Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে IELTS ও জাপানি ভাষা শিক্ষা নিয়ে সেমিনার
আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর আর নিরীহ ও সহজ সরল সাধারণ মানুষের পাশে থাকার আহবান

চার চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন ওসির মোংলা থানায় যোগদান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 10:38:24 pm, Wednesday, 10 May 2023
  • 142 বার

স্টাফ রিপোর্টার , মোংলা

চর্তুমুখী চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন যোগদান করেছে মোংলা থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ সামসুদ্দীন। (৪ মে) বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মোংলা থানায় যোগদান করেন। এর আগে দীর্ঘদিন সুনামের সাথে তিনি রামপাল থানায় ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে মোংলা থানায় যোগদানের পর বিভিন্ন মহলে চলছে জল্পনা-কল্পনা। মোংলার বহুবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর আর সততা ও নিরপেক্ষতা রক্ষা করতে পারবে তো তিনি ? ইতি পুর্বে এ থানায় দায়ীত্বে থাকা অফিসারদের কার্যক্রম অনুসরণ করে তিনি যেন এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশী নিরিহ ও অসহায় মানুষের পাশে থাকার দাবী সাধারণ মানুষের।সুত্র জানায়, পুলিশ একটি সেবা মূলক বাহিনী, থানার একজন অফিসার ইনচার্জের কাছে সাধারণ মানুষগুলো অনেক কিছুই আশা ও ভরসা করে থাকে। অসহায় মানুষগুলো বিপদে পড়লে অথবা কোন জায়গায় স্থান না পেলে তখনই আশ্রায় নিতে যায় থানা পুলিশের কাছে। কিন্তু প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তারা সেই অসহাত্বটাকে পুজি করে ক্ষমতাশীনদের পক্ষ নিয়ে গরিব ও সহজ সরল মানুষদের হয়রানী করে থাকে। তখন কোন জায়গায় ঠাই না পেয়ে মনের চাঁপা কষ্ট নিয়ে সৃস্টি কর্তার কাছে নালিশ দেয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না এ সকল মানুষগুলোর। তিনি প্রশাসনের এমন একজন কর্মকর্তা-উপজেলার সকল বিষয়ই তার পদচারণার প্রয়োজন বলে মনে করেণ সচেতন মহলের সকলেই। আর এ চ্যালেঞ্জগুলো শক্ত হস্তে মোকাবেলা করতে পারলেই তিনি হবেন সাধারণ মানুষের কাছে সব চেয়ে প্রিয়জন।প্রথমত-বহু দিন থেকেই মোংলা উপজেলা ব্যাপি চলছে মাদকরে ছড়াছড়ি। যা শহর থেকে শুরু করে এখন গ্রাম পর্যায় পৌছে গেছে। যা নিয়ন্ত্রন বা দমন করতে প্রশাসনকে হিমসিম খেতে হচ্ছে। মাঝে মধ্যে পুলিশ, কোস্টগার্ড বা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করলেও বড় বড় গডফাদাররা রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ মাদকের পিছনে রয়েছে বেশ প্রভাবশালীদের হাত। তারাই প্রশাসন থেকে শুরু করে সকল ঘাট-অঘাট সব কিছুই নিয়ন্ত্রন করছে। অনেককেই দেখা গেছে মিছিলের সামনে থেকে মাদক মুক্ত মোংলা চাই শ্লোগান দিতে, অথচ-তাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্য শহর থেকে মাদকের চালান আনা-পাচার বা বিক্রির ব্যাপারে পুরো মোংলা নিয়ন্ত্রন করছে। তা হলে কিভাবে গড়া হবে মাদক মুক্ত মোংলা। যুব সমাজকে রক্ষা করতে এটাই হলো তার প্রথমত চ্যালেঞ্জ, যা ওসির কাছে আশা করছে এখানকার মানুষ।