Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে IELTS ও জাপানি ভাষা শিক্ষা নিয়ে সেমিনার

মোংলায় আওয়ামী লীগের একপক্ষের হামলায় অপরপক্ষের ৮ জন গুরুতর রক্তাক্ত জখম

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 07:42:36 pm, Sunday, 9 July 2023
  • 127 বার

স্টাফ রির্পোটার, মোংলা

মোংলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিবদমান দ্বন্ধের জেরে একপক্ষের হামলায় অপরপক্ষের ৮জন রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে ৪জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
অবশেষে ঘটনায় একদিন পর মামলা নেয় পুলিশ। তবে ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সশস্ত্র হামলাকারী আসামীদের আটক না করার রহস্যজনক নির্বিকার ভূমিকা ও থানায় মামলা নিতে বিলম্বের ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

আহতদের পরিবার জানান ও মামলার বিবরণে জানা যায়, তুচ্ছ ঘটনা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের সোনাইলতলা এলাকায় বিবদমান আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরে ছোটখাটো হামলা-মারধরের ঘটনা ঘটে আসছিলো। সেই সকল হামলা-মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও পুলিশের রহস্যজনক নির্বিকার ভূমিকায় হামলাকারীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। পূর্বে কয়েক দফার হামলাকারীরাই শুক্রবার সন্ধ্যায় তৃতীয় দফায় আবারো হামলা চালায় প্রতিপক্ষের উপর।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সোনাইলতলার মান্দারতলা খালের উপরের ২০০মিটার নামক ব্রিজে দাঁড়িয়ে ফুসকা খাচ্ছিলো মোঃ মারুফ শেখ (৩৯)। তখন একই এলাকার রেজাউল সরদার (৪৪) গং দা, কুড়াল, লাঠি, রড নিয়ে আকস্মিক হামলায় চালায় মারুফের উপর। এ সময় মারুফের ডাক-চিৎকারে তার আশপাশের লোকজন ও আত্মীয়স্বজনেরা ছুটে এলে তাদেরকেও কুপিয়ে, পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন রেজাউল গং। রেজাউল গংয়ের হামলায় মারুফ শেখ, মাসুদ রানা, টিটু শেখ, মেহেদী হাসান, জিলানী কাজী, তোতা মিয়া ওফিরোজ শেখ মারাত্মক জখম হন। গুরুতর আহতাবস্থা তাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করে শুক্রবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় ওই রাতেই মারাত্মক জখমপ্রাপ্ত টিটু শেখ, মেহেদী হাসান, জিলানী কাজী ও তোতা মিয়াকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এদের প্রত্যেকের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কোপের ক্ষতের পাশাপাশি হাত ভেঙ্গেছে। একজনের মাথায় মারাত্মক কোপের ক্ষত আর তিনজনের ভেঙ্গেছে হাত।

স্থানীয়দের দেয়া খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও সেখান থেকে সশস্ত্র হামলাকারীদের আটক করেনি পুলিশ বলে অভিযোগ আহতদের পরিবারের। আহতদের পরিবারগুলো বলেন, এর আগে দুইবার রেজাউল গং তাদের উপর হামলা করে। সে ঘটনায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে পুলিশের নির্বিকার ভূমিকার কারণে রেজাউল গং আবারো শুক্রবার আমাদের উপর হামলা, মারপিট, ছিনতাই ও ভাংচুর চালায়। তারা বলেন, রেজাউল সরদার, আজিজ মল্লিক, আব্দুল্লাহ মল্লিক, হাবিব মল্লিক, সাইফুল মল্লিক, জাকারিয়া শেখ, মারুফ বিল্লাহ মল্লিক, জসিম মল্লিক, মারুফ শেখ, হাকিম শেখ, রাসেল শেখ ও ফরিদ শেখসহ আরো ৭/৮জনে মিলে কুপিয়ে ও মারপিট করে মারুফ শেখ, মাসুদ রানা, টিটু শেখ, মেহেদী হাসান, জিলানী কাজী, তোতা মিয়া ও ফিরোজ শেখকে রক্তাক্ত জখম করেন। এছাড়া দুইটি মোটরসাইকেল ভাংচুর, নগদ টাকা ও গলার স্বর্নের চেইন লুটে নেন হামলাকারীরা বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন বাদী মারুফ শেখ।

ঘটনাস্থল থেকে সশস্ত্র হামলাকারীদের আটক না করার বিষয়ে চটেরহাট পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোঃ রফিক বলেন, আমিসহ আমার সঙ্গীয় ফোর্স উর্ধতন কর্মকর্তার দেয়া নির্দেশনা পালন করেছি মাত্র। আর আগের হামলার ঘটনার অভিযোগ থানা থেকে আমি পাইনি, তো ব্যবস্থা নিবো কিভাবে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় হামলার শিকার মারুফ শেখ বাদী হয়ে শনিবার রাতে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দীন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। এরপর অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলা আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু

