Dhaka , Sunday, 1 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না          —–ডা. শফিকুর রহমান জায়গার সংকট, আগাছা-জঙ্গলে বেহাল বাগেরহাটের বড় কবরস্থান, দাফনেও ভোগান্তি বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা ৩০ অক্টোবর থেকে দুবলার চরে শুঁটকি উৎসব, জীবিকার সন্ধানে সাগরে নামছেন হাজারো জেলে বাগেরহাটে নাগরিক ফোরামের ত্রৈমাসিক সভা ও কার্যক্রম মূল্যায়নর কর্মশালা অনুষ্ঠিত  ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ, বাগেরহাটে কাটাখালীতে পথসভা পল্টন ট্র্যাজেডিতে শহীদদের স্মরণে বাগেরহাটে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল বাগেরহাটে বাংলালিংক কর্মীকে কুপিয়ে লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বাগেরহাটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ

নন্দীগ্রামে গোখাদ্যের চরম সঙ্কট

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 02:11:59 pm, Wednesday, 22 October 2025
  • 79 বার
নাজমুল হুদা, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার নন্দীগ্রামে গোখাদ্য খড়ের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে এলাকার ছোট-বড় খামারি ও কৃষকরা। খড়ের অভাবে অনেকেই উপায় না পেয়ে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গত বছরের আমন ধানের নাড়া (ধানের গোড়া) এমনকি কাঁচা ধান কেটে সেই খড় গরুকে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গরুর প্রধান খাদ্য হিসেবে খড়ের চাহিদা সর্বাধিক থাকলেও চলতি আমন মৌসুমে ধান কর্তন শুরু না হওয়ায় পুরোনো খড়ের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। ফলে বাজারে খড়ের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ৩০ টাকা। ছোট একটি খড়ের বোঝা বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায়। তবুও চাহিদার তুলনায় খড়ের জোগান খুবই সীমিত। আবার বেশি দাম দিয়েও খড় মিলছে না বলে জানিয়েছেন খামারি ও কৃষকরা। অথচ আমন ধান কাটা-মাড়ায়ের পর দেশের বিভিন্নস্থানের খড় ব্যবসায়ীরা নন্দীগ্রাম উপজেলা থেকে বিপুল পরিমাণ খড় ক্রয় করে ট্রাক ভর্তি করে নিয়ে যায়। যেকারণে নন্দীগ্রাম উপজেলায় চাহিদা অনুযায়ী খড়ের মজুদ থাকে না। তাই আগে থেকেই খড় মজুদ রাখার বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার। নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে খড়ের চরম সঙ্কট। খড়ের অভাবে হতাশ খামারি ও কৃষকরা গরু বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। যাদের পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস দুই-একটি গরু বা গাভী পালন করা, তারাও এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অনেকেই জানিয়েছে, গরুকে প্রতিদিন পরিমাণ মতো খাদ্য দিতে না পারায় গরুর ওজন কমে যাচ্ছে। সেই সাথে গাভীর দুধ উৎপাদনও হ্রাস পেয়েছে। খামারি জয়নাল আবেদীন বলেন, আগে এক বোঝা খড় ৬০০-৭০০ টাকায় পাওয়া যেতো। এখন তা দুই হাজার টাকায়ও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। গরুকে খাওয়াবো কী ? বাধ্য হয়ে একটা গরু বিক্রি করে দিয়েছি। আরেক খামারি নাজমুল হোসেন জানান, খড় নেই, ঘাসও তেমন নেই। তবুও সবাই মাঠ থেকে ঘাস কেটে এনে গরুকে খাওয়াচ্ছে। আবার কেউ কেউ গরুকে শুধু ভুসি-পানি খাওয়ায়। যা দেখে খুব কষ্ট লাগে। স্থানীয় খামারি ও কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, খড়ের এই তীব্র সঙ্কট অব্যাহত থাকলে অনেক ছোট-বড় খামার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে শুধু খামারিরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, দুধ ও মাংস উৎপাদনেও বড়ধরনের ধাক্কা লাগবে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা কল্পনা রানী রায় বলছেন, এখন গোখাদ্যে খড়ের সঙ্কট থাকলেও ধান কাটা-মাড়াই শুরু হলে খড়ের আর সঙ্কট থাকবে না। এখন খামারি ও কৃষকদের বিকল্প গোখাদ্য গরুকে খাওনোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

