Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে IELTS ও জাপানি ভাষা শিক্ষা নিয়ে সেমিনার

বাগেরহাটে মেয়েকে স্বাগত জানিয়ে ২ শতাধিক ফলের চারা বিতরণ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 06:05:33 pm, Saturday, 8 November 2025
  • 83 বার

প্রানের বাগেরহাট ডেক্স

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় নিজের মেয়ে সন্তানকে স্বাগত জানিয়ে গ্রাম জুড়ে বাড়ি বাড়ি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছের চারা উপহার দিয়েছেন এক দম্পতি।শুক্র ও শনিবার নিজ গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের মাঝে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, বেল, কদবেল, কালো জাম, সফেদা, আপেলকুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেন তারা।সন্তানকে স্বাগত জানিয়ে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নিয়েছেন চিতলমারী উপজেলার কালশিরা গ্রামের মাধব চন্দ্র ব্রহ্ম ও তার স্ত্রী সাথী রানী ব্রহ্ম।চলতি বছরের ২০ মে এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় এক কন্যা সন্তান। নাম রাখা হয় সম্প্রীতি ব্রহ্ম মৌলী। নবজন্মের আনন্দকে শুধু নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজ ও প্রকৃতির সঙ্গে ভাগ করে নিতে এই উদ্যোগ বলে জানান সম্প্রীতির বাবা-মা।মাধব চন্দ্র ব্রহ্ম বলেন, ওর জন্মের পর আমরা (সম্প্রীতির বাবা-মা) নিজেরদের মধ্যে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেই। আমাদের মেয়ে যে গ্রামে বড় হবে, সেই গ্রামের আলো-বাতাস যেন নির্মল থাকে এই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ। গাছগুলো যেমন আমাদের সন্তানের সঙ্গে বড় হবে, তেমনি একদিন ফলে ফলে ভরে উঠবে গ্রাম। আমরা চাই, আমাদের মেয়ের জন্ম যেন শুধু আমাদের আনন্দেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং প্রকৃতি ও সমাজের জন্যও কিছু রেখে যায়।সম্প্রীতির মা সাথী রানী ব্রহ্ম বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আমরা একটু একটু করে টাকা জমিয়েছি। এর সঙ্গে সন্তান জন্মের পর বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে পাওয়া উপহারের টাকা মিলিয়ে আমরা গাছগুলো কিনেছি।কালশিরা গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা নারদ রায় বলেন, মেয়ের জন্ম উপলক্ষে সে যে গাছ বিতরণ করল, তাতে গ্রামের পরিবেশ যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি শিশু জন্মের আনন্দটাও সমাজের সঙ্গে ভাগ হলো। তার মতো করে সবাই ভাবলে দেশের ভালো হত।
২০১৩ সালে বছরের ১৫ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে চিতলমারী সদর ইউনিয়নের কালশিরা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাখন লাল ব্রাহ্মণের ছেলে মাধব চন্দ্র ব্রাহ্মণের সাথে রায়গ্রামের অমল ঢালীর মেয়ে সাথী ঢালীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর নিজেদের বউভাতে খরচ বাঁচিয়ে এলাকার স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে সহশ্রাধীক বই বিতরণ করেছিলেন এই দম্পতি। বাড়িতে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বই বিতরণ ও বই পড়ায় উৎসাহিত করেন তারা।মাধব চন্দ্র ব্রহ্ম গেল পাঁচ বছর ধরে (২০২০ সাল থেকে) স্থানীয় চারটি গ্রাম, কালশিরা, রুইয়াকুল, শ্রীরামপুর ও বেন্নাবাড়ির যেকোনো পরিবারের নবজাতকের জন্ম হলে তাদের বাড়িতে গিয়ে গাছের চারা উপহার দিয়ে আসছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু

বাগেরহাটে মেয়েকে স্বাগত জানিয়ে ২ শতাধিক ফলের চারা বিতরণ

আপডেট টাইম : 06:05:33 pm, Saturday, 8 November 2025

প্রানের বাগেরহাট ডেক্স

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় নিজের মেয়ে সন্তানকে স্বাগত জানিয়ে গ্রাম জুড়ে বাড়ি বাড়ি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছের চারা উপহার দিয়েছেন এক দম্পতি।শুক্র ও শনিবার নিজ গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের মাঝে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, বেল, কদবেল, কালো জাম, সফেদা, আপেলকুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেন তারা।সন্তানকে স্বাগত জানিয়ে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নিয়েছেন চিতলমারী উপজেলার কালশিরা গ্রামের মাধব চন্দ্র ব্রহ্ম ও তার স্ত্রী সাথী রানী ব্রহ্ম।চলতি বছরের ২০ মে এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় এক কন্যা সন্তান। নাম রাখা হয় সম্প্রীতি ব্রহ্ম মৌলী। নবজন্মের আনন্দকে শুধু নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজ ও প্রকৃতির সঙ্গে ভাগ করে নিতে এই উদ্যোগ বলে জানান সম্প্রীতির বাবা-মা।মাধব চন্দ্র ব্রহ্ম বলেন, ওর জন্মের পর আমরা (সম্প্রীতির বাবা-মা) নিজেরদের মধ্যে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেই। আমাদের মেয়ে যে গ্রামে বড় হবে, সেই গ্রামের আলো-বাতাস যেন নির্মল থাকে এই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ। গাছগুলো যেমন আমাদের সন্তানের সঙ্গে বড় হবে, তেমনি একদিন ফলে ফলে ভরে উঠবে গ্রাম। আমরা চাই, আমাদের মেয়ের জন্ম যেন শুধু আমাদের আনন্দেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং প্রকৃতি ও সমাজের জন্যও কিছু রেখে যায়।সম্প্রীতির মা সাথী রানী ব্রহ্ম বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আমরা একটু একটু করে টাকা জমিয়েছি। এর সঙ্গে সন্তান জন্মের পর বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে পাওয়া উপহারের টাকা মিলিয়ে আমরা গাছগুলো কিনেছি।কালশিরা গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা নারদ রায় বলেন, মেয়ের জন্ম উপলক্ষে সে যে গাছ বিতরণ করল, তাতে গ্রামের পরিবেশ যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি শিশু জন্মের আনন্দটাও সমাজের সঙ্গে ভাগ হলো। তার মতো করে সবাই ভাবলে দেশের ভালো হত।
২০১৩ সালে বছরের ১৫ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে চিতলমারী সদর ইউনিয়নের কালশিরা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাখন লাল ব্রাহ্মণের ছেলে মাধব চন্দ্র ব্রাহ্মণের সাথে রায়গ্রামের অমল ঢালীর মেয়ে সাথী ঢালীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর নিজেদের বউভাতে খরচ বাঁচিয়ে এলাকার স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে সহশ্রাধীক বই বিতরণ করেছিলেন এই দম্পতি। বাড়িতে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বই বিতরণ ও বই পড়ায় উৎসাহিত করেন তারা।মাধব চন্দ্র ব্রহ্ম গেল পাঁচ বছর ধরে (২০২০ সাল থেকে) স্থানীয় চারটি গ্রাম, কালশিরা, রুইয়াকুল, শ্রীরামপুর ও বেন্নাবাড়ির যেকোনো পরিবারের নবজাতকের জন্ম হলে তাদের বাড়িতে গিয়ে গাছের চারা উপহার দিয়ে আসছেন।