Dhaka , Sunday, 1 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না          —–ডা. শফিকুর রহমান জায়গার সংকট, আগাছা-জঙ্গলে বেহাল বাগেরহাটের বড় কবরস্থান, দাফনেও ভোগান্তি বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা ৩০ অক্টোবর থেকে দুবলার চরে শুঁটকি উৎসব, জীবিকার সন্ধানে সাগরে নামছেন হাজারো জেলে বাগেরহাটে নাগরিক ফোরামের ত্রৈমাসিক সভা ও কার্যক্রম মূল্যায়নর কর্মশালা অনুষ্ঠিত  ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ, বাগেরহাটে কাটাখালীতে পথসভা পল্টন ট্র্যাজেডিতে শহীদদের স্মরণে বাগেরহাটে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল বাগেরহাটে বাংলালিংক কর্মীকে কুপিয়ে লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বাগেরহাটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ

ভাই ভাইয়ের জায়গায় থাকবে, দলের প্রশ্নে তার সাথে কোন সম্পর্ক নেই সংবাদ সম্মেলনে এম এ সালাম

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 06:03:14 pm, Saturday, 14 December 2024
  • 271 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাট জেলা বিএনপি নেতাদের বিরোধিতার মুখে পড়েছেন দলটির সাবেক জেলা সভাপতি ও বাগেরহাট-২ (সদর-কচুয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ এইচ. সেলিম। বাগেরহাট জেলা বিএনপির বর্তমান শীর্ষ নেতারা বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এম এ এইচ সেলিমের বিভিন্ন সমালোচনা করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে এম এ এইচ সেলিমকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, বছরের পর বছর দল ছেড়ে নিষ্ক্রিয় থাকা কাউকে নেতা-কর্মীরা আর গ্রহণ করবে না। বিরোধিতাকারী নেতৃবৃন্দের মধ্যে এম এ এইচ সেলিমের আপন ছোট ভাই ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালামও রয়েছেন। সালাম বর্তমান জেলা কমিটির সমন্ময়ক পদে রয়েছেন।সংবাদ সম্মেলনে সেলিমের আপন ছোট ভাই এম এ সালাম বলেন, ‘তিনি (সেলিম) আমার ভাই, কিন্তু তা বাসায়। ভাই ভাইয়ের জায়গায় থাকবে, সেটি আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক। ২০০৯ সালের পর দলের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর দলের প্রশ্নে তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।’তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ষ্পষ্ট করে বলেছেন, গত ৫ আগষ্টের পর যেসব নেতারা বিএনপিতে ফেরার চেষ্টা করছেন তাদের কোন অবস্থাতেই দলে জায়গা হবে না। বিএনপিতে বিগত ১৬ বছরে যারা রাজনীতির মাঠে ছিলেন, আন্দোলন করেছেন, জেল খেটেছেন, তাদের দল মূল্যায়ন করবে।তিনি আরও বলেন, সেলিম যখন বিএনপিতে ছিলেন তখন বিএনপি’র দলীয় কর্মকান্ড তার বাড়ি শহরের পুরাতন বাজারের মেহেদীকুঞ্জ থেকে পরিচালিত হতো। পদত্যাগের পর তিনি বলেন, ‘আমি যেহেতু এখন দল করি না, তাই আমার বাড়িতে বসে বিএনপির রাজনীতি পরিচালনা করা যাবে না।’ওই বাড়ি থেকে তাদের নামিয়ে দেয়া হয়েছিলো অভিযোগ করে সালাম বলেন, ‘আমি জমি কিনে সেখানে দলের কার্যালয় স্থাপন করে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছি। ’২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ রাস্ট্র ক্ষমতায় আসার পর এম এ এইচ. সেলিম জেলা বিএনপির সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত না থাকার ঘোষণা দেন। ২০০৭ সালে তত্তাবধায়ক সরকারের সময়ে তিনি বেশ কয়েকটি দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হয়ে জেলখানায় ছিলেন।