দ্বিতীয়ত-মোংলা বন্দর দেশের একটি বড় সমুদ্র বন্দর, যেখানে দেশী-বিদেশী আমদানীকারকরা বানিজ্যিক জাহাজ বোঝাই করে পন্য আনা-নেয়া করছে। আর এখানে বন্দর কেন্দ্রীক গড়ে উঠছে একটি পন্য পাচারকারী সিন্ডিকেট চক্র। যেমন, গম, চাল, সার, কয়লা, তেল ও মেশিনারিজ সহ বিভিন্ন প্রকারের দেশী-বিদেশী পন্য পাচারের সাথে জড়িত তারা। তবে এ দিয়ে কিছু সুযোগ যোগানেরও অফশন রয়েছে প্রশাসনের অনেকেরই। কিন্ত বন্দর থেকে পন্য পাচারের বিষয়টি ফলাও করে প্রচার হলে আন্তজার্তিক পরিমন্ডলে মোংলার সুনাম নষ্ট হয়ে থাকে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, এর পিছনেও রয়েছে একটি বড় প্রভাবশালী গ্রুপ। তাদের প্রত্যাক্ষ সহায়তায় অহরাহ পাচার হচ্ছে এসব পন্য, যা এখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছে এ পাচারকারীরা। এছাড়া, সুন্দরবনেও রয়েছে বন্যপ্রানী ও বিশাল বনজ সম্পদ। তাই এখানকার পন্য ও বনজ সম্পদ পাচার রোধে পুলিশের একটি বড় ভুমিকা রয়েছে।তৃতীয়-মোংলা উপজেলা জুড়ে ব্যাক্তি মালিকাধীন জমি-জমা নিয়ে রয়েছে একটি বড় সমস্যা। দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন হলে এ নিয়ে চলে বিশাল ক্ষমতার বানিজ্য। কার জমি কে দখল করবে, কে কোন দলের সমর্থক বা কে কি করেছিল তাই নিয়ে চলে প্রতিহিংসা। আর এ অঙ্গনেও ক্ষমতাবানদের প্রতিযোগীতার রাজত্ব বেড়ে যায়। একটি কথা প্রচলন আছে “ক্ষমতা যার-জমি বা ঘের তার” যার যত ক্ষমতা, সে ততো জমি বা মৎস্য ঘেরে মালিক হবে, এমনটাই চলে আসছে বহু দিন থেকে। আর তখনই নিরীহ ও সহজ সরল মানুষগুলো পরে যায় মহা-বিপদে। সম্প্রতি এ অঞ্চলের জমির দাম ১০/২০ গুন বেড়ে যাওয়া আরো বেশী সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। তাই স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেতৃবৃন্দরা পক্ষপাতিত্বের কারণে অনুপায় হয়ে আশ্রয় নিতে যায় পুলিশ প্রশাসনের কাছে। সেখানেও যদি প্রতারিত হতে হয়, তখন তাদের যাওয়ার জায়গা থাকে শুধু সৃষ্টিকর্তার কাছে। এছাড়া উপায় কি ? এ অসহায় মানুষগুলোর।চতুর্থ-রাজনৈতিক অস্থিরতা। বর্তমানে কিছু সুবিধাভোগী রাজনৈতিক ব্যাক্তির আর্ভিভাব ঘটেছে। আগে অন্য দলের নেতা বা সমর্থক ছিল, এখন পিঠ বাঁচানো দায় বর্তমান রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছে। এরাই এখন দলীয় কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তার করতে উঠে পরে লেগেছে। আর তাদের দিয়ে কিছু অসাধু নেতা-কর্মীরা ফায়দা লুটছে। হাই কমান্ডের নির্দেশ অমান্য করে দলকে বিপদে ফেলতে অনেকেই প্রতিযোগীতায় নেমেছে, কে কত টাকা বা গাড়ী বাড়ির মালিক হওয়া যায়। আর এ কর্মকান্ডে দলের মধ্যে দেখা দেয় গ্রুপিং কোন্দল সহ নানা রাজনৈতিক জটিলতা। তখনই শুরু হয় কোন গ্রুপের ক্ষমতা কতটুকু। আর সেই ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর মধ্যে পড়ে নিঃস্ব হতে হয় নিরীহ সহজ সরল মানুষগুলো। তাই প্রতিহিংসা মুলক রাজনৈতিক সহ নানা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রশাসনকেও পড়তে হয় বিপাকে। তবে বর্তমান রাজনৈকি দলের মধ্যে রয়েছে অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মীরা। তারা