Dhaka , Sunday, 1 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না          —–ডা. শফিকুর রহমান জায়গার সংকট, আগাছা-জঙ্গলে বেহাল বাগেরহাটের বড় কবরস্থান, দাফনেও ভোগান্তি বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা ৩০ অক্টোবর থেকে দুবলার চরে শুঁটকি উৎসব, জীবিকার সন্ধানে সাগরে নামছেন হাজারো জেলে বাগেরহাটে নাগরিক ফোরামের ত্রৈমাসিক সভা ও কার্যক্রম মূল্যায়নর কর্মশালা অনুষ্ঠিত  ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ, বাগেরহাটে কাটাখালীতে পথসভা পল্টন ট্র্যাজেডিতে শহীদদের স্মরণে বাগেরহাটে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল বাগেরহাটে বাংলালিংক কর্মীকে কুপিয়ে লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বাগেরহাটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ

বাগেরহাটে ৪ শিক্ষককে বহিস্কারের দাবিতে তৃতীয় দিনেও চলছে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 06:53:13 pm, Wednesday, 11 September 2024
  • 165 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের চিতলমারীতে কচুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী, প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৪ শিক্ষককে বহিস্কারের দাবিতে তৃতীয় দিনের মত বিক্ষোভ ও ক্লাস বর্জন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীরা ৪ শিক্ষককে বহিস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। প্রতিদিনের ন্যায় আজ বুধবার ও কচুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন এ সময় স্কুলের গেটে তালা লাগিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। তাদের একটাই দাবি মেধাবী, প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীর টাকা যারা আত্মসাৎ করেছেন তাদের বহিস্কার করে আইনের আওতায় আনলেই তারা ক্লাসে ফিরবেন বলে জানা গেছে। জানা যায়, ২০২২ সালে বাগেরহাটের চিতলমারী কচুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী, প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে স্কুলে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ ৪জন শিক্ষক এই বরাদ্দের টাকা বিতরণ না করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহ জড়িতদের বরখাস্ত এবং শাস্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা।মাধ্যমিক স্কুলে মেধাবী ও প্রতিবন্ধি কোটায় জন প্রতি শিক্ষার্থীদের ৫ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসে। বিষয়টি ২ বছর পর রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) জানাজানি হলে স্কুলের শিক্ষার্থীরা কখনো স্কুলে এবং কখনো উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে প্রতিকার চেয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে। এ সময় স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহন করে শিক্ষকদের বহিষ্কার দাবি করে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিভাবকরাও যোগ দিয়ে তাদের দাবির সাথে সুর মিলিয়ে মানুষ গড়ার কারিগর দুর্নীতিবাজ এসব শিক্ষকদের বিচার দাবি করেন।মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে যারা পড়াশুড়া করে অধিকাংশই দরিদ্র। বিদ্যালয়ের মেধাবী, প্রতিবন্ধী, দরিদ্র শিক্ষার্থীর জন্য ২০২২ সালে ৫লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসে। কিন্তু প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষরা আমাদের কোন টাকা না দিয়ে সম্পূর্ন টাকা আত্মসাৎ করে। পরে আমরা ০৯ সেপ্টেম্বর জানতে পারি আমাদের জন্য টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকসহ বাকি শিক্ষকদের কাছে জানতে চাইলে তারা আমাদের সঠিক কোন উত্তর দিতে পারেনি। আমরা পরে জানতে পেরেছি বিদ্যালয়ে কিছু পুরানো শিক্ষার্থীর নাম দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ভুয়া ভাউচার দিয়েছে। আমাদের শিক্ষক হয়ে যারা আমাদের দরিদ্র, মেধাবী, প্রতিবন্ধীদের অর্থ চুরি করেছে , বঞ্চিত করেছে আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, এই দূর্নিতীর সাথে প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজাহান আলী, সহকারী প্রধান শিক্ষক হেদায়েত আলী দুলাল, গনিতের শিক্ষক নির্মল কান্তী হিরা জড়িত রয়েছে। তাদের এই অপকর্মের জন্য প্রতিষ্ঠান থেকে বহিস্কার ও শাস্তি দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী তিথি মনির পিতা মোঃ সাফায়েত শেখ বলেন, রবিবার প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজাহান আলী, সহকারী প্রধান শিক্ষক হেদায়েত আলী দুলাল আমাকে কচুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তার উপরে বসে ৫ হাজার টাকা দেয়। আমি টাকা দেওয়ার কারন জানতে চাইলে তারা জানায় সরকারী টাকা তোমার মেয়েকে স্কুল থেকে দেওয়া হয়েছে। তিরি আরো বলেন, প্রতিষ্ঠানের দুলাল স্যার আমাকে বলেছে যদি কেউ জানতে চায় তাকে বলবা টাকাটা ৩/৪ মাস পূর্বে তোমাকে দেওয়া হয়েছে। টাকা আত্মসাৎ এর বিষয়ে অফিসের কেরানি মাসুম বিল্লাহ বলেন, হেড স্যার যেভাবে বলছে আমি সেভাবেই করেছি আর কিছু আমি জানিনা ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বাগেরহাটে ৪ শিক্ষককে বহিস্কারের দাবিতে তৃতীয় দিনেও চলছে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আপডেট টাইম : 06:53:13 pm, Wednesday, 11 September 2024

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের চিতলমারীতে কচুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী, প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৪ শিক্ষককে বহিস্কারের দাবিতে তৃতীয় দিনের মত বিক্ষোভ ও ক্লাস বর্জন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীরা ৪ শিক্ষককে বহিস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। প্রতিদিনের ন্যায় আজ বুধবার ও কচুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন এ সময় স্কুলের গেটে তালা লাগিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। তাদের একটাই দাবি মেধাবী, প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীর টাকা যারা আত্মসাৎ করেছেন তাদের বহিস্কার করে আইনের আওতায় আনলেই তারা ক্লাসে ফিরবেন বলে জানা গেছে। জানা যায়, ২০২২ সালে বাগেরহাটের চিতলমারী কচুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী, প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে স্কুলে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ ৪জন শিক্ষক এই বরাদ্দের টাকা বিতরণ না করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহ জড়িতদের বরখাস্ত এবং শাস্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা।মাধ্যমিক স্কুলে মেধাবী ও প্রতিবন্ধি কোটায় জন প্রতি শিক্ষার্থীদের ৫ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসে। বিষয়টি ২ বছর পর রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) জানাজানি হলে স্কুলের শিক্ষার্থীরা কখনো স্কুলে এবং কখনো উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে প্রতিকার চেয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে। এ সময় স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহন করে শিক্ষকদের বহিষ্কার দাবি করে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিভাবকরাও যোগ দিয়ে তাদের দাবির সাথে সুর মিলিয়ে মানুষ গড়ার কারিগর দুর্নীতিবাজ এসব শিক্ষকদের বিচার দাবি করেন।মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে যারা পড়াশুড়া করে অধিকাংশই দরিদ্র। বিদ্যালয়ের মেধাবী, প্রতিবন্ধী, দরিদ্র শিক্ষার্থীর জন্য ২০২২ সালে ৫লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসে। কিন্তু প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষরা আমাদের কোন টাকা না দিয়ে সম্পূর্ন টাকা আত্মসাৎ করে। পরে আমরা ০৯ সেপ্টেম্বর জানতে পারি আমাদের জন্য টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকসহ বাকি শিক্ষকদের কাছে জানতে চাইলে তারা আমাদের সঠিক কোন উত্তর দিতে পারেনি। আমরা পরে জানতে পেরেছি বিদ্যালয়ে কিছু পুরানো শিক্ষার্থীর নাম দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ভুয়া ভাউচার দিয়েছে। আমাদের শিক্ষক হয়ে যারা আমাদের দরিদ্র, মেধাবী, প্রতিবন্ধীদের অর্থ চুরি করেছে , বঞ্চিত করেছে আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, এই দূর্নিতীর সাথে প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজাহান আলী, সহকারী প্রধান শিক্ষক হেদায়েত আলী দুলাল, গনিতের শিক্ষক নির্মল কান্তী হিরা জড়িত রয়েছে। তাদের এই অপকর্মের জন্য প্রতিষ্ঠান থেকে বহিস্কার ও শাস্তি দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী তিথি মনির পিতা মোঃ সাফায়েত শেখ বলেন, রবিবার প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজাহান আলী, সহকারী প্রধান শিক্ষক হেদায়েত আলী দুলাল আমাকে কচুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তার উপরে বসে ৫ হাজার টাকা দেয়। আমি টাকা দেওয়ার কারন জানতে চাইলে তারা জানায় সরকারী টাকা তোমার মেয়েকে স্কুল থেকে দেওয়া হয়েছে। তিরি আরো বলেন, প্রতিষ্ঠানের দুলাল স্যার আমাকে বলেছে যদি কেউ জানতে চায় তাকে বলবা টাকাটা ৩/৪ মাস পূর্বে তোমাকে দেওয়া হয়েছে। টাকা আত্মসাৎ এর বিষয়ে অফিসের কেরানি মাসুম বিল্লাহ বলেন, হেড স্যার যেভাবে বলছে আমি সেভাবেই করেছি আর কিছু আমি জানিনা ।