Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে IELTS ও জাপানি ভাষা শিক্ষা নিয়ে সেমিনার

বাগেরহাটে মসজিদ ও ৫০ বিঘা জমি দখলে নিতে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 06:28:02 pm, Monday, 27 January 2025
  • 164 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ফুলহাতা এলাকায় মসজিদ ও বসতবাড়ির জমি দখলে নিতে শামীম হোসেন শাওন (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। মিথ্যা মামলা, মারধরের চেষ্টা, এলাকা ছাড়তে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই অবস্থায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাবা-মা হারা শামীম হোসেন শাওন। নিজের জান-মাল রক্ষায় পুলিশ-প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। শামীম হোসেন শাওন ফুলহাতা গ্রামের মৃত এম মহসিন হোসেনের ছেলে। অভিযুক্ত মোঃ নোমান হোসেন মোল্লা মৃত ফেরদাউস মোল্লার ছেলে। স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৫ সালে ফুলহাতা এলাকায় বায়তুল মামুর জামে মসজিদ নির্মান করে দেন বিশিষ্ট শিল্পপতি এম মহসিন হোসেন। মসজিদের অনুক‚লে প্রায় ৫০ বিঘা জমি দান করেন তিনি। স্বপ্ন ছিল মসজিদের সাথে মাদরাসা ও ইয়াতিমখানা করার। দান করা জমি থেকে যে আয় হবে, সেই আয়ে দিয়ে চলবে এই প্রতিষ্ঠান এবং এইসব পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে গেছেন তার ছেলে শামীম হোসেন শাওনকে। শামীম হোসেন শাওনের পরিচালনা অনুযায়ী সবকিছু ঠিকঠাক চললে, বাধা হয়ে দাড়িয়েছে তার ভাইয়ের ছেলে মোঃ নোমান হোসেন মোল্লা (৪৬)। তিনি শামীম হোসেন শাওনের নামে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়েছে। শাওনকে হত্যার হুমকিও দিয়েছে। মসজিদটি সঠিকভাবে পরিচালনা ও শামীম হোসেন শাওনের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় মোঃ নোমান হোসেন মোল্লার হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।স্থানীয় আলী আকবর মোল্লা বলেন, এম মহসিন হোসেন একজন ভালো মানুষ ছিলেন। সে মারা যাওয়ার আগে পঞ্চাশ বিঘা জমি মসজিদ মাদ্রাসা এতিমখানার জন্য দান করে গেছেন। তার ছেলে শামীম হোসেন শাওনকে পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, সে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে।দিঘি লীজ নেওয়া শহীদ জোমাদ্দার বলেন, আমি শাওন ভাইয়ের কাছ থেকে দুই বছরের জন্য হাড়ি দিয়ে নিয়েছি। ২০২৪ সালের ৫ জুলাই এর পর তার চাচাতো ভাই নোমান মোল্লা এসে আমাকে বলে এই দিঘি এই জমি আর শাওনের নেই যদি এই দিঘিতে মাছ চাষ করতে হয় তাহলে আমাকে নতুন করে টাকা দিবি তা না হলে তিন দিনের ভেতর এখান থেকে চলে যাবি এরকম হুমকি দিতে থাকে। আমাকে হয়রানী করার ভয়ভীতি দিয়ে জোরপূর্বক ২৪ হাজার টাকা নেয় নোমান মোল্লা। আমি গরিব মানুষ উপরে আল্লাহ পাক ছাড়া আমার কেউই নেই। বায়তুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আরব আলী বলেন, আমি এই মসজিদে ছয় বছর ধরে ইমামতি করি। মহসিন সাহেব যে জায়গা জমি রেখে গেছেন তার ছেলে শাওন এই সবকিছু দেখাশোনা করেন এবং প্রতি মাসে সেখান থেকে আমাদের বেতন দিয়ে থাকেন। এছাড়া এলাকাবাসীরাও খুব আন্তরিক, মসজিদ পরিচালনায় তারা প্রতিনিয়ত আর্থিক অনুদান বা বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা করে থাকে।