Dhaka , Monday, 14 September 2026
শিরোনাম :
রামপালের এক ইউনিট বন্ধ, উৎপাদন নেমেছে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও থেমে নেই সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ, অভিযোগের তীর কথিত যুবদল নেতা “সুমনের ” দিকে।

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 11:46:06 pm, Saturday, 29 August 2026
  • 158 বার

 

বাগেরহাট প্রতিনিধি
সুন্দরবনে প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও থেমে নেই দুস্কৃতিকারীরা। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রজণন মৌসুম বিবেচনায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট টানা তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। তবে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার সময়ে সাধারন জেলে-মাওয়ালীদের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও থেমে নেই দুস্কৃতিকারীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ মোংলা থানার সুন্দরবন ইউনিয়নের যুবদল নেতা শাহরিয়ার সুমনের পৃষ্ঠপোষকতায় সুন্দরবনে গড়ে উঠেছে বিশাল এক চক্র। এরই মাঝে শনিবার দুপুর ১ টার দিকে চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্দমারী ফরেস্ট ক্যাম্প সংলগ্ন খালে বিষ দেয়া মাছ সহ স্থানীয়দের হাতে আটক হয় এই চক্রের ২ সদস্য। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায় একটি খালে নৌকা সহ দুই জন লোককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। এ সময় নৌকায় বিপুল পরিমাণ মাছ দেখা যায়। ভিডিও কারীদের একজনকে জিজ্ঞাসা করতে শোনা যায়, ” এটা কি বিষ দিয়ে মাছ”! শুরুতে দুষ্কৃতিকারীরা মাছগুলো বিষ দেয়া নয় বলে দাবি করলেও এক পর্যায়ে চাপের মুখে তারা স্বীকার করে যে, মাছগুলো সুন্দরবন থেকে বিষ দিয়ে মারে আনা হয়েছে। এ সময় ওই দুষ্কৃতিকারীরা বলে, তারা সুমনের জেলে। জানা যায়, ধরা পড়া ওই দুই দুষ্কৃতিরা হলেন মংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের ছিক্ক হাওলাদারের পুত্র মহিদুল হাওলাদার এবং একই উপজেলার চিলা ইউনিয়নের কালাম শেখের পুত্র নাইম শেখ ।

প্রত্যক্ষদর্শী সোহাগ হাওলাদার জানান, দীর্ঘদিন যাবত মংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বাসিন্দা দেলোয়ার হাওলাদারের পুত্র শাহরিয়ার সুমনের নেতৃত্বে সুন্দরবন এ গড়ে উঠেছে বিশাল এক চক্র। বিষ দিয়ে মাছ শিকার হরিণ শিকার, কাকড়া নিধনসহ নানা অপকর্মে যুক্ত এই চক্রটি। সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার সময়ও এই চক্রটির সুন্দরবনে অবাধ যাতায়াত ছিল। সুন্দরবন সংলগ্ন বৈদ্য মারি ফরেস্ট ক্যাম্পের খুব কাছেই গড়ে উঠেছে সুমনের মাছ কাঁকড়ার আড়ত। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও প্রায় প্রতিদিনই সুমনের আড়োতে প্রকাশ্যে কাকড়া বিক্রি হয়। বন বিভাগের নাকের ডগায় কিভাবে এমন অবৈধ ব্যবসা চলে সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। এছাড়া ভিডিও ধারণকারী ইমরান হাওলাদার জানান, দলীয় পদ পদবী না থাকলেও অভিযুক্ত সুমন নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে দাবি করে সুন্দরবনে আধিপত্য বিস্তার করেছে। সুমন গরিব জেলেদের দারিদ্রতার সুযোগ‌ নিয়ে এসব জেলেদের সুন্দরবনে ববিভিন্ন অবৈধ কাজে ব্যবহার করছে। আর বৈদ্য মারি ফরেস্ট ক্যাম্প সংলগ্ন খালটি এখন এই চোরাকারবারীদের নিরাপদ রুট।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুমনের কাছে জানতে চাইলে বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি জানান, ” গতকাল আমি বিবাহ করেছি, আমি এখন শ্বশুর বাড়িতে আছি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বর্ষবর্তী হয়ে আমার ক্ষতি করার জন্য একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালের এক ইউনিট বন্ধ, উৎপাদন নেমেছে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও থেমে নেই সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ, অভিযোগের তীর কথিত যুবদল নেতা “সুমনের ” দিকে।

