Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
রামপালের এক ইউনিট বন্ধ, উৎপাদন নেমেছে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা

দাবদাহে মরছে সাদা সোনা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 11:09:35 pm, Tuesday, 9 May 2023
  • 277 বার

 স্টাফ রিপোর্টার মোংলা

দীর্ঘদিন ধরে চলমান প্রচণ্ড দাবদাহ ও অনাবৃষ্টিতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার উপকূলের চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষিরা। মৌসুমের শুরুতে প্রথম দফায় ঘেরে ছাড়া পোনার বেশিরভাগই মারা গেছে দাবদাহে। দ্বিতীয় দফায় পোনা ছাড়া হলে সেগুলোও মারা যাচ্ছে। অথচ এখানে উৎপাদিত চিংড়ি ও কাঁকড়ার সিংহভাগই রপ্তানি হয় বিদেশে।উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, মোংলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার চিংড়ির ঘের রয়েছে। তার মধ্যে পশুর নদীর ড্রেজিংয়ের বালু ফেলায় শুধু চিলা ইউনিয়নেই প্রায় ৩০০ ঘের ভরাট হয়ে ঘেরের সংখ্যা কমে গেছে। এছাড়া শিল্পায়নের কারণে বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের ঘেরের সংখ্যা কমেছে দেড়শর মতো। নানা কারণে উপজেলায় ঘেরের সংখ্যা কমে আসছে। অথচ এখানকার বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবিকা ও আয়ের একমাত্র উৎস হলো এ ঘের। ঘের কমে যাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাব মতে, উপজেলায় নিবন্ধিত বাগদা চিংড়ির ঘেরের সংখ্যা ৫ হাজার ৪৮৬টি। গলদা চিংড়ির ঘের ২ হাজর ৯৬০টি। তবে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিতসহ মোট ঘেরের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১২ হাজার। সাড়ে ১২ হাজার ঘেরের মধ্যে প্রায় ৫০০ ঘের কমে গেছে ভরাট ও শিল্পায়নে। প্রতিবছর এখানকার বাগদা চিংড়ির ঘেরে ১০ কোটি আর গলদা চিংড়ির ঘেরে ৩ কোটি পোনা ছাড়েন ঘের মালিকরা। তবে সে তুলনায় চিংড়ি উৎপাদন হচ্ছে খুবই কম। এর মধ্যে দাবদাহে মরে যাচ্ছে পোনা।মিঠাখালী ইউনিয়নের চিংড়ি ঘের মালিক মাহমুদ হাসান ছোট মনি ও সুমেল সারাফাত  বলেন, ‘আমাদের আটি ঘেরে প্রথম দফায় যে পোনা ছেড়েছিলাম তার ৯৫ শতাংশই মারা গেছে। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় যে পোনা ছেড়েছি তাও প্রতিনিয়ত মরে যাচ্ছে। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ও পানিতে অতিমাত্রার লবণাক্ততায় পোনা মারা যাচ্ছে।চিলা ইউনিয়নের ঘের মালিক আবু হোসেন পনি বলেন, ‘মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আট দফায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার পোনা ছেড়েছি। কিন্তু মাছ পেয়েছি মাত্র ৮ হাজার টাকার। বাকি মাছ মরে গেছে গরম ও লবণে (লবণাক্ততায়)।’