Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে IELTS ও জাপানি ভাষা শিক্ষা নিয়ে সেমিনার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 10:51:21 pm, Wednesday, 26 July 2023
  • 166 বার

বাগেরহাটে মাটির বদলে বালু দেওয়া সেই বাঁধে ভাঙন
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট
বাগেরহাট সদর উপজেলায় ভৈরব নদের তীরে মাটির বদলে বালু দিয়ে নির্মিত বাঁধে ছয় মাসের মধ্যে ভাঙন দেখা দিয়েছে। অবশ্য বালু দেওয়ার অভিযোগ করে এর স্থায়িত্ব নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) রাতে বাঁধের সদর উপজেলার মুনিগঞ্জ সেতুর নিচে একটি অংশ ডেবে যায়। বাঁধের ওই অংশের উপর দিয়ে স্থানীয়দের যাতায়াতের রাস্তা রয়েছে। ভাঙনে একটি অংশ ডেবে যাওয়াতে গোটাপাড়া ইউনিয়নের গোপালকাঠী গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথ চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
নাজিরপুর উপ-প্রকল্পের অধিনে ছয় মাস আগে সংস্কার হওয়া বাঁধে ভাঙ্গনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, বাঁধের নিচ দিয়ে অবৈধভাবে তৈরি কালভার্টের জন্যই ওই ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত অর্থ বছরে নব্বই লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধটি সংস্কারের কাজ করে পাউবো। তবে তখন স্থানীয় একটি ইটভাটা অবৈধ কালভার্টটি অপসারণ করেনি। বর্ষা শুরুর পর এখান থেকে পানির চাপে বাঁধে ভাঙন দেখা দিলে প্রথমে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করে পাউবো। পাশাপাশি ভাটা মালিককে কালভার্ট অপসারণে চিঠি দেওয়া হয় বলে জানায় তারা।
বুধবার সকালে ভাঙন এলাকা পরিদর্শণে যান বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দিন। এ সময় বাঁধে ধ্বসের জন্য স্থানীয়রা বাঁধ তৈরিতে বালু ব্যবহার, অবৈধ কালভার্ট নির্মাণ এবং বাঁধের গোড়া দিয়ে নদীর চরের মাটি কেটে ইট ভাটায় নেওয়ার অভিযোগ করেন।
স্থানীয় গোপালকাঠি গ্রামের জিল্লাল শেখ বলেন, প্রায় দুই দশক আগে ওই বাঁধের পাশে এমবিএ নামে একটি ইটভাটা গড়ে ওঠে। ইটভাটা মালিক মিজানুর রহমান মনি নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে মাটি তুলে নিয়ে ইটভাটায় ব্যবহার করেন। ক’দিন আগেও পাশ দিয়ে মাটি কেটে নেওয়ার বাঁধের আর একটি অংশও ধ্বসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
গোটাপাড়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড সদস্য মো. শাহ আলম বিপ্লব বলেন, সরকারি বেড়িবাঁধ অবৈধভাবে কেটে ভাটা মালিক কালভার্টটি নির্মাণ করেছেন। এই কালভার্ট নির্মানের কারনে এই বাঁধটি ভেঙে গেছে। তিনি অবৈধভাবে কেশবপুর নদের মাটি কেটে নিয়ে ইট তৈরি করেন। অবৈধভাবে সরকারি জায়গার মাটি কাটার অভিযোগে কিছুদিন আগে তাকে প্রশাসন এক লাখ জরিমানা করে। তারপরেও তার মাটি কাটা থেমে নেই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইটভাটা মালিক মিজানুর রহমান মনি বলেন, এই কালভার্টটি ১৩ থেকে ১৪ বছর আগের নির্মাণ করা। স¤প্রতি এই বেড়িবাঁধের সংস্কার কাজ করা হয়। ওই সংস্কারে কাজে বাঁধের পাশ দিয়ে মাটি কেটে দেয়া হয়েছে। মাটি কাটার কারনে ধীরেধীরে তা ভেঙে গেছে।

