বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটে বিসিএস ক্যাডার স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন ও
মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ নভেম্বর) সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে
এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ভুক্তভোগী জেসমিন মোস্তাফিজ পেশায় একজন
শিক্ষিকা। তিনি বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার গাওলা বাজার এলাকার বীর
মুক্তিযোদ্ধা মৃত মোস্তফা রাজ্জাকের মেয়ে।
লিখিত বক্তব্য জেসমিন মোস্তাফিজ বলেন, আমার স্বামী ফকিরহাট উপজেলা মূলঘর
এলাকার খন্দকার মাহাবুব হোসেন। তিনি একজন বিসিএস ক্যাডার বর্তমানে
খুলনা পোস্টমাস্টার জেনারেল এর কার্যালয়ে ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল তদন্ত ও
অতিরিক্ত দায়িত্বে আর এম এস এ কর্মরত রয়েছেন। ২০০১ সালে মাহবুব এর সাথে
তার ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়। বর্তমানে আমাদের ১৭ বছর ও ১৪ বছর
বয়সী সন্তান রয়েছে। বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পর থেকে আবু হোসেন আমাকে
শারীরিক,মানসিক অত্যাচার ও হেনস্থা করতে থাকে। সে আমার কাছে ২০ লক্ষ টাকা
যৌতুক দাবি করে। সংসার বাঁচাতে আমি চার লক্ষ টাকা লোন তুলে স্বামীর হাতে
দেই। এছাড়া স্বামীর নির্যাতন থেকে বাচতে মোটরবাইক কিনে দেই। পরবর্তীতে
আবারো নির্যাতন চালালে আত্মীয়-স্বজন ও ভগ্নিপতিদের কাছ থেকে আরো
পাঁচ লক্ষ টাকা স্বামীর হাতে তুলে দেই। ২০১১ সালে আমি মুক্তিযোদ্ধা কোঠায়
চাকরি পাওয়ার পর থেকে সংসারে কোন খরচ তিনি দিতেন না। পরবর্তীতে আমি
সন্তানদের নিয়ে ফকিরহাটে মূল ঘরের বাড়িতে দারুন অর্থ কষ্টে জীবনযাপন করতে
থাকি।
তিনি বলেন, পর নারী আসক্ত হওয়ার পর থেকে স্বামীর নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে
যায়। সে আমাকে বিভিন্ন ভাবে শারিরিক ও মানষিক নির্যাতন করতে থাকে। সে
একাধিকবার বালিশ চাপা দিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা করে। আমাকে বাড়ি থেকে
বের করে দেয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ আমি বাড়িতে উপস্থিত হয়ে দেখি ঘরের
দরজা দেওয়া রয়েছে। আমি আমার স্বামী ও ছেলেকে ডাক ডাকির এক পর্যায়ে
আমার স্বামী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে দরজা খুলে বাইরে বের হয়।
আমাকে খুন করবার উদ্দেশ্যে হাতে থাকা দা দিয়ে আমাকে কোপ দেয়। আমার
কনুইয়ের নিচে কোপ লাগলে ও আমি রক্তাক্ত জখম হই। এ ঘটনায় আমি বাগেরহাট
নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করি। মামলার পর থেকে সে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে
ওঠে। সে নিজের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাকে প্রানে মেরে ফেলবে বলে হুমকি
দিয়ে যাচ্ছে। তার ভয়ে ঠিক ভাবে এখন রাস্তায় বের হতে পারছি না। স্কুলে যাওয়াও
সম্ভব হয়ে উঠছেনা। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের
দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী এ শিক্ষিকা।
তিনি আরো জানান, আমার স্বামী একজন অহংকারী ব্যক্তি, তিনি একজন পর সম্পদ,
নারী ও যৌতুক লোভী ব্যক্তি। ২০১০ সালে ঘুষ ও নিয়োগ বাণিজ্যের কারণে তার
বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়। ২০১৬ সালে কর্মস্থলে অসাধাচরণ করার দায়ে তার
প্রমোশন হেল্ড আপ হয়। ২০১৮ সালে কর্মস্থলে ডিপিএমজির স্ত্রীকে বারে বারে
প্রেম নিবেদন করার কারণে নারী কেলেঙ্কারি ও আইসিটি মামলা দায়ের করা হয় তার
বিরুদ্ধে। ২০২০ সালে যশোর উদ্যোক্তা সম্মেলন এর ট্যাক্স ফাকি দেওয়ার অভিযোগ
আসে তার বিরুদ্ধে। বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন হয় যা এখনো চলমান রয়েছে।
সেনাবাহিনীর ২৭ বি এম এ লং কোর্সে শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চুরির দায়ে চাকরিচ্যুত হন
তিনি।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত খন্দকার মাহাবুব হোসেন এর সাথে একাধিক বার
যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
শিশুদের পড়িয়ে, হাটে বড়ই বিক্রি করে এসএসসিতে এ প্লাস পেল দুর্জয়
Reporter Name 


















