বাগেরহাট প্রতিনিধি
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। বাংলাদেশের শহর থেকে গ্রামজুড়েই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই উৎসব পালন করেন। এই উৎসব আয়োজনে ভক্ত-দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে বাগেরহাট সদর উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের শিকদার বাড়ি পূজার আয়োজন।দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় দুর্গা মন্ডপ খ্যাত এই বাগেরহাটের শিকদার বাড়ি।
প্রতিমার সংখ্যার দিক দিয়ে এই মন্ডপকে এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় মন্ডপ বলে দাবি করেন আয়োজকরা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় উৎসবে সিকদার বাড়িতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এবার দুর্গাপূজায় সিকদার বাড়িতে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে ৬৫ ফুট লম্বা কুম্ভকর্ণের ঘুমন্ত মূর্তি। আগামী ২০ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
সর্বপ্রথম ২০১১ সালে ২৫১টি প্রতিমা নিয়ে প্রথম দুর্গাপূজার জমকালো আয়োজন শুরু হয়। সেই থেকে প্রতিবছর বড় মহাধুমধামে পূজা হয়ে আসছে ব্যবসায়ি লিটন শিকদার এই বাড়িতে। ২০১৯ সালেও ৮০১টি প্রতিমা নিয়ে এই বাড়িতে পূজা উদযাপিত হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির জন্য পরবর্তী তিন বছর দুর্গোৎসবে বড় কোনো আয়োজন করা হয়নি এ মন্ডপে। এবছর আবারো এমন আয়োজনে খুশি হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও পলী যুগের পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে প্রতিমা তৈরী ও সাজসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভাস্কর্য শিল্পীরা।
বাগেরহাটের মির্জাপুর এলাকা থেকে প্রতিমা তৈরি দেখতে আসা পাপ্পু কুমার সাহা বলেন, করোনার আগে এই মন্ডপে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু গত তিন বছর করোনার কারণে সেভাবে পূজা হয়নি। এ বছর বড় করে পূজা হবে শুনে গায়ে রং দেওয়ার আগে ঠাকুর দেখতে এসেছি।
অরিন্দাম কুন্ডু নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ’শিকদার বাড়ির দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র এই এলাকায় অনেক বড় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সারা দেশ থেকে হিন্দু-মুসলমান লাখ লাখ মানুষ এই পূজা মন্ডপ দেখতে আসেন। পূজা মন্ডপের আশপাশে এক কিলোমিটার জুড়ে বসে বিভিন্ন খাবার ও খেলনার দোকান। কিন্তু গেল বছর করোনার কারণে এখানে স্বল্প পরিসরে পূজা হয়েছে। এবার আশা করি জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
ঝিনাইদাহ থেকে আসা অলোক বসু বলেন, প্রায় প্রতিবছর আমরা শিকদার বাড়িতে মায়ের দর্শন পেতে আসি। গত কয়েকবছর বড় করে পূজা হয় না। অফিসের কাজে বাগেরহাট এসেছি সেই সুবাদে দুই বন্ধু মিলে মায়ের প্রতিমা দেখে গেলাম। পূজা শুরু হলে পরিবার নিয়ে আবার আসবো।
অনিক সাহা নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, মন্ডপে ঘুরে প্রতিমা দেখে অভিভূত হয়েছি। সব ধর্মের মানুষ এই দুর্গোৎসবে মিলিত হবে। আশা করছি দেশের সেরা এ পূজা মন্ডপে দেশ-বিদেশের ভক্তরা ও দর্শনার্থীরা আসবেন। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে অংশ নিবেন।
শিকদার বাড়ি দুর্গাপূজার প্রধান প্রতিমা শিল্পী ভাস্কর তপন মন্ডল বলেন, শুরু থেকে আমরা এই বাড়িতে প্রতিমা তৈরি করি। সিকদার বাড়ি দুর্গাপূজার আয়োজক লিটন শিকদারের দিক নির্দেশনায় এবছর দূর্গামন্ডপে হিন্দু পৌরাণের চার যুগের বিভিন্ন কাহিনী অবলম্বনে ৫০১ টি প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। পুজার সময় দর্শনাথীরা যাতে সহজে প্রতিমা গুলোকে দর্শন করতে পারে সে লক্ষ্যে সারিবদ্ধ ভাবে কয়েকটি লাইনে প্রতিমা গুলো রাখা হয়েছে। প্রতি বছর অসংখ্য দেব-দেবীর প্রতিমার ভিতর একটি প্রধান আকর্ষণ রাখা হয়। এ বছর মন্ডপের প্রধান আকর্ষণ কুম্ভকর্ণের ৬৫ ফুটের ঘুমন্ত প্রতিমা, যার কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া অধিকাংশ প্রতিমার কাঠামো তৈরি ও ভাস্কর্য সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। এখন রং তুলির কাজ চলমান রয়েছে। আমরা পনেরো জন ভাস্কর-শিল্পী প্রতিমা তৈরি ও সাজ-সজ্জার কাজে নিয়েজিত রয়েছি। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের আগেই সকল কাজ সম্পন্ন হবে।
জেলা পূজা উদযাপন কমিটি বাগেরহাট এর সভাপতি নিলয় কুমার ভদ্র বলেন, অসংখ্য দেব-দেবীর প্রতিমা তৈরি করে পূজার আয়োজন করা হয় বলে সিকদার বাড়ির দুর্গা মন্ডপকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় দুর্গা মন্ডপ বলা হয়। বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার অসংখ্য মানুষ এ মন্ডপে আসেন। মহামরীর কারণে ২০১৯ এর পর থেকে তিন বছর শিকদার বাড়ির পূজা মন্ডপে সীমিত আকারে পূজা উদযাপিত হয়েছে। এ বছর পূর্বের ন্যায় আড়ম্বর ও বিশেষ আকর্ষণসহ ৫০১ টি প্রতিমা নিয়ে উৎসব উদযাপনের আয়োজন করেছে আয়োজক লিটন শিকদার। আশা করছি আবারও সিকদার বাড়ি দুর্গা মন্ডপে জাঁকজমকপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব পালিত হবে।
তিনি আরো বলেন, করোনা মহামারী ছাপিয়ে উঠে গত ২০২২ সালে বাগেরহাট জেলায় ৬৬৩ টি মন্ডপে পূজা উদযাপিত হয়েছিল। এবছর সেই সংখ্যা প্রায় ৭০০ থেকে ৭৫০ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত তিন বছর মহামারীর কারণে সারাদেশে পূজা কিছুটা কম জাঁকজমকের সাথে পালিত হয়েছে। তবে এবছর থেকে সেই রেশ কাটিয়ে পূর্বের ন্যায় আড়ম্বরের সাথে উৎসব পলিত হবে।
শিশুদের পড়িয়ে, হাটে বড়ই বিক্রি করে এসএসসিতে এ প্লাস পেল দুর্জয়
Reporter Name 



















