আল আমিন খান সুমন, বাগেরহাট
বাগেরহাটের শিকদার বাড়ি পূজা মন্ডপে মা দূর্গাকে বিষর্জনের মধ্য দিয়ে দক্ষিন
এশিয়ার সর্ববৃহৎ দূর্গা পূজার আয়োজন শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর)
সকাল ৯টা ৪২ সেকেন্ডে দশমী পূজার মধ্যদিয়ে দূর্গা পূজার শাস্ত্রীয় নিয়ম
কানুন শেষ হয়। এসময় উপস্থিত ভক্ত ও দর্শনার্থীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মায়ের
বিদায়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অনেকে। হাকিমপুর শিকদার বাড়ি মন্ডপে তৈরি
৫০১ প্রতিমানিয়ে পার্শ্ববর্তী মরা ভোলা নদীতে ফেলা (বিষর্জন) দেওয়া শুরু হয়।
রাত পর্যন্ত চলে প্রতিমা বিষর্জন প্রক্রিয়া।
এদিকে ৫০১ প্রতিমা নিয়ে দক্ষিন এশিয়ার বৃহত্তম দূর্গা পূজার আয়োজনকে
ঘীরে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেশী বিদেশী ভক্ত দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভীড় ছিল।
শুক্রবার (২০ অক্টোবর) সকালে ৬ষ্ঠী পূজার মাধ্যমে সনাতন ধর্মালম্বীদের মিলন মেলা
শুরু হয় শিকদার বাড়িতে। সময়ের সাথে সাথে ভীড় বাড়তে থাকে শিকদার বাড়িতে।
নানা শ্রেনি পেশা ও ধর্মের মানুষের আগমনে মুখড়িত হয় শিকদার বাড়ি মন্দির।
শুধু বাংলাদেশ নয়, পাশ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও ভক্ত দর্শনার্থীরা এসেছিলেন শিকদার
বাড়ি মন্দিরে।
শিকদার বাড়ির এই চোখ ধাধানো আয়োজন দেখতে, এবার খুলনায় নিযুক্ত ভারতীয়
সহকারি হাইকমিশনার ইন্দ্রোজিৎ সাগর, প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়ার সভাপতি
গৌতম লাহিড়ী, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাঃ খালিদ হোসেন, পুলিশ
সুপার আবুল হাসনাত খান, বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার
নাসির উদ্দিন, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিহার রঞ্জন সাহা, চিত্র নায়ক
রিয়াজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা শিকদার বাড়ির দূর্গা মন্ডপ ভ্রমন
করেছেন। আয়োজকদের দাবি পূজার পাঁচ দিনে কয়েক লক্ষ ভক্ত ও দর্শনার্থী
এসেছেন শিকদার বাড়িতে।
অন্যদিকে শিকদার বাড়ির এই দূর্গাপূজাকে ঘীরে এলাকায় স্থানীয়রাও ব্যাপক
উৎফুল্ল ছিলেন। মন্দিরের আশপাশে সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন পন্যের পশরা
সাজিয়ে বসেছিলেন অর্ধশতাধিক দোকানি। ভক্ত-দর্শনার্থীরাও নিজের পছন্দ
অনুযায়ী খাবার, খেলনা ও প্রয়োজনীয় পন্য ক্রয় করেছেন এখান থেকে।
এছাড়া করোনা মহামারিতে তিন বছরের সীমিত আয়োজনের পরে এবার ৫০১টি
প্রতিমা নিয়ে বড় আয়োজন করায় বাগেরহাটসহ আশপাশের সনাতন
ধর্মালম্বীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু শিকদার বাড়ি পূজা মন্ডপ। এবার ৫০১টি
প্রতিমা নিয়ে দূর্গা পূজার আয়োজন করা হয়েছিল এই মন্ডপে। সত্য, ত্রেতা,
দ্বাপর ও কলী যুগের পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে তৈরি প্রতিমাগুলো ছিল স্বতন্ত্র
বৈশিষ্টে উজ্জিবিত। এর মধ্যে সর্ববৃহৎ প্রতিমা ও মন্ডপের প্রধান আকর্ষণ ছিল
৬৫ ফুট দৈর্ঘ্যের ঘুমন্ত কুম্ভকর্ণ। এছাড়া মাহভারতের উল্লেখিত বিভিন্ন
