আল আমিন খান সুমন, বাগেরহাট
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) সৈয়দ দিলদারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস না করা, সেবা প্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভোজপাতিয়া ও মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা এই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগ ঘুষ ছাড়া কোন কাজই সম্পন্ন হয় না। অতিরিক্ত অর্থ না দিলে নামজারি, পর্চা বা খতিয়ান সংক্রান্ত কোন কাজ সম্পাদন করেন না তিনি। এমনকি অনেক সময় অফিসে এসে সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন অপেক্ষা করলেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এতে নাগরিক সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রামপাল উপজেলার ভোজপাতিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হারুন অর রশিদ বলেন, “আমি আমার বাবার জমির নামজারির জন্য কয়েকবার গিয়েছি। সরকার নির্ধারিত ফি জমা দিলেও নায়েব কাজ না করে ঘুরাতে থাকেন। পরে লোক মারফত বাড়তি টাকা দিলে কাজটা হয়।”ভোজপাতিয়া ইউনিয়নের চন্ডাখাখি এলাকার বাসিন্দা ফোরকান বলেন, আমি ডাকরা বাজারে ছোট একটি দোকান দিয়ে কোন মতে খেয়ে পরে বেঁচে আছি। কিন্তু ওই নায়েব দিলদার আমাদের জমির খাজনা দিতে গেলে ১১শ টাকার বিপোরিতে আমার কাছ থেকে ১৮শ টাকা ও আমার বাবার কাছ থেকে ১ হাজার টাকা এই মোট ২৮শ টাকা নেয়। কিন্তু রশিদ দেয় ১১শ টাকার। বাড়তি টাকা কেন নিলেন জানতে চাইলে ওটা দিতে হয় বলে জানায় নায়েব দিলদার। ভোজপাতিয়া ইউনিয়নের বৃদ্ধা মোসলেম শেখ বলেন, “নায়েব দিলদার ঠিকমত অফিসে আসেন না। আর এলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। ঘুষ না দিলে একপ্রকার ধমক দিয়ে বিদায় করেন।নায়েব দিলদারের প্রধান ক্যাশিয়া অফিসে নিজ নিয়োগকৃত পলক,ও তার ভাগিনা আবুল বাসার, নায়েব অফিসে না থাকলে ও সমস্যা নাই ।পলক বা আবুল বাসারের কাছে টাকা দিলেই সব আবেদন সঠিক না দিলে সপ্তাহ শেষে কোন একদিন অফিসে এসে নায়েব দিলদার আবেদন খারিজ করবে এটাই এখানের বাস্তবতা হয়ে দাড়িয়েছে।বাগেরহাট আদালতের আইনজীবী এ্যাড. খান মোহাম্মদ আলী বাদশা বলেন, পৈতিক সূত্রে রামপাল উপজেলায় আমাদের বেশ কিছু জায়গা-জমি রয়েছে। সেই সুবাধে জায়গার মিউটেশন এর আমি তার কাছে গেলে তিনি আমার মিউটেশন অজ্ঞাত কারনে খারিজ করে দেন। কি কারনে খারিজ করেছেন জিজ্ঞেসা করলে তিনি নতুন করে আবেদন করতে বলেন। আমি তার কথা মত নতুন করে আবেদন করলে তিনি আমার কাছে ঘুষ দাবি করেন। এক পর্যায়ে আমি তাকে ৪ হাজার ৫শ টাকা দিলেও তিনি উল্টো ১৫ হাজার টাকা দাবী করেন। এসময় তার দাবীকৃত টাকা না দিলে তিনি আবারও খারিজ করে দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে আমি তাকে ফোন দিলে তিনি (নায়েব দিলদার) আমাকে গালিগালাজ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন, “দিলদার সাহেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনেক পুরনো। তার আচরণ ও কার্যক্রম নিয়ে ইউনিয়নবাসীর ভোগান্তির সীমা নেই। কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও কেন ব্যবস্থা নেয়া হয় না, তা বোধগম্য নয়।”বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সরকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড) আফতাব আহমেদ বলেন, নায়েব দিলদারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে দুটি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে নায়েব সৈয়দ দিলদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে নিউজ করে কিছু করতে পারবেন না। প্রশাসনের বড় বড় অফিসার আমার পকেটে থাকে। এদিকে, গত ১৯ জুলাই মল্লিকেরবেড় প্লানের খেয়াঘাট এলাকায়, ঘাট ইজারাদার তার কাছে ভাড়া চাইলে তিনি মদ খেয়ে ঘাট ইজারাদার যুখরুফ শরীফকে হুমকি দেন এবং গালিগালাজ করতে থাকেন। এসময় তিনি বার বার বলতে থাকেন আমি সরকারি বড় অফিসার, বাংলাদেশের কোথাও আমার টাকা লাগে না। এক পর্যায়ে ভাড়া ৪০ টাকা দিতে বধ্যহয়ে হুমকি দিয়ে বলে যায় এই এলাক থেকে যদি কেহ অফিসে আসে তার কাছ থেকে ডাবোল টাকা লাগবে।স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে না। এছাড়া তিনি একজন মাদকসেবী, তার ডোপ টেষ্ট করার দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগি এলাকাবাসী।
শিশুদের পড়িয়ে, হাটে বড়ই বিক্রি করে এসএসসিতে এ প্লাস পেল দুর্জয়
Reporter Name 



