আপডেট টাইম : 11:46:06 pm, Saturday, 29 August 2026

 

বাগেরহাট প্রতিনিধি
সুন্দরবনে প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও থেমে নেই দুস্কৃতিকারীরা। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রজণন মৌসুম বিবেচনায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট টানা তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। তবে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার সময়ে সাধারন জেলে-মাওয়ালীদের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও থেমে নেই দুস্কৃতিকারীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ মোংলা থানার সুন্দরবন ইউনিয়নের যুবদল নেতা শাহরিয়ার সুমনের পৃষ্ঠপোষকতায় সুন্দরবনে গড়ে উঠেছে বিশাল এক চক্র। এরই মাঝে শনিবার দুপুর ১ টার দিকে চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্দমারী ফরেস্ট ক্যাম্প সংলগ্ন খালে বিষ দেয়া মাছ সহ স্থানীয়দের হাতে আটক হয় এই চক্রের ২ সদস্য। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায় একটি খালে নৌকা সহ দুই জন লোককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। এ সময় নৌকায় বিপুল পরিমাণ মাছ দেখা যায়। ভিডিও কারীদের একজনকে জিজ্ঞাসা করতে শোনা যায়, ” এটা কি বিষ দিয়ে মাছ”! শুরুতে দুষ্কৃতিকারীরা মাছগুলো বিষ দেয়া নয় বলে দাবি করলেও এক পর্যায়ে চাপের মুখে তারা স্বীকার করে যে, মাছগুলো সুন্দরবন থেকে বিষ দিয়ে মারে আনা হয়েছে। এ সময় ওই দুষ্কৃতিকারীরা বলে, তারা সুমনের জেলে। জানা যায়, ধরা পড়া ওই দুই দুষ্কৃতিরা হলেন মংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের ছিক্ক হাওলাদারের পুত্র মহিদুল হাওলাদার এবং একই উপজেলার চিলা ইউনিয়নের কালাম শেখের পুত্র নাইম শেখ ।

প্রত্যক্ষদর্শী সোহাগ হাওলাদার জানান, দীর্ঘদিন যাবত মংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বাসিন্দা দেলোয়ার হাওলাদারের পুত্র শাহরিয়ার সুমনের নেতৃত্বে সুন্দরবন এ গড়ে উঠেছে বিশাল এক চক্র। বিষ দিয়ে মাছ শিকার হরিণ শিকার, কাকড়া নিধনসহ নানা অপকর্মে যুক্ত এই চক্রটি। সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার সময়ও এই চক্রটির সুন্দরবনে অবাধ যাতায়াত ছিল। সুন্দরবন সংলগ্ন বৈদ্য মারি ফরেস্ট ক্যাম্পের খুব কাছেই গড়ে উঠেছে সুমনের মাছ কাঁকড়ার আড়ত। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও প্রায় প্রতিদিনই সুমনের আড়োতে প্রকাশ্যে কাকড়া বিক্রি হয়। বন বিভাগের নাকের ডগায় কিভাবে এমন অবৈধ ব্যবসা চলে সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। এছাড়া ভিডিও ধারণকারী ইমরান হাওলাদার জানান, দলীয় পদ পদবী না থাকলেও অভিযুক্ত সুমন নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে দাবি করে সুন্দরবনে আধিপত্য বিস্তার করেছে। সুমন গরিব জেলেদের দারিদ্রতার সুযোগ‌ নিয়ে এসব জেলেদের সুন্দরবনে ববিভিন্ন অবৈধ কাজে ব্যবহার করছে। আর বৈদ্য মারি ফরেস্ট ক্যাম্প সংলগ্ন খালটি এখন এই চোরাকারবারীদের নিরাপদ রুট।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুমনের কাছে জানতে চাইলে বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি জানান, ” গতকাল আমি বিবাহ করেছি, আমি এখন শ্বশুর বাড়িতে আছি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বর্ষবর্তী হয়ে আমার ক্ষতি করার জন্য একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।