পরিবর্তিত রাজনৈতিক সময়ে দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর গত ২৫ ও ২৬ নভেম্বর সাবেক এই বিএনপি নেতার অনুসারীরা তার সম্মানে বাগেরহাটে দুটি সংবর্ধনা সভা আয়োজন করে। এম এ এইচ সেলিম এসব অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠান দুটিতে বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে। এর পর থেকে স্থানীয় বিএনপির মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। আগামীকাল ১৭ ডিসেম্বর বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার গোয়ালমাঠ এলাকায় সেলিমের ব্যক্তিগত টাকায় গড়ে তোলা মাজেদা বেগম কৃষি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে তার অনুসারিরা আরও একটি নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজন করেছে। ঐ অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকবেন বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত করেছে। সংবাদ সম্মেলনে বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহবায়ক প্রকৌশলী এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম অভিযোগ করে বলেন, ‘জেলা বিএনপির পদত্যাগী সাবেক সভাপতি এম এ এইচ সেলিম ৫ আগষ্টের পর গত ২৫ ও ২৬ নভেম্বর এলাকায় ফিরে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলছেন। বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকান্ড এবং নের্তৃবৃন্দ সম্পর্কে প্রকাশ্যে অনাকাক্সিখত, আপত্তিকর এবং উষ্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেছেন। তার এই বক্তব্যের জন্য বিএনপি প্রতিবাদ জানাচ্ছি সেই সাথে তার ওই বক্তব্যের জন্য অনতিবিলম্বে তাকে আমরা ক্ষমা প্রার্থনার আহবান জানাচ্ছি।’জেলা বিএনপি’র আহবায়ক বলেন, সেলিমের সংবর্ধনার একটি পোষ্টারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তার সাথে আমাদের দলের কোন সম্পর্ক নেই। তিনি এই ছবি ব্যবহার করতে পারেন না। তিনি বিগত স্বৈরাচারি আওয়ামীলীগের শাসনামলে তাদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে ব্যবসা বানিজ্য করে সুন্দর জীবনযাপন করেছেন। তার এই কর্মকান্ড জেলা বিএনপি কোনভাবেই মেনে নেবে না বলে হুশিঁয়ারি দেন এই নেতা।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আইনজীবী ওয়াহিদুজ্জামান দিপু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খাদেম নিয়ামূল নাসির আলাপ, শেখ শমসের আলী মোহন, আহবায়ক কমিটির সদস্য শেখ শাহেদ আলী রবি, পৌরবিএনপির আহবায়ক এসকেন্দার হোসেনসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ভাই ভাইয়ের জায়গায় থাকবে, দলের প্রশ্নে তার সাথে কোন সম্পর্ক নেই সংবাদ সম্মেলনে এম এ সালাম

আপডেট টাইম : 06:03:14 pm, Saturday, 14 December 2024

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাট জেলা বিএনপি নেতাদের বিরোধিতার মুখে পড়েছেন দলটির সাবেক জেলা সভাপতি ও বাগেরহাট-২ (সদর-কচুয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ এইচ. সেলিম। বাগেরহাট জেলা বিএনপির বর্তমান শীর্ষ নেতারা বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এম এ এইচ সেলিমের বিভিন্ন সমালোচনা করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে এম এ এইচ সেলিমকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, বছরের পর বছর দল ছেড়ে নিষ্ক্রিয় থাকা কাউকে নেতা-কর্মীরা আর গ্রহণ করবে না। বিরোধিতাকারী নেতৃবৃন্দের মধ্যে এম এ এইচ সেলিমের আপন ছোট ভাই ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালামও রয়েছেন। সালাম বর্তমান জেলা কমিটির সমন্ময়ক পদে রয়েছেন।সংবাদ সম্মেলনে সেলিমের আপন ছোট ভাই এম এ সালাম বলেন, ‘তিনি (সেলিম) আমার ভাই, কিন্তু তা বাসায়। ভাই ভাইয়ের জায়গায় থাকবে, সেটি আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক। ২০০৯ সালের পর দলের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর দলের প্রশ্নে তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।’তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ষ্পষ্ট করে বলেছেন, গত ৫ আগষ্টের পর যেসব নেতারা বিএনপিতে ফেরার চেষ্টা করছেন তাদের কোন অবস্থাতেই দলে জায়গা হবে না। বিএনপিতে বিগত ১৬ বছরে যারা রাজনীতির মাঠে ছিলেন, আন্দোলন করেছেন, জেল খেটেছেন, তাদের দল মূল্যায়ন করবে।তিনি আরও বলেন, সেলিম যখন বিএনপিতে ছিলেন তখন বিএনপি’র দলীয় কর্মকান্ড তার বাড়ি শহরের পুরাতন বাজারের মেহেদীকুঞ্জ থেকে পরিচালিত হতো। পদত্যাগের পর তিনি বলেন, ‘আমি যেহেতু এখন দল করি না, তাই আমার বাড়িতে বসে বিএনপির রাজনীতি পরিচালনা করা যাবে না।’ওই বাড়ি থেকে তাদের নামিয়ে দেয়া হয়েছিলো অভিযোগ করে সালাম বলেন, ‘আমি জমি কিনে সেখানে দলের কার্যালয় স্থাপন করে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছি। ’২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ রাস্ট্র ক্ষমতায় আসার পর এম এ এইচ. সেলিম জেলা বিএনপির সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত না থাকার ঘোষণা দেন। ২০০৭ সালে তত্তাবধায়ক সরকারের সময়ে তিনি বেশ কয়েকটি দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হয়ে জেলখানায় ছিলেন।পরিবর্তিত রাজনৈতিক সময়ে দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর গত ২৫ ও ২৬ নভেম্বর সাবেক এই বিএনপি নেতার অনুসারীরা তার সম্মানে বাগেরহাটে দুটি সংবর্ধনা সভা আয়োজন করে। এম এ এইচ সেলিম এসব অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠান দুটিতে বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে। এর পর থেকে স্থানীয় বিএনপির মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। আগামীকাল ১৭ ডিসেম্বর বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার গোয়ালমাঠ এলাকায় সেলিমের ব্যক্তিগত টাকায় গড়ে তোলা মাজেদা বেগম কৃষি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে তার অনুসারিরা আরও একটি নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজন করেছে। ঐ অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকবেন বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত করেছে। সংবাদ সম্মেলনে বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহবায়ক প্রকৌশলী এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম অভিযোগ করে বলেন, ‘জেলা বিএনপির পদত্যাগী সাবেক সভাপতি এম এ এইচ সেলিম ৫ আগষ্টের পর গত ২৫ ও ২৬ নভেম্বর এলাকায় ফিরে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলছেন। বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকান্ড এবং নের্তৃবৃন্দ সম্পর্কে প্রকাশ্যে অনাকাক্সিখত, আপত্তিকর এবং উষ্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেছেন। তার এই বক্তব্যের জন্য বিএনপি প্রতিবাদ জানাচ্ছি সেই সাথে তার ওই বক্তব্যের জন্য অনতিবিলম্বে তাকে আমরা ক্ষমা প্রার্থনার আহবান জানাচ্ছি।’জেলা বিএনপি’র আহবায়ক বলেন, সেলিমের সংবর্ধনার একটি পোষ্টারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তার সাথে আমাদের দলের কোন সম্পর্ক নেই। তিনি এই ছবি ব্যবহার করতে পারেন না। তিনি বিগত স্বৈরাচারি আওয়ামীলীগের শাসনামলে তাদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে ব্যবসা বানিজ্য করে সুন্দর জীবনযাপন করেছেন। তার এই কর্মকান্ড জেলা বিএনপি কোনভাবেই মেনে নেবে না বলে হুশিঁয়ারি দেন এই নেতা।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আইনজীবী ওয়াহিদুজ্জামান দিপু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খাদেম নিয়ামূল নাসির আলাপ, শেখ শমসের আলী মোহন, আহবায়ক কমিটির সদস্য শেখ শাহেদ আলী রবি, পৌরবিএনপির আহবায়ক এসকেন্দার হোসেনসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।