মোংলায় আওয়ামী লীগের একপক্ষের হামলায় অপরপক্ষের ৮ জন গুরুতর রক্তাক্ত জখম

আপডেট টাইম : 07:42:36 pm, Sunday, 9 July 2023

স্টাফ রির্পোটার, মোংলা

মোংলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিবদমান দ্বন্ধের জেরে একপক্ষের হামলায় অপরপক্ষের ৮জন রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে ৪জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
অবশেষে ঘটনায় একদিন পর মামলা নেয় পুলিশ। তবে ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সশস্ত্র হামলাকারী আসামীদের আটক না করার রহস্যজনক নির্বিকার ভূমিকা ও থানায় মামলা নিতে বিলম্বের ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

আহতদের পরিবার জানান ও মামলার বিবরণে জানা যায়, তুচ্ছ ঘটনা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের সোনাইলতলা এলাকায় বিবদমান আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরে ছোটখাটো হামলা-মারধরের ঘটনা ঘটে আসছিলো। সেই সকল হামলা-মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও পুলিশের রহস্যজনক নির্বিকার ভূমিকায় হামলাকারীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। পূর্বে কয়েক দফার হামলাকারীরাই শুক্রবার সন্ধ্যায় তৃতীয় দফায় আবারো হামলা চালায় প্রতিপক্ষের উপর।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সোনাইলতলার মান্দারতলা খালের উপরের ২০০মিটার নামক ব্রিজে দাঁড়িয়ে ফুসকা খাচ্ছিলো মোঃ মারুফ শেখ (৩৯)। তখন একই এলাকার রেজাউল সরদার (৪৪) গং দা, কুড়াল, লাঠি, রড নিয়ে আকস্মিক হামলায় চালায় মারুফের উপর। এ সময় মারুফের ডাক-চিৎকারে তার আশপাশের লোকজন ও আত্মীয়স্বজনেরা ছুটে এলে তাদেরকেও কুপিয়ে, পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন রেজাউল গং। রেজাউল গংয়ের হামলায় মারুফ শেখ, মাসুদ রানা, টিটু শেখ, মেহেদী হাসান, জিলানী কাজী, তোতা মিয়া ওফিরোজ শেখ মারাত্মক জখম হন। গুরুতর আহতাবস্থা তাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করে শুক্রবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় ওই রাতেই মারাত্মক জখমপ্রাপ্ত টিটু শেখ, মেহেদী হাসান, জিলানী কাজী ও তোতা মিয়াকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এদের প্রত্যেকের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কোপের ক্ষতের পাশাপাশি হাত ভেঙ্গেছে। একজনের মাথায় মারাত্মক কোপের ক্ষত আর তিনজনের ভেঙ্গেছে হাত।

স্থানীয়দের দেয়া খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও সেখান থেকে সশস্ত্র হামলাকারীদের আটক করেনি পুলিশ বলে অভিযোগ আহতদের পরিবারের। আহতদের পরিবারগুলো বলেন, এর আগে দুইবার রেজাউল গং তাদের উপর হামলা করে। সে ঘটনায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে পুলিশের নির্বিকার ভূমিকার কারণে রেজাউল গং আবারো শুক্রবার আমাদের উপর হামলা, মারপিট, ছিনতাই ও ভাংচুর চালায়। তারা বলেন, রেজাউল সরদার, আজিজ মল্লিক, আব্দুল্লাহ মল্লিক, হাবিব মল্লিক, সাইফুল মল্লিক, জাকারিয়া শেখ, মারুফ বিল্লাহ মল্লিক, জসিম মল্লিক, মারুফ শেখ, হাকিম শেখ, রাসেল শেখ ও ফরিদ শেখসহ আরো ৭/৮জনে মিলে কুপিয়ে ও মারপিট করে মারুফ শেখ, মাসুদ রানা, টিটু শেখ, মেহেদী হাসান, জিলানী কাজী, তোতা মিয়া ও ফিরোজ শেখকে রক্তাক্ত জখম করেন। এছাড়া দুইটি মোটরসাইকেল ভাংচুর, নগদ টাকা ও গলার স্বর্নের চেইন লুটে নেন হামলাকারীরা বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন বাদী মারুফ শেখ।

ঘটনাস্থল থেকে সশস্ত্র হামলাকারীদের আটক না করার বিষয়ে চটেরহাট পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোঃ রফিক বলেন, আমিসহ আমার সঙ্গীয় ফোর্স উর্ধতন কর্মকর্তার দেয়া নির্দেশনা পালন করেছি মাত্র। আর আগের হামলার ঘটনার অভিযোগ থানা থেকে আমি পাইনি, তো ব্যবস্থা নিবো কিভাবে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় হামলার শিকার মারুফ শেখ বাদী হয়ে শনিবার রাতে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দীন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। এরপর অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলা আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।