অনেকেই দলের প্রধান সহ উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দকে ভালোবেসে নিবেদিত প্রান হয়ে কাজ করে যাচ্ছে নিরবে। আর সেখানেও পুলিশের ভুমিকা রয়েছে অপরিসীম। তবে সাধারণ মানুষেরা বলছে, এ বহু মাত্রিক সমস্যা সমাধানে পুলিশ প্রশাসনকে হতে হবে কঠোর ও পক্ষপাতহীনতা। তা হলেই স্বস্তি ফিরবে সাধারণ খেটে খাওয়া সহজ সরল মানুষদের মাঝে। তার পরেও বর্তমান মোংলা থানায় সদ্য যোগদান করা অফিসার ইনচার্জকে অভিনন্দন জানিয়েছে এখানকার বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষেরা। তিনি এ সকল চ্যালেঞ্জগুলো কঠোর হস্তে দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন সহ নিজের কার্য পরিচালনা করবে আর অসহায় মানুষগুলোর আশ্রয়দাতা ও সার্বিক সহযোগিতা করবে এমনটাই মনে করেন অনেকেই।নতুন যোগদান করা ওসি তিনি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করনে। ব্যক্তি জীবনে তিনি দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক।গতকাল বিকালে সংবাদকর্মীদের সাথে পরিচিতি পর্বে থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ সামসুদ্দীন বলেন, পুলিশ একটি সেবা মূলক বাহিনী। আপনাদের সকলের সহযোগিতা পেলে মোংলা এলাকাকে মাদক, চোরাচালান, জমি দখল ও সন্ত্রাস মুক্ত করতে চাই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দুর্নিতীমুক্ত ডিজিটাল দেশ গড়তে সহায়তা সহ সকলে মিলেমিশে একসাথে এলাকার আইন-শূঙ্খলা রক্ষায় কাজ করতে হবে। তাই দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন মোংলা থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সামসুদ্দীন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর আর নিরীহ ও সহজ সরল সাধারণ মানুষের পাশে থাকার আহবান

চার চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন ওসির মোংলা থানায় যোগদান

আপডেট টাইম : 10:38:24 pm, Wednesday, 10 May 2023

স্টাফ রিপোর্টার , মোংলা

চর্তুমুখী চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন যোগদান করেছে মোংলা থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ সামসুদ্দীন। (৪ মে) বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মোংলা থানায় যোগদান করেন। এর আগে দীর্ঘদিন সুনামের সাথে তিনি রামপাল থানায় ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে মোংলা থানায় যোগদানের পর বিভিন্ন মহলে চলছে জল্পনা-কল্পনা। মোংলার বহুবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর আর সততা ও নিরপেক্ষতা রক্ষা করতে পারবে তো তিনি ? ইতি পুর্বে এ থানায় দায়ীত্বে থাকা অফিসারদের কার্যক্রম অনুসরণ করে তিনি যেন এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশী নিরিহ ও অসহায় মানুষের পাশে থাকার দাবী সাধারণ মানুষের।