ। মাছটির আকার ও দাম নিয়ে তাদের মধ্যে ছিল ব্যাপক কৌতূহল।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন,এত বড় ধাতিনা ভোল মাছ আগে কখনো সরাসরি দেখিনি। মাছটির দামও যে এত বেশি, সেটাও জানা ছিল না। খবর পেয়ে কৌতূহল নিয়ে দেখতে এসেছি। মাছটি এক নজর দেখতে এখানে অনেক মানুষ ভিড় করেছেন। স্থানীয় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় নদ-নদীতে মাঝেমধ্যে এমন বিরল ও মূল্যবান মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ে। আর বড় আকারের এমন মাছ ধরা পড়লে তা জেলে ও ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালের এক ইউনিট বন্ধ, উৎপাদন নেমেছে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে

জেলের জালে ২২ কেজির ধাতিনা ভোল, দাম উঠল ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা

আপডেট টাইম : 07:09:47 pm, Thursday, 13 August 2026

বাগেরহাট প্রতিনিধি।

বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ২২ কেজি ওজনের বিরল প্রজাতির ‘ধাতিনা ভোল’ মাছ। মাছটি বাগেরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এতে প্রতি কেজি মাছের দাম পড়েছে প্রায় ১৬ হাজার ১৩৬ টাকা।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে বাগেরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মিরাজ হাওলাদারের আড়তে মাছটি বিক্রি হয়। মৎস্য ব্যবসায়ী হারুন মীর মাছটি কিনে নেন।এর আগে গত ১১ আগস্ট বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বগা গ্রামের জেলে ইলিয়াছ হোসেনের মালিকানাধীন ‘এফবি মায়ের দোয়া’ ট্রলারের জালে মাছটি ধরা পড়ে।ট্রলারের মালিক ও মাঝি ইলিয়াছ হোসেন বলেন, সাগরের আবহাওয়া খারাপ থাকায় ইলিশ তেমন ধরা পড়ছে না। তাই বাড়ি ফেরার আগে শেষ মুহূর্তে সাগরে জাল ফেলি। রাতে জাল টানার সময় ধাতিনা ভোল মাছটি পাই। এত বড় ও দামি মাছ পেয়ে আমরা খুবই খুশি।মাছটির ক্রেতা ব্যবসায়ী হারুন মীর বলেন,এই মাছের মণ প্রায় ৬ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ২২ কেজি ওজনের মাছটি ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় কিনেছি। এখন বরফ দিয়ে মাছটি বড় মোকামে নেওয়া হবে। সেখান থেকে চট্টগ্রামে পাঠানো হবে। আশা করছি, মাছটি বিক্রি করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ করতে পারব।উপকূলীয় মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন,কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ছোট ফাঁসের জাল সাগরে নিয়ে যাওয়ায় অনেক মাছ ছোট থাকতেই ধরা পড়ে যায়। অনেক বছর পর ২২ কেজি ওজনের ধাতিনা ভোল ধরা পড়েছে। মাছটি প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর এমন বড় মাছ পাওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত।

মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, ধাতিনা ভোল মাছের পটকার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে চীন, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এর পটকা উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। মাছের পটকা ওষুধ প্রস্তুত, চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের সার্জিক্যাল সুতা (Surgical Thread) এবং প্রসাধনী তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়।বিরল এই মাছটি দেখতে বৃহস্পতিবার সকালে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ভিড় করেন স্থানীয় উৎসুক মানুষ। মাছটির আকার ও দাম নিয়ে তাদের মধ্যে ছিল ব্যাপক কৌতূহল।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন,এত বড় ধাতিনা ভোল মাছ আগে কখনো সরাসরি দেখিনি। মাছটির দামও যে এত বেশি, সেটাও জানা ছিল না। খবর পেয়ে কৌতূহল নিয়ে দেখতে এসেছি। মাছটি এক নজর দেখতে এখানে অনেক মানুষ ভিড় করেছেন। স্থানীয় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় নদ-নদীতে মাঝেমধ্যে এমন বিরল ও মূল্যবান মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ে। আর বড় আকারের এমন মাছ ধরা পড়লে তা জেলে ও ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে।