Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে IELTS ও জাপানি ভাষা শিক্ষা নিয়ে সেমিনার

বাগেরহাটে জনভোগান্তি লাঘবে সেচ্ছাশ্রমে বেরিবাধ নির্মাণ, খুশি স্থানীয়রা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 08:26:48 pm, Wednesday, 25 December 2024
  • 64 বার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট
কাক ডাকা পৌষের ভোর। প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে মাটি কেটে বাঁধ নির্মান
করছেন একদল মানুষ। শীতের কষ্ট উপেক্ষা করে কাঁধেকাধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় বাগেরহাট সদর উপজেলার ভৈরব নদী সংলগ্ন
বিষ্ণুপুর গ্রামের একাংশের দৃশ্য এটি। দুপুর নাগাদ প্রায় দেড় কিলোমিটার
বেড়িবাঁধ দৃশ্যমান হয় ওই এলাকায়। বাগেরহাট সদর উপজেলা জামায়াতের
উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে এই বাঁধ নির্মানে অংশ নিয়েছেন তারা। উদ্দেশ্য
একটাই এলাকার দুই শতাধিক পরিবারের দূর্ভোগ লাঘব। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায়, উপকূলীয় জেলা হওয়ায় জোয়ারের পানি বেড়ে প্রায়ই বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে লোকালয় প্লাবিত হয়। ভাঙ্গন কবলিত বিভিন্ন এলাকায় বাধঁ নির্মান ও সংস্কার হয় নিয়মিত। তবে বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের লাগোয়া ভৈরব নদীর বাঁধের দুই কিলোমিটার অংশ
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ভোগান্তিতে ছিলেন ওই এলাকা দুই শতাধিক
পরিবার। লোনাপানিতে নষ্ট হয়েছে ফসলের খেত, কাঁচাঘর, মাটির পথ। প্রায় ১৬
বছর ধরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও মেলেনি কোন প্রতিকার। দীর্ঘদিন
পরে হলেও, জামায়াত ইসলামীর কর্মীদের এই উদ্যোগে খুশি এলাকাবাসী।
বিষ্ণুপুর গ্রামের বৃদ্ধ শিকদার আবুবক্কর সিদ্দিক বলেন, বহু বছর আগে নদী ভাঙনে
গ্রামরক্ষাবাঁধ বিলিন হয়ে গেছে । এরপর প্রতিবছর বর্ষার মৌসুম জুড়ে
জোয়ার-ভাটার পানির উপর নির্ভর করে চলতে হয় আমাদের। লোনা পানিতে বন্ধ হয়ে
গেছে পানের বরাজ, মাছ চাষ, ফসলফলাদী। আমাদের দূর্ভোগ যেন দেখার কেউ নেই।
শেখ জিন্নাত হক বলেন, প্রায় দুই কিলোমিটার বাধ না থাকায় সামাজিক ও
আর্থিক ভাবে পুরো এলাকাবাসি ক্ষতিগ্রস্থ। কেউ অসুস্থ হলেও হাসপাতালে
নিয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই। কেউ মারা গেলে জানাজায় অংশ নিতে আসতে
পারে না। অনেক সময় মেহমান আসত না বেড়াতে। আজকে জামায়াত ইসলামের
উদ্যোগে বাধ দিয়েছে এতে আমরা খুশি। তবে সরকার চওড়া বাধঁ নির্মান করে
দিলে স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান হত বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার আমীর মাওলানা
ফেরদৌস আলী বলেন, যাত্রাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের নায়েবে আমীর হাফেজ আব্দুর
রহমানের বাড়ি বিষ্ণুপুর গ্রামে। তিনি গেল ২৬ মে মারা যায়। কিন্তু রাস্তা ও বাঁধ
না থাকায় অনেকের ইচ্ছে থাকলেও তার জানাজায় অংশ নিতে পারেনি। তখনই আমরা
এলাকার মানুষের এই ভোগান্তি লাঘবের জন্য স্বেচ্ছাশ্রমে বাধঁ নির্মানের
পরিকল্পনা করি। সবার সাথে আলোচনা করে, আজকে আমরা বাঁধ নির্মান শুরু
করেছি। এতে বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া, বিষ্ণুপুর , ষাটগম্বুজ ,
বারুইপাড়া ও যাত্রাপুর ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী বাধ নির্মাণ
কাজে অংশ নেয়। সেচ্ছাশ্রমে আমরা এই এলাকায় বাধঁ নির্মান করে দেওয়ায়
ফসলি জমি ও জলোচ্ছ¡সের ঘরবাড়ি প্লাবিতসহ নানা ভোগান্তি থেকে রক্ষা
পাবে বলে আশা করেন তিনি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু

বাগেরহাটে জনভোগান্তি লাঘবে সেচ্ছাশ্রমে বেরিবাধ নির্মাণ, খুশি স্থানীয়রা

আপডেট টাইম : 08:26:48 pm, Wednesday, 25 December 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট
কাক ডাকা পৌষের ভোর। প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে মাটি কেটে বাঁধ নির্মান
করছেন একদল মানুষ। শীতের কষ্ট উপেক্ষা করে কাঁধেকাধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় বাগেরহাট সদর উপজেলার ভৈরব নদী সংলগ্ন
বিষ্ণুপুর গ্রামের একাংশের দৃশ্য এটি। দুপুর নাগাদ প্রায় দেড় কিলোমিটার
বেড়িবাঁধ দৃশ্যমান হয় ওই এলাকায়। বাগেরহাট সদর উপজেলা জামায়াতের
উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে এই বাঁধ নির্মানে অংশ নিয়েছেন তারা। উদ্দেশ্য
একটাই এলাকার দুই শতাধিক পরিবারের দূর্ভোগ লাঘব। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায়, উপকূলীয় জেলা হওয়ায় জোয়ারের পানি বেড়ে প্রায়ই বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে লোকালয় প্লাবিত হয়। ভাঙ্গন কবলিত বিভিন্ন এলাকায় বাধঁ নির্মান ও সংস্কার হয় নিয়মিত। তবে বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের লাগোয়া ভৈরব নদীর বাঁধের দুই কিলোমিটার অংশ
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ভোগান্তিতে ছিলেন ওই এলাকা দুই শতাধিক
পরিবার। লোনাপানিতে নষ্ট হয়েছে ফসলের খেত, কাঁচাঘর, মাটির পথ। প্রায় ১৬
বছর ধরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও মেলেনি কোন প্রতিকার। দীর্ঘদিন
পরে হলেও, জামায়াত ইসলামীর কর্মীদের এই উদ্যোগে খুশি এলাকাবাসী।
বিষ্ণুপুর গ্রামের বৃদ্ধ শিকদার আবুবক্কর সিদ্দিক বলেন, বহু বছর আগে নদী ভাঙনে
গ্রামরক্ষাবাঁধ বিলিন হয়ে গেছে । এরপর প্রতিবছর বর্ষার মৌসুম জুড়ে
জোয়ার-ভাটার পানির উপর নির্ভর করে চলতে হয় আমাদের। লোনা পানিতে বন্ধ হয়ে
গেছে পানের বরাজ, মাছ চাষ, ফসলফলাদী। আমাদের দূর্ভোগ যেন দেখার কেউ নেই।
শেখ জিন্নাত হক বলেন, প্রায় দুই কিলোমিটার বাধ না থাকায় সামাজিক ও
আর্থিক ভাবে পুরো এলাকাবাসি ক্ষতিগ্রস্থ। কেউ অসুস্থ হলেও হাসপাতালে
নিয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই। কেউ মারা গেলে জানাজায় অংশ নিতে আসতে
পারে না। অনেক সময় মেহমান আসত না বেড়াতে। আজকে জামায়াত ইসলামের
উদ্যোগে বাধ দিয়েছে এতে আমরা খুশি। তবে সরকার চওড়া বাধঁ নির্মান করে
দিলে স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান হত বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার আমীর মাওলানা
ফেরদৌস আলী বলেন, যাত্রাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের নায়েবে আমীর হাফেজ আব্দুর
রহমানের বাড়ি বিষ্ণুপুর গ্রামে। তিনি গেল ২৬ মে মারা যায়। কিন্তু রাস্তা ও বাঁধ
না থাকায় অনেকের ইচ্ছে থাকলেও তার জানাজায় অংশ নিতে পারেনি। তখনই আমরা
এলাকার মানুষের এই ভোগান্তি লাঘবের জন্য স্বেচ্ছাশ্রমে বাধঁ নির্মানের
পরিকল্পনা করি। সবার সাথে আলোচনা করে, আজকে আমরা বাঁধ নির্মান শুরু
করেছি। এতে বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া, বিষ্ণুপুর , ষাটগম্বুজ ,
বারুইপাড়া ও যাত্রাপুর ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী বাধ নির্মাণ
কাজে অংশ নেয়। সেচ্ছাশ্রমে আমরা এই এলাকায় বাধঁ নির্মান করে দেওয়ায়
ফসলি জমি ও জলোচ্ছ¡সের ঘরবাড়ি প্লাবিতসহ নানা ভোগান্তি থেকে রক্ষা
পাবে বলে আশা করেন তিনি।