অভিযুক্ত মোঃ নোমান হোসেনের আপন ভাই কবির হোসেন মোল্লা বলেন, নোমান অনেক হিংস্র মানুষ। সে জমি সংক্রান্ত কারণে আমার নামেও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করেছে। আসলে সে মানুষের শান্তি সহ্য করতে পারে না। আমার চাচা এম মহসিন হোসেন তিনি মৃত্যুর আগে সবকিছুরই দলিল পত্র করে তার ছেলে শামীম হোসেন শাওনকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন এখন আমার ভাই নোমান কি কারণে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে আমার এটা জানা নাই। ভুক্তভোগী শামীম হোসেন শাওন বলেন, আমার বাবা মারা যাওয়ার আগে এই মসজিদ মাদ্রাসার ও এতিমখানার নামে ৫০ বিঘা জমি ওয়াকফ করে আমাকে মাতোয়ালি রেখে যান, সবকিছু পরিচালনার দায়িত্ব আমাকে দিয়ে গেছেন। তার মারা যাওয়ার পর আমি এই ১৬ বছর ধরেই সঠিকভাবে দেখাশোনা করে আসছি। এই ৫০ বিঘা জমি থেকে যে আয় আসে তা দিয়েই মসজিদ পরিচালনা করা হয়, যেখানে আমারও একটা বেতন আছে। কিন্তু কিছুদিন থেকেই আমার আপন চাচাতো ভাই নোমান হোসেন মোল্লা এই মসজিদ মাদ্রাসা এতিমখানার ও বসতি বাড়ির জমি জায়গা দখল নেওয়ার জন্য আমার নামে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। দানকৃত জমির ওপর থেকে বেশ কিছু গাছপালা কেটে নিয়ে বিক্রি করে। এই দুই দিন আগে ও আমার নামে আবার একটা মামলা দিয়েছে সাথে নিরীহ একটা ছেলে মোঃ রিয়াজ মোল্লার নামে চাঁদাবাজি মামলা দিয়েছে । আমাকে মেরে ফেলার হুমকিও দিচ্ছে। আমি পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কাছে সাহায্যের জন্য প্রার্থনা করছি যে আমাকে এই মিথ্যা মামলা হয়রানির থেকে সঠিকভাবে তদন্ত করে আগে মুক্তি দেন এবং নোমান মোল্লা যাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায় সেই দাবি জানাই।এই বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ নোমান মোল্লা কে বার বার ফোন করলে ফোন ধরে তিনি সাংবাদিকের পরিচয় দেন। পরবর্তীতে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি আর পরবর্তী ফোন ধরেননি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু

বাগেরহাটে মসজিদ ও ৫০ বিঘা জমি দখলে নিতে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগ

আপডেট টাইম : 06:28:02 pm, Monday, 27 January 2025

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ফুলহাতা এলাকায় মসজিদ ও বসতবাড়ির জমি দখলে নিতে শামীম হোসেন শাওন (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। মিথ্যা মামলা, মারধরের চেষ্টা, এলাকা ছাড়তে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই অবস্থায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাবা-মা হারা শামীম হোসেন শাওন। নিজের জান-মাল রক্ষায় পুলিশ-প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। শামীম হোসেন শাওন ফুলহাতা গ্রামের মৃত এম মহসিন হোসেনের ছেলে। অভিযুক্ত মোঃ নোমান হোসেন মোল্লা মৃত ফেরদাউস মোল্লার ছেলে। স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৫ সালে ফুলহাতা এলাকায় বায়তুল মামুর জামে মসজিদ নির্মান করে দেন বিশিষ্ট শিল্পপতি এম মহসিন হোসেন। মসজিদের অনুক‚লে প্রায় ৫০ বিঘা জমি দান করেন তিনি। স্বপ্ন ছিল মসজিদের সাথে মাদরাসা ও ইয়াতিমখানা করার। দান করা জমি থেকে যে আয় হবে, সেই আয়ে দিয়ে চলবে এই প্রতিষ্ঠান এবং এইসব পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে গেছেন তার ছেলে শামীম হোসেন শাওনকে। শামীম হোসেন শাওনের পরিচালনা অনুযায়ী সবকিছু ঠিকঠাক চললে, বাধা হয়ে দাড়িয়েছে তার ভাইয়ের ছেলে মোঃ নোমান হোসেন মোল্লা (৪৬)। তিনি শামীম হোসেন শাওনের নামে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়েছে। শাওনকে হত্যার হুমকিও দিয়েছে। মসজিদটি সঠিকভাবে পরিচালনা ও শামীম হোসেন শাওনের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় মোঃ নোমান হোসেন মোল্লার হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।