সুত্র জানায়, পুলিশ একটি সেবা মূলক বাহিনী, থানার একজন অফিসার ইনচার্জের কাছে সাধারণ মানুষগুলো অনেক কিছুই আশা ও ভরসা করে থাকে। অসহায় মানুষগুলো বিপদে পড়লে অথবা কোন জায়গায় স্থান না পেলে তখনই আশ্রায় নিতে যায় থানা পুলিশের কাছে। কিন্তু প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তারা সেই অসহাত্বটাকে পুজি করে ক্ষমতাশীনদের পক্ষ নিয়ে গরিব ও সহজ সরল মানুষদের হয়রানী করে থাকে। তখন কোন জায়গায় ঠাই না পেয়ে মনের চাঁপা কষ্ট নিয়ে সৃস্টি কর্তার কাছে নালিশ দেয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না এ সকল মানুষগুলোর। তিনি প্রশাসনের এমন একজন কর্মকর্তা-উপজেলার সকল বিষয়ই তার পদচারণার প্রয়োজন বলে মনে করেণ সচেতন মহলের সকলেই। আর এ চ্যালেঞ্জগুলো শক্ত হস্তে মোকাবেলা করতে পারলেই তিনি হবেন সাধারণ মানুষের কাছে সব চেয়ে প্রিয়জন।প্রথমত-বহু দিন থেকেই মোংলা উপজেলা ব্যাপি চলছে মাদকরে ছড়াছড়ি। যা শহর থেকে শুরু করে এখন গ্রাম পর্যায় পৌছে গেছে। যা নিয়ন্ত্রন বা দমন করতে প্রশাসনকে হিমসিম খেতে হচ্ছে। মাঝে মধ্যে পুলিশ, কোস্টগার্ড বা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করলেও বড় বড় গডফাদাররা রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ মাদকের পিছনে রয়েছে বেশ প্রভাবশালীদের হাত। তারাই প্রশাসন থেকে শুরু করে সকল ঘাট-অঘাট সব কিছুই নিয়ন্ত্রন করছে। অনেককেই দেখা গেছে মিছিলের সামনে থেকে মাদক মুক্ত মোংলা চাই শ্লোগান দিতে, অথচ-তাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্য শহর থেকে মাদকের চালান আনা-পাচার বা বিক্রির ব্যাপারে পুরো মোংলা নিয়ন্ত্রন করছে। তা হলে কিভাবে গড়া হবে মাদক মুক্ত মোংলা। যুব সমাজকে রক্ষা করতে এটাই হলো তার প্রথমত চ্যালেঞ্জ, যা ওসির কাছে আশা করছে এখানকার মানুষ।দ্বিতীয়ত-মোংলা বন্দর দেশের একটি বড় সমুদ্র বন্দর, যেখানে দেশী-বিদেশী আমদানীকারকরা বানিজ্যিক জাহাজ বোঝাই করে পন্য আনা-নেয়া করছে। আর এখানে বন্দর কেন্দ্রীক গড়ে উঠছে একটি পন্য পাচারকারী সিন্ডিকেট চক্র। যেমন, গম, চাল, সার, কয়লা, তেল ও মেশিনারিজ সহ বিভিন্ন প্রকারের দেশী-বিদেশী পন্য পাচারের সাথে জড়িত তারা। তবে এ দিয়ে কিছু সুযোগ যোগানেরও অফশন রয়েছে প্রশাসনের অনেকেরই। কিন্ত বন্দর থেকে পন্য পাচারের বিষয়টি ফলাও করে প্রচার হলে আন্তজার্তিক পরিমন্ডলে মোংলার সুনাম নষ্ট হয়ে থাকে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, এর পিছনেও রয়েছে একটি বড় প্রভাবশালী গ্রুপ। তাদের প্রত্যাক্ষ সহায়তায় অহরাহ পাচার হচ্ছে এসব পন্য, যা এখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছে এ পাচারকারীরা। এছাড়া, সুন্দরবনেও রয়েছে বন্যপ্রানী ও বিশাল বনজ সম্পদ। তাই এখানকার পন্য ও বনজ সম্পদ পাচার রোধে পুলিশের একটি বড় ভুমিকা রয়েছে।তৃতীয়-মোংলা উপজেলা জুড়ে ব্যাক্তি মালিকাধীন জমি-জমা নিয়ে রয়েছে একটি বড় সমস্যা। দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন হলে এ নিয়ে চলে বিশাল ক্ষমতার বানিজ্য। কার জমি কে দখল করবে, কে কোন দলের সমর্থক বা কে কি করেছিল তাই নিয়ে চলে প্রতিহিংসা। আর এ অঙ্গনেও ক্ষমতাবানদের প্রতিযোগীতার রাজত্ব বেড়ে যায়। একটি কথা প্রচলন আছে “ক্ষমতা যার-জমি বা ঘের তার” যার যত ক্ষমতা, সে ততো জমি বা মৎস্য ঘেরে মালিক হবে, এমনটাই চলে আসছে বহু দিন থেকে। আর তখনই নিরীহ ও সহজ সরল মানুষগুলো পরে যায় মহা-বিপদে। সম্প্রতি এ অঞ্চলের জমির দাম ১০/২০ গুন বেড়ে যাওয়া আরো বেশী সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। তাই স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেতৃবৃন্দরা পক্ষপাতিত্বের কারণে অনুপায় হয়ে আশ্রয় নিতে যায় পুলিশ প্রশাসনের কাছে। সেখানেও যদি প্রতারিত হতে হয়, তখন তাদের যাওয়ার জায়গা থাকে শুধু সৃষ্টিকর্তার কাছে। এছাড়া উপায় কি ? এ অসহায় মানুষগুলোর।