উপাখ্যানের চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল প্রতিমার মাধ্যমে। এর পাশাপাশি
আয়োজক লিটন শিকদারের বাড়ি, মন্দিরের মূল ফটক ও আশপাশ এলাকা সাজানো
হয়েছিল বর্নিল সাজে। মূল আয়োজক ব্যবসায়ী লিটন শিকদারের বাড়িও
সাজানো হয়েছিল পূজাকে কেন্দ্র করে। চোখ ধাধানো এই আয়োজনে
অর্ধশতাধিক ডেকরেটর শ্রমিক কাজ করেছেন তিন মাসের বেশি সময় ধরে। ৫০১
প্রতিমা তৈরিতে ১৫ জন প্রতিমা শিল্পি কাজ করেছে ৫ মাস। সব কিছু
মিলিয়ে শিকদার বাড়ির এই আয়োজনকে প্রতিমার সংখ্যার দিক দিয়ে দক্ষিন
এশিয়ার বৃহত্তম আয়োজন দাবি করছেন আয়োজক ও স্থানীয়রা।
শিকদার বাড়ি দূর্গাপূজার আয়োজক ব্যবসায়ী লিটন শিকদার বলেন, মূলত
সনাতন ধর্মকে মানুষকে জানাতে আমরা ব্যতিক্রমী আায়োজন করে থাকি। এই
আয়োজন এখন আর আমার পারিবারিক আয়োজন নেই। এটা একটি সামাজিক
উৎসবে পরিনতে হয়েছে। প্রতিনিয়ত আমাদের এখানে আসা ভক্ত ও দর্শনার্থীর
সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরাও চেষ্টা করছি ভক্ত দর্শনার্থীদের ভাল মন জয় করার
সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে।
তিনি আরও বলেন, মা দূর্গাকে বিষর্জনের মাধ্যমে আমাদের এবারের উৎসব শেষ হল।
আসছে বছর আবারও বড় আয়োজন করব আমরা।
২০১০ সালে প্রথমবারের মত ১৫১টি প্রতিমা নিয়ে ব্যতিক্রমী দুর্গা পূজার
আয়োজন করেন বাগেরহাট সদর উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের গ্রাম্য চিকিৎসক
দুলাল শিকদার। পরের বছর ২০১১ সালে ২৫১ প্রতিমা নিয়ে আয়োজন করা হয় দূল্গা
পূঝার এরপর থেকে প্রতি বছরই বাড়তে থাকে প্রতিমার সংখ্যা। এর
ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে প্রতিমার সংখ্যা ছিল ৬৫১টি। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে
তা পৌছায় ৭০১ টিতে। সব শেষ ২০১৯ সালে ৮০১ টি প্রতিমা নিয়ে
দিূর্গাপূজার হয়েছিল শিকদার বাড়িতে। প্রতিমার সংখ্যার আধিক্যের কারণে
হিন্দু ধর্মীয় নেতা ও ভক্তদের কাছে দক্ষিন এশিয়ার সর্ববৃহৎ দূর্গা পূজা মন্ডপ
হিসেবে খ্যাতি লাভ করে শিকদার বাড়ির এই আয়োজন। এরই মধ্যে মূল আয়োজক
ডা. দুলাল শিকদারের মত্যৃ হয়। পরবর্তীতে করোনা মহামারির কারণে ২০২০, ২১ ও ২২
সালে সীমিত পরিসরে দূর্গা পূজার আয়োজন করে দুলাল শিকদারের ছেলে বিশিষ্ট
ব্যবসায়ী লিটন শিকদার। করোনা মহামারির পরে আবারও সাড়ম্বরে ৫০১ প্রতিমা
নিয়ে দূর্গা পূজার আয়োজন করেন লিটন শিকদার।
এবছর বাগেরহাটের ৯টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভায় ৬৪২টি পূজা মন্ডপে দূর্গা
পূজা অণুষ্ঠিত হচ্ছে। শুক্রবার ৬ষ্ঠি পূজার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মালম্বীদের এই
মহোৎসবের মূল আয়োজন শুরু হয়। নানা আচার অনুষ্ঠান ও পূজার পরে মঙ্গলবার দশমী
পূজা ও দেবি বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই আয়োজনের শেষ হয়েছে। সন্ধ্যা নাগাদ
জেলার বিভিন্ন মন্ডপে বিজয়া দশমী উপলক্ষে সিদুর খেলায় মাতেন নারীরা।
শিশুদের পড়িয়ে, হাটে বড়ই বিক্রি করে এসএসসিতে এ প্লাস পেল দুর্জয়
Reporter Name 



















