বাগেরহাট প্রতিনিধি
আগামী ২১ মে, ২০২৪ মঙ্গলবার বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলা পরিষদের ৬ষ্ঠ দফায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বপন কুমার দাশ। এছাড়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহŸায়ক সেখ ওয়াহিদুজ্জামান বাবু মোটর সাইকেল এবং তার মা ফজিলা বেগম দোয়াত কলম নিয়ে মাঠে রয়েছেন। মূলত ফজিলা বেগম ওয়াহিদুজ্জামানের ডামি প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। ভোটের মাঠে স্বপন দাশ স্থানীয় সংসদ সদস্যের আশির্বাদপুষ্ট হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে ওয়াহিদুজ্জামান ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। ভোটের প্রচারে প্রার্থীরা একে অপরের প্রতি নানান অভিযোগ তুলেছেন। এরই মধ্যে নির্বাচনের একদিন আগেই ফজিলা বেগমের এক সমর্থক প্রধান নির্বাচন কমিশনের কাছে এক অভিযোগে প্রিজাইডিং অফিসারদের ৫০জনের ৩২জনই হিন্দু হওয়ায় সুষ্ঠু ভোটের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বপন দাশ বাগেরহাট-০১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে ব্যাপক ক্ষমতা রাখেন। শুধু ফকিরহাট উজেলায় নয় বরং পুরো বাগেরহাট জুড়ে তার বিশাল বাহিনী রয়েছে। যাদের বেশিরভাগ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। বিগত ১৫ বছর যাবৎ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় তিনি স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সরকারি বিভিন্ন নিয়োগের ব্যাপকভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনকে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি নিজেও উপজেলার শহীদ স্মৃতি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদে রয়েছেন। আর গত পাঁচ বছরে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে বেশিরভাগ নিয়োগে তিনি সংখ্যালঘুদের ব্যাপকভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি স্থানীয় এমপি মহোদয়ের প্রভাবকে কাজে লাগিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত প্রতাপশালী ব্যক্তি; একদিকে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি অন্যদিকে উপজেলার চেয়ারম্যান। আর এমপি মহোদয়তো তার পক্ষে আছেন-ই। তাই আসন্ন উপজেলার নির্বাচনকে ঘিরে তিনি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশ্রয় নিয়েছেন। অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সংখ্যালঘুকেন্দ্রীক অন্ধ হওয়ায় এলাকায় তার কোনো জনপ্রিয়তা নেই। এ প্রেক্ষিতে তিনি ৬ষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির পরিকল্পনা করেছেন। সে লক্ষ্যে নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ যাদের দেওয়া হয়েছে, তাদের দুই তৃতীয়াংশই সংখ্যালঘু (৫০ জনের মধ্যে ৩২জন)।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে আলাদা করে দেখি না। কিন্তু যারা তার লোক হিসেবে সর্বজন পরিচিত। এবং প্রিজাইডিং অফিসারের তালিকা দেখিয়ে যখন ভোটারদের বার্তা দেওয়া হয় যে, আমাদের সবকিছু ম্যানেজ করা আছে। দেখছেন, আমরা যাদেরকে প্রিজাইডিং বা সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার চেয়েছি, তাদের দেওয়া হয়েছে। এমপি মহোদয়ের প্রার্থী হিসেবে বার্তা দিয়ে দিচ্ছেন। তার একান্ত সচিব ফিরোজ সাহেব অন্য এলাকা থেকে এসে, ফকিরহাটের নির্বাচনে স্বপন দাশের হয়ে সভা-সমাবেশগুলোতে হুমকি দিচ্ছে। এমনকি ডিবি পুলিশ দিয়ে অন্য প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িতে বাড়িতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। যাতে কেউ স্বপন দাশের বিরুদ্ধে কাজ না করে। যারা অন্য প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট হবেন বা যারা তার বিরুদ্ধে নির্বাচন করছেন, তাদের নির্বাচনের পর দেখে দেওয়া হবে এমন হুমকিও স্বপন দাশ নিজেই সভাসমাবেশে দিচ্ছেন। উপজেলার পুরো প্রশাসনকে তিনি তার পক্ষে ব্যবহার করছেন।’
অভিযোগ পত্রে শংকর কুমার সরদার, প্রধান শিক্ষক, শুভদিয়া কুমারখালী বিঘাই মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ফকিরহাট; সরজিত কুমার দাশ, প্রধান শিক্ষক, শাহ্্ আউলিয়াবাগ মল্লিক মহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ফকিরহাট; প্রজিৎ কুমার মুজমদার, প্রধান শিক্ষক, কলকলিয়া জিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ফকিরহাট; প্রহলাদ চন্দ্র হীরা, প্রধান শিক্ষক, নলধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ফকিরহাট; উত্তম কুমার দাশ, প্রধান শিক্ষক, ডহর মৌভোগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ফকিরহাট; উত্তম কুমার অধিকারী, প্রধান শিক্ষক, ফলতিতা শশধর সমাজকল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ফকিরহাট; আবু সাঈদ মল্লিক, প্রভাষক, কাজী আজহার আলী কলেজ, ফকিরহাট; সেখ মশারেফ হোসেন, অধ্যক্ষ শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়, ফকিরহাট; মৃত্যুঞ্জয় কুমার দাস, সহকারী অধ্যাপক, হিসাব বিজ্ঞান, শেখ হেলালউদ্দিন সরকারি কলেজ, ফকিরহাট; উৎপল কুমার দাস, সহকারী অধ্যাপক, জীববিজ্ঞান, শেখ হেলালউদ্দিন সরকারি কলেজ, ফকিরহাট; সুব্রত কুমার দাস, প্রভাষক, ইংরেজি, শেখ হেলালউদ্দিন সরকারি কলেজ, ফকিরহাট; পল্লব কুমার দাস, প্রভাষক, সাচিবিক বিদ্যা ও অফিস ব্যবস্থাপনা, শেখ হেলালউদ্দিন সরকারি কলেজ, ফকিরহাট; কমলেশ চন্দ্র হালদার, সহকারী অধ্যাপক, ইংরেজি, শেখ হেলালউদ্দিন সরকারি কলেজ, ফকিরহাট; সৈয়দা আনোয়ারা বেগম, প্রধান শিক্ষক, আট্টাকা কেরামত আলী পাইলট বিদ্যালয়, ফকিরহাট; শ্যামল চন্দ্র মন্ডল, সিনিয়র শিক্ষক, মূলঘর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ফকিরহাট-কে নির্বাচন কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, উক্ত ব্যক্তিবর্গস্বপন দাশের সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করছে। এমনকি তারা গোপনে প্রার্থী স্বপন দাশের সঙ্গে মিটিংও করেছে।

অভিযোগপত্রে সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য ভোট অনুষ্ঠান এবং নির্বিগ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কিছু ব্যক্তিবর্গকে ভোটের কার্যক্রমের বাইরে রাখতে প্রধান নির্বাচন কমিশনের নিকট অনুরোধ করা হয়েছে। এতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে বলে মনে করেন।
শিশুদের পড়িয়ে, হাটে বড়ই বিক্রি করে এসএসসিতে এ প্লাস পেল দুর্জয়
Reporter Name 


