চতুর্থ-রাজনৈতিক অস্থিরতা। বর্তমানে কিছু সুবিধাভোগী রাজনৈতিক ব্যাক্তির আর্ভিভাব ঘটেছে। আগে অন্য দলের নেতা বা সমর্থক ছিল, এখন পিঠ বাঁচানো দায় বর্তমান রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছে। এরাই এখন দলীয় কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তার করতে উঠে পরে লেগেছে। আর তাদের দিয়ে কিছু অসাধু নেতা-কর্মীরা ফায়দা লুটছে। হাই কমান্ডের নির্দেশ অমান্য করে দলকে বিপদে ফেলতে অনেকেই প্রতিযোগীতায় নেমেছে, কে কত টাকা বা গাড়ী বাড়ির মালিক হওয়া যায়। আর এ কর্মকান্ডে দলের মধ্যে দেখা দেয় গ্রুপিং কোন্দল সহ নানা রাজনৈতিক জটিলতা। তখনই শুরু হয় কোন গ্রুপের ক্ষমতা কতটুকু। আর সেই ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর মধ্যে পড়ে নিঃস্ব হতে হয় নিরীহ সহজ সরল মানুষগুলো। তাই প্রতিহিংসা মুলক রাজনৈতিক সহ নানা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রশাসনকেও পড়তে হয় বিপাকে। তবে বর্তমান রাজনৈকি দলের মধ্যে রয়েছে অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মীরা। তারা অনেকেই দলের প্রধান সহ উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দকে ভালোবেসে নিবেদিত প্রান হয়ে কাজ করে যাচ্ছে নিরবে। আর সেখানেও পুলিশের ভুমিকা রয়েছে অপরিসীম। তবে সাধারণ মানুষেরা বলছে, এ বহু মাত্রিক সমস্যা সমাধানে পুলিশ প্রশাসনকে হতে হবে কঠোর ও পক্ষপাতহীনতা। তা হলেই স্বস্তি ফিরবে সাধারণ খেটে খাওয়া সহজ সরল মানুষদের মাঝে। তার পরেও বর্তমান মোংলা থানায় সদ্য যোগদান করা অফিসার ইনচার্জকে অভিনন্দন জানিয়েছে এখানকার বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষেরা। তিনি এ সকল চ্যালেঞ্জগুলো কঠোর হস্তে দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন সহ নিজের কার্য পরিচালনা করবে আর অসহায় মানুষগুলোর আশ্রয়দাতা ও সার্বিক সহযোগিতা করবে এমনটাই মনে করেন অনেকেই।নতুন যোগদান করা ওসি তিনি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করনে। ব্যক্তি জীবনে তিনি দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক।গতকাল বিকালে সংবাদকর্মীদের সাথে পরিচিতি পর্বে থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ সামসুদ্দীন বলেন, পুলিশ একটি সেবা মূলক বাহিনী। আপনাদের সকলের সহযোগিতা পেলে মোংলা এলাকাকে মাদক, চোরাচালান, জমি দখল ও সন্ত্রাস মুক্ত করতে চাই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দুর্নিতীমুক্ত ডিজিটাল দেশ গড়তে সহায়তা সহ সকলে মিলেমিশে একসাথে এলাকার আইন-শূঙ্খলা রক্ষায় কাজ করতে হবে। তাই দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন মোংলা থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সামসুদ্দীন।