স্থানীয় আলী আকবর মোল্লা বলেন, এম মহসিন হোসেন একজন ভালো মানুষ ছিলেন। সে মারা যাওয়ার আগে পঞ্চাশ বিঘা জমি মসজিদ মাদ্রাসা এতিমখানার জন্য দান করে গেছেন। তার ছেলে শামীম হোসেন শাওনকে পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, সে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে।দিঘি লীজ নেওয়া শহীদ জোমাদ্দার বলেন, আমি শাওন ভাইয়ের কাছ থেকে দুই বছরের জন্য হাড়ি দিয়ে নিয়েছি। ২০২৪ সালের ৫ জুলাই এর পর তার চাচাতো ভাই নোমান মোল্লা এসে আমাকে বলে এই দিঘি এই জমি আর শাওনের নেই যদি এই দিঘিতে মাছ চাষ করতে হয় তাহলে আমাকে নতুন করে টাকা দিবি তা না হলে তিন দিনের ভেতর এখান থেকে চলে যাবি এরকম হুমকি দিতে থাকে। আমাকে হয়রানী করার ভয়ভীতি দিয়ে জোরপূর্বক ২৪ হাজার টাকা নেয় নোমান মোল্লা। আমি গরিব মানুষ উপরে আল্লাহ পাক ছাড়া আমার কেউই নেই। বায়তুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আরব আলী বলেন, আমি এই মসজিদে ছয় বছর ধরে ইমামতি করি। মহসিন সাহেব যে জায়গা জমি রেখে গেছেন তার ছেলে শাওন এই সবকিছু দেখাশোনা করেন এবং প্রতি মাসে সেখান থেকে আমাদের বেতন দিয়ে থাকেন। এছাড়া এলাকাবাসীরাও খুব আন্তরিক, মসজিদ পরিচালনায় তারা প্রতিনিয়ত আর্থিক অনুদান বা বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা করে থাকে।অভিযুক্ত মোঃ নোমান হোসেনের আপন ভাই কবির হোসেন মোল্লা বলেন, নোমান অনেক হিংস্র মানুষ। সে জমি সংক্রান্ত কারণে আমার নামেও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করেছে। আসলে সে মানুষের শান্তি সহ্য করতে পারে না। আমার চাচা এম মহসিন হোসেন তিনি মৃত্যুর আগে সবকিছুরই দলিল পত্র করে তার ছেলে শামীম হোসেন শাওনকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন এখন আমার ভাই নোমান কি কারণে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে আমার এটা জানা নাই। ভুক্তভোগী শামীম হোসেন শাওন বলেন, আমার বাবা মারা যাওয়ার আগে এই মসজিদ মাদ্রাসার ও এতিমখানার নামে ৫০ বিঘা জমি ওয়াকফ করে আমাকে মাতোয়ালি রেখে যান, সবকিছু পরিচালনার দায়িত্ব আমাকে দিয়ে গেছেন। তার মারা যাওয়ার পর আমি এই ১৬ বছর ধরেই সঠিকভাবে দেখাশোনা করে আসছি। এই ৫০ বিঘা জমি থেকে যে আয় আসে তা দিয়েই মসজিদ পরিচালনা করা হয়, যেখানে আমারও একটা বেতন আছে। কিন্তু কিছুদিন থেকেই আমার আপন চাচাতো ভাই নোমান হোসেন মোল্লা এই মসজিদ মাদ্রাসা এতিমখানার ও বসতি বাড়ির জমি জায়গা দখল নেওয়ার জন্য আমার নামে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। দানকৃত জমির ওপর থেকে বেশ কিছু গাছপালা কেটে নিয়ে বিক্রি করে। এই দুই দিন আগে ও আমার নামে আবার একটা মামলা দিয়েছে সাথে নিরীহ একটা ছেলে মোঃ রিয়াজ মোল্লার নামে চাঁদাবাজি মামলা দিয়েছে । আমাকে মেরে ফেলার হুমকিও দিচ্ছে। আমি পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কাছে সাহায্যের জন্য প্রার্থনা করছি যে আমাকে এই মিথ্যা মামলা হয়রানির থেকে সঠিকভাবে তদন্ত করে আগে মুক্তি দেন এবং নোমান মোল্লা যাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায় সেই দাবি জানাই।এই বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ নোমান মোল্লা কে বার বার ফোন করলে ফোন ধরে তিনি সাংবাদিকের পরিচয় দেন। পরবর্তীতে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি আর পরবর্তী ফোন ধরেননি।