নন্দীগ্রামে গোখাদ্যের চরম সঙ্কট

আপডেট টাইম : 02:11:59 pm, Wednesday, 22 October 2025
নাজমুল হুদা, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার নন্দীগ্রামে গোখাদ্য খড়ের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে এলাকার ছোট-বড় খামারি ও কৃষকরা। খড়ের অভাবে অনেকেই উপায় না পেয়ে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গত বছরের আমন ধানের নাড়া (ধানের গোড়া) এমনকি কাঁচা ধান কেটে সেই খড় গরুকে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গরুর প্রধান খাদ্য হিসেবে খড়ের চাহিদা সর্বাধিক থাকলেও চলতি আমন মৌসুমে ধান কর্তন শুরু না হওয়ায় পুরোনো খড়ের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। ফলে বাজারে খড়ের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ৩০ টাকা। ছোট একটি খড়ের বোঝা বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায়। তবুও চাহিদার তুলনায় খড়ের জোগান খুবই সীমিত। আবার বেশি দাম দিয়েও খড় মিলছে না বলে জানিয়েছেন খামারি ও কৃষকরা। অথচ আমন ধান কাটা-মাড়ায়ের পর দেশের বিভিন্নস্থানের খড় ব্যবসায়ীরা নন্দীগ্রাম উপজেলা থেকে বিপুল পরিমাণ খড় ক্রয় করে ট্রাক ভর্তি করে নিয়ে যায়। যেকারণে নন্দীগ্রাম উপজেলায় চাহিদা অনুযায়ী খড়ের মজুদ থাকে না। তাই আগে থেকেই খড় মজুদ রাখার বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার। নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে খড়ের চরম সঙ্কট। খড়ের অভাবে হতাশ খামারি ও কৃষকরা গরু বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। যাদের পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস দুই-একটি গরু বা গাভী পালন করা, তারাও এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অনেকেই জানিয়েছে, গরুকে প্রতিদিন পরিমাণ মতো খাদ্য দিতে না পারায় গরুর ওজন কমে যাচ্ছে। সেই সাথে গাভীর দুধ উৎপাদনও হ্রাস পেয়েছে। খামারি জয়নাল আবেদীন বলেন, আগে এক বোঝা খড় ৬০০-৭০০ টাকায় পাওয়া যেতো। এখন তা দুই হাজার টাকায়ও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। গরুকে খাওয়াবো কী ? বাধ্য হয়ে একটা গরু বিক্রি করে দিয়েছি। আরেক খামারি নাজমুল হোসেন জানান, খড় নেই, ঘাসও তেমন নেই। তবুও সবাই মাঠ থেকে ঘাস কেটে এনে গরুকে খাওয়াচ্ছে। আবার কেউ কেউ গরুকে শুধু ভুসি-পানি খাওয়ায়। যা দেখে খুব কষ্ট লাগে। স্থানীয় খামারি ও কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, খড়ের এই তীব্র সঙ্কট অব্যাহত থাকলে অনেক ছোট-বড় খামার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে শুধু খামারিরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, দুধ ও মাংস উৎপাদনেও বড়ধরনের ধাক্কা লাগবে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা কল্পনা রানী রায় বলছেন, এখন গোখাদ্যে খড়ের সঙ্কট থাকলেও ধান কাটা-মাড়াই শুরু হলে খড়ের আর সঙ্কট থাকবে না। এখন খামারি ও কৃষকদের বিকল্প গোখাদ্য গরুকে খাওনোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।