চাঁদপাই ইউনিয়নের ঘের ব্যবসায়ী মোল্লা তারিকুল ইসলাম, সুন্দরবন ইউনিয়নের ঘের ব্যবসায়ী ইব্রাহিম হোসেন ও বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের ঘের ব্যবসায়ী কাকন শেখ  বলেন, আমরা ঘের করে দিন দিন লোকসানে রয়েছি।চিলা ও চাঁদপাই ইউনিয়নের কাঁকড়া চাষি রিমু বিশ্বাস ও তপন গোলদার বলেন, ‘আমাদের কাঁকড়ার ঘের রয়েছে। তবে যে পরিমাণ গরম পড়ছে তাতে কাঁকড়ার ক্ষতি হচ্ছে। দাবদাহে ঘেরের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টিও হচ্ছে না। কাঁকড়া রাখার জায়গা বারবার পাল্টাতে হচ্ছে।’করোনাকালে নানা সমস্যার কারণে ঘেরের উৎপাদন কমে গিয়েছিল ৪০-৪৫ শতাংশ। এরপর ধীরে ধীরে ঘেরের উৎপাদন কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসতে শুরু করে। কিন্তু চলতি মৌসুমের মার্চ-এপ্রিলে প্রচণ্ড দাবদাহ ও লবণাক্ততার কারণে বেশিরভাগ ঘেরের মাছ মরে যায়। দফায় দফায় পোনা ছাড়লেও আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন না চাষিরা।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচণ্ড দাবদাহ, অনাবৃষ্টি, ঘেরের গভীরতা কম থাকা, পানিতে অতিমাত্রার লবণাক্ততা, দুর্বল পোনা ও পর্যাপ্ত খাবার দেওয়ায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব কারণেই প্রতিনিয়ত ঘেরের মাছ মরছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচণ্ড দাবদাহ, অনাবৃষ্টি, ঘেরের গভীরতা কম থাকা, পানিতে অতিমাত্রার লবণাক্ততা, দুর্বল পোনা ও পর্যাপ্ত খাবার দেওয়ায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব কারণেই প্রতিনিয়ত ঘেরের মাছ মরছে।উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, এখানে ডিসেম্বর থেকে জুলাই পর্যন্ত বাগদা ও অক্টোবর পর্যন্ত গলদার চাষ হয়। কেউ ডিসেম্বরে, কেউ জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ঘেরে পোনা ছাড়েন। তবে এখানকার ঘেরগুলোতে প্রথম দফায় ছাড়া মাছ মার্চ-এপ্রিলে বিশেষ করে রমজান মাসেই বেশি মারা গেছে। কারণ রমজানজুড়ে প্রচণ্ড দাবদাহ ছিল এখানে।তিনি বলেন, ঘেরগুলোতে গভীরতা কমপক্ষে তিন ফুট থাকা প্রয়োজন। সেখানে বেশিরভাগ ঘেরে রয়েছে এক থেকে দেড় ফুট গভীরতা। এতে প্রচণ্ড দাবদাহ ও গরমে পানি উত্তপ্ত এবং বাষ্পীভূত হচ্ছে। তাতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় মাছ মারা যাচ্ছে। তাই চাষিদের ঘেরের গভীরতা বৃদ্ধি, প্রতিদিন একবার হলেও মানসম্মত খাবার ও চুন ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালের এক ইউনিট বন্ধ, উৎপাদন নেমেছে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে

দাবদাহে মরছে সাদা সোনা

আপডেট টাইম : 11:09:35 pm, Tuesday, 9 May 2023

 স্টাফ রিপোর্টার মোংলা

দীর্ঘদিন ধরে চলমান প্রচণ্ড দাবদাহ ও অনাবৃষ্টিতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার উপকূলের চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষিরা। মৌসুমের শুরুতে প্রথম দফায় ঘেরে ছাড়া পোনার বেশিরভাগই মারা গেছে দাবদাহে। দ্বিতীয় দফায় পোনা ছাড়া হলে সেগুলোও মারা যাচ্ছে। অথচ এখানে উৎপাদিত চিংড়ি ও কাঁকড়ার সিংহভাগই রপ্তানি হয় বিদেশে।উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, মোংলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার চিংড়ির ঘের রয়েছে। তার মধ্যে পশুর নদীর ড্রেজিংয়ের বালু ফেলায় শুধু চিলা ইউনিয়নেই প্রায় ৩০০ ঘের ভরাট হয়ে ঘেরের সংখ্যা কমে গেছে। এছাড়া শিল্পায়নের কারণে বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের ঘেরের সংখ্যা কমেছে দেড়শর মতো। নানা কারণে উপজেলায় ঘেরের সংখ্যা কমে আসছে। অথচ এখানকার বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবিকা ও আয়ের একমাত্র উৎস হলো এ ঘের। ঘের কমে যাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাব মতে, উপজেলায় নিবন্ধিত বাগদা চিংড়ির ঘেরের সংখ্যা ৫ হাজার ৪৮৬টি। গলদা চিংড়ির ঘের ২ হাজর ৯৬০টি। তবে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিতসহ মোট ঘেরের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১২ হাজার। সাড়ে ১২ হাজার ঘেরের মধ্যে প্রায় ৫০০ ঘের কমে গেছে ভরাট ও শিল্পায়নে। প্রতিবছর এখানকার বাগদা চিংড়ির ঘেরে ১০ কোটি আর গলদা চিংড়ির ঘেরে ৩ কোটি পোনা ছাড়েন ঘের মালিকরা। তবে সে তুলনায় চিংড়ি উৎপাদন হচ্ছে খুবই কম। এর মধ্যে দাবদাহে মরে যাচ্ছে পোনা।মিঠাখালী ইউনিয়নের চিংড়ি ঘের মালিক মাহমুদ হাসান ছোট মনি ও সুমেল সারাফাত  বলেন, ‘আমাদের আটি ঘেরে প্রথম দফায় যে পোনা ছেড়েছিলাম তার ৯৫ শতাংশই মারা গেছে। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় যে পোনা ছেড়েছি তাও প্রতিনিয়ত মরে যাচ্ছে। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ও পানিতে অতিমাত্রার লবণাক্ততায় পোনা মারা যাচ্ছে।চিলা ইউনিয়নের ঘের মালিক আবু হোসেন পনি বলেন, ‘মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আট দফায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার পোনা ছেড়েছি। কিন্তু মাছ পেয়েছি মাত্র ৮ হাজার টাকার। বাকি মাছ মরে গেছে গরম ও লবণে (লবণাক্ততায়)।’চাঁদপাই ইউনিয়নের ঘের ব্যবসায়ী মোল্লা তারিকুল ইসলাম, সুন্দরবন ইউনিয়নের ঘের ব্যবসায়ী ইব্রাহিম হোসেন ও বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের ঘের ব্যবসায়ী কাকন শেখ  বলেন, আমরা ঘের করে দিন দিন লোকসানে রয়েছি।চিলা ও চাঁদপাই ইউনিয়নের কাঁকড়া চাষি রিমু বিশ্বাস ও তপন গোলদার বলেন, ‘আমাদের কাঁকড়ার ঘের রয়েছে। তবে যে পরিমাণ গরম পড়ছে তাতে কাঁকড়ার ক্ষতি হচ্ছে। দাবদাহে ঘেরের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টিও হচ্ছে না। কাঁকড়া রাখার জায়গা বারবার পাল্টাতে হচ্ছে।’করোনাকালে নানা সমস্যার কারণে ঘেরের উৎপাদন কমে গিয়েছিল ৪০-৪৫ শতাংশ। এরপর ধীরে ধীরে ঘেরের উৎপাদন কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসতে শুরু করে। কিন্তু চলতি মৌসুমের মার্চ-এপ্রিলে প্রচণ্ড দাবদাহ ও লবণাক্ততার কারণে বেশিরভাগ ঘেরের মাছ মরে যায়। দফায় দফায় পোনা ছাড়লেও আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন না চাষিরা।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচণ্ড দাবদাহ, অনাবৃষ্টি, ঘেরের গভীরতা কম থাকা, পানিতে অতিমাত্রার লবণাক্ততা, দুর্বল পোনা ও পর্যাপ্ত খাবার দেওয়ায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব কারণেই প্রতিনিয়ত ঘেরের মাছ মরছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচণ্ড দাবদাহ, অনাবৃষ্টি, ঘেরের গভীরতা কম থাকা, পানিতে অতিমাত্রার লবণাক্ততা, দুর্বল পোনা ও পর্যাপ্ত খাবার দেওয়ায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব কারণেই প্রতিনিয়ত ঘেরের মাছ মরছে।উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, এখানে ডিসেম্বর থেকে জুলাই পর্যন্ত বাগদা ও অক্টোবর পর্যন্ত গলদার চাষ হয়। কেউ ডিসেম্বরে, কেউ জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ঘেরে পোনা ছাড়েন। তবে এখানকার ঘেরগুলোতে প্রথম দফায় ছাড়া মাছ মার্চ-এপ্রিলে বিশেষ করে রমজান মাসেই বেশি মারা গেছে। কারণ রমজানজুড়ে প্রচণ্ড দাবদাহ ছিল এখানে।তিনি বলেন, ঘেরগুলোতে গভীরতা কমপক্ষে তিন ফুট থাকা প্রয়োজন। সেখানে বেশিরভাগ ঘেরে রয়েছে এক থেকে দেড় ফুট গভীরতা। এতে প্রচণ্ড দাবদাহ ও গরমে পানি উত্তপ্ত এবং বাষ্পীভূত হচ্ছে। তাতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় মাছ মারা যাচ্ছে। তাই চাষিদের ঘেরের গভীরতা বৃদ্ধি, প্রতিদিন একবার হলেও মানসম্মত খাবার ও চুন ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।