নদী থেকে মাটি কাটার অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি নদী থেকে মাটি কাটিনা। আমি দূরের পতিত জমি দিয়ে মাটি কিনে এনে ইট তৈরি করি।
সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দিন বলেন, ওই কালভার্ট দিয়ে একটি মাছের ঘেরের পানি ওঠানামা করে। ওই পানির চাপে ধীরে ধীরে বাঁধটি দুর্বল হয়ে ভেঙে গেছে। সকালে এসে ওই পরিস্থিতি দেখে কালভার্টটি অপসারণ শুরু করা হয়েছে।
স্থানীয়দের চলাচলের সুবিধার্থে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে স¤প্রতি এই বাঁধে ইটের সলিং দেয়া হয়। ইটভাটা মালিকের অবৈধভাবে মাটি কাটার কারনে সেই রাস্তার বেশ কয়েকটি স্থান ভেঙে গেছে। তার ব্যক্তিগত ব্যবসার কারনে এই বড় একটি জনগোষ্ঠির সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
জানতে চাইলে পাউবো বাগেরহাট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, এটি আসলে দীর্ঘদিনের একটি পুরানো বাঁধ। আমরা স¤প্রতি এটি সংস্কার করেছি। বাঁধ মাটি দিয়েই সংস্কার করা হয়েছে। কোথাও কোথাও মাটির তীব্র সংকট থাকায় সেখানে আমরা কিছুটা বালু ব্যবহার করেছি। বাঁধের গোপালকাঠী অংশে অবৈধভাবে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। এ বিষয়ে আমরা অবগত ছিলাম না। ওই কালভার্টের কারনে বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। কালভার্ট নিজ উদ্যোগে তা অপসারণের জন্য আমরা তাকে চিঠিও দিয়েছি। অপসারণের পর দ্রæত আমরা বাঁধটি মেরামত করে দিবো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু

আপডেট টাইম : 10:51:21 pm, Wednesday, 26 July 2023

বাগেরহাটে মাটির বদলে বালু দেওয়া সেই বাঁধে ভাঙন
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট
বাগেরহাট সদর উপজেলায় ভৈরব নদের তীরে মাটির বদলে বালু দিয়ে নির্মিত বাঁধে ছয় মাসের মধ্যে ভাঙন দেখা দিয়েছে। অবশ্য বালু দেওয়ার অভিযোগ করে এর স্থায়িত্ব নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) রাতে বাঁধের সদর উপজেলার মুনিগঞ্জ সেতুর নিচে একটি অংশ ডেবে যায়। বাঁধের ওই অংশের উপর দিয়ে স্থানীয়দের যাতায়াতের রাস্তা রয়েছে। ভাঙনে একটি অংশ ডেবে যাওয়াতে গোটাপাড়া ইউনিয়নের গোপালকাঠী গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথ চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
নাজিরপুর উপ-প্রকল্পের অধিনে ছয় মাস আগে সংস্কার হওয়া বাঁধে ভাঙ্গনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, বাঁধের নিচ দিয়ে অবৈধভাবে তৈরি কালভার্টের জন্যই ওই ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত অর্থ বছরে নব্বই লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধটি সংস্কারের কাজ করে পাউবো। তবে তখন স্থানীয় একটি ইটভাটা অবৈধ কালভার্টটি অপসারণ করেনি। বর্ষা শুরুর পর এখান থেকে পানির চাপে বাঁধে ভাঙন দেখা দিলে প্রথমে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করে পাউবো। পাশাপাশি ভাটা মালিককে কালভার্ট অপসারণে চিঠি দেওয়া হয় বলে জানায় তারা।
বুধবার সকালে ভাঙন এলাকা পরিদর্শণে যান বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দিন। এ সময় বাঁধে ধ্বসের জন্য স্থানীয়রা বাঁধ তৈরিতে বালু ব্যবহার, অবৈধ কালভার্ট নির্মাণ এবং বাঁধের গোড়া দিয়ে নদীর চরের মাটি কেটে ইট ভাটায় নেওয়ার অভিযোগ করেন।
স্থানীয় গোপালকাঠি গ্রামের জিল্লাল শেখ বলেন, প্রায় দুই দশক আগে ওই বাঁধের পাশে এমবিএ নামে একটি ইটভাটা গড়ে ওঠে। ইটভাটা মালিক মিজানুর রহমান মনি নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে মাটি তুলে নিয়ে ইটভাটায় ব্যবহার করেন। ক’দিন আগেও পাশ দিয়ে মাটি কেটে নেওয়ার বাঁধের আর একটি অংশও ধ্বসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
গোটাপাড়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড সদস্য মো. শাহ আলম বিপ্লব বলেন, সরকারি বেড়িবাঁধ অবৈধভাবে কেটে ভাটা মালিক কালভার্টটি নির্মাণ করেছেন। এই কালভার্ট নির্মানের কারনে এই বাঁধটি ভেঙে গেছে। তিনি অবৈধভাবে কেশবপুর নদের মাটি কেটে নিয়ে ইট তৈরি করেন। অবৈধভাবে সরকারি জায়গার মাটি কাটার অভিযোগে কিছুদিন আগে তাকে প্রশাসন এক লাখ জরিমানা করে। তারপরেও তার মাটি কাটা থেমে নেই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইটভাটা মালিক মিজানুর রহমান মনি বলেন, এই কালভার্টটি ১৩ থেকে ১৪ বছর আগের নির্মাণ করা। স¤প্রতি এই বেড়িবাঁধের সংস্কার কাজ করা হয়। ওই সংস্কারে কাজে বাঁধের পাশ দিয়ে মাটি কেটে দেয়া হয়েছে। মাটি কাটার কারনে ধীরেধীরে তা ভেঙে গেছে।

নদী থেকে মাটি কাটার অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি নদী থেকে মাটি কাটিনা। আমি দূরের পতিত জমি দিয়ে মাটি কিনে এনে ইট তৈরি করি।
সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দিন বলেন, ওই কালভার্ট দিয়ে একটি মাছের ঘেরের পানি ওঠানামা করে। ওই পানির চাপে ধীরে ধীরে বাঁধটি দুর্বল হয়ে ভেঙে গেছে। সকালে এসে ওই পরিস্থিতি দেখে কালভার্টটি অপসারণ শুরু করা হয়েছে।
স্থানীয়দের চলাচলের সুবিধার্থে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে স¤প্রতি এই বাঁধে ইটের সলিং দেয়া হয়। ইটভাটা মালিকের অবৈধভাবে মাটি কাটার কারনে সেই রাস্তার বেশ কয়েকটি স্থান ভেঙে গেছে। তার ব্যক্তিগত ব্যবসার কারনে এই বড় একটি জনগোষ্ঠির সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
জানতে চাইলে পাউবো বাগেরহাট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, এটি আসলে দীর্ঘদিনের একটি পুরানো বাঁধ। আমরা স¤প্রতি এটি সংস্কার করেছি। বাঁধ মাটি দিয়েই সংস্কার করা হয়েছে। কোথাও কোথাও মাটির তীব্র সংকট থাকায় সেখানে আমরা কিছুটা বালু ব্যবহার করেছি। বাঁধের গোপালকাঠী অংশে অবৈধভাবে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। এ বিষয়ে আমরা অবগত ছিলাম না। ওই কালভার্টের কারনে বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। কালভার্ট নিজ উদ্যোগে তা অপসারণের জন্য আমরা তাকে চিঠিও দিয়েছি। অপসারণের পর দ্রæত আমরা বাঁধটি মেরামত করে দিবো।