Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে IELTS ও জাপানি ভাষা শিক্ষা নিয়ে সেমিনার

বাগেরহাটে ভারতীয় দুই নাগিরককে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান,

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 07:24:29 pm, Tuesday, 13 May 2025
  • 441 বার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট
বাগেরহাটে জালিয়াতির মাধ্যমে ভারতীয় দুই সহোদর নাগিরককে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করায় অভিযোগে নির্বাচন কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুরে বাগেরহাট দুদক কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক (এডি) মো. সাইদুর রহমান বাদী হয়ে দুদক বাগেরহাট কার্যালয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় পারস্পরিক যোগসাজশে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিধিবহির্ভূতভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে।আসামীরা হলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার তৎকালীন নির্বাচন কর্মকর্তা ও বর্তমান বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার হাওলাদার, চিতলমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ নিজাম উদ্দিন ও চিতলমারী উপজেলার আড়ুয়াবর্ণি গ্রামের বাসিন্দা সাবেক সেনা সদস্য মো. মোশাররফ হোসেন মোল্লা। এই মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে চিতলমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ নিজাম উদ্দিনকে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস না করা সত্তে¡ও শ্রী ফনি ভূষণ ওরফে মনি মÐল এবং প্রতুল চন্দ্র মন্ডলের নামের দুই সহোদরকে চিতলমারী থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ ও তা ব্যবহার করে একজনকে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেওয়া হয়। ওই দুই জন ভারতীয় নাগরিক হলেও আড়ুয়াবর্নি গ্রামে থাকা তাঁদের পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রির জন্য স্থানীয় মোশাররফ হোসেন মোল্লা তাদের দেশে নিয়ে আসেন এবং ২০১৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করান। দুদক সূত্র বলছে, ওই আবেদনে নির্ধারিত ফরমে ১৯৪৮ সালের ১ জানুয়ারিতে  ফণিভূষণ মন্ডল এবং ১৯৫৩ সালের ৪ এপ্রিল প্রতুল মন্ডলের জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়। আবেদনের ৪ দিন পর তাদের দুই ভাইকে জন্ম নিবন্ধন দেন চেয়ারম্যান শেখ নিজাম উদ্দিন। এরপর ওই জন্মনিবন্ধন দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্রের জন্য নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন তারা। যার প্রেক্ষিতে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাচন অফিস হতে তাঁর নামে জাতীয় পরিচয়পত্র (নং: ১৯৪৮০১২০৮০০০০০০০১) ইস্যু করা হয়। অনুসন্ধানকালে ফণিভূষন ওরফে মনি মন্ডলের নামে সৃষ্ট জাতীয় পরিচয়পত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ফণিভূষন ওরফে মনি মন্ডলের জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৪৮ সালে। কিন্তু তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরী করা হয় ২০১৭ সালে। যা তাঁর জন্মের ৬৯ বছর পর। ভোটার তালিকা হতে বাদ পড়ার কারণ হিসেবে ভোটার নিবন্ধন
ফরমের ৩২নং ঘরে উল্লেখ করা হয়েছে চিকিৎসার জন্য এলাকার বাইরে থাকা। ফণিভূষন ওরফে মনি মন্ডলের বাবার নাম মৃত শশধর মন্ডল দেয়া হলেও তৈরি করা জাতীয়পরিচয়পত্রে বাবার নাম মৃত রবীন্দ্রনাথ মন্ডল। ভোটার নিবন্ধন ফরমের ৭ নং ঘরে বাবার মৃত্যু হয়েছে ১৯৪৪ সালে। সে অনুযায়ী, পিতার মৃত্যুর ৪ বছর পরে ফনিভূষনের জন্ম। ফরমে শনাক্তকারী হিসেবে সুষেন মন্ডল নামের এক ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার ব্যবহার করে তাঁর স্বাক্ষর জাল করে সনাক্তকারী হিসেবে দেখানো হয়। আর ফণিভূষন ওরফে মনি মন্ডলের বর্তমান ঠিকানা দেওয়া হয় বাগেরহাট পৌরসভার সোনাতলা গ্রাম। তবে তদন্তকালে দুদক ওই এলাকায় সেই ব্যক্তির কোন অস্তিত পাওয়া যায়নি। এমন আরও অনেক জাল জালিয়াতি হয়েছে এবং ওই এনআইডি ব্যবহার করে ফনিভূষণকে দাতা দেখিয়ে সম্পত্তি বিক্রয় করা হয়েছে। দুদক, বাগেরহাট কার্যালয়ের এডি মো. সাইদুর রহমান বলেন, পারস্পরিক যোগসাজশ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে উক্ত ব্যক্তিকে বিধিবহির্ভূতভাবে জাল জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণ করে জাতীয় পরিচয়পত্র করেছেন যা দুদকের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।তাই দন্ডবিধির ৪২০,৪৬৭, ৪৬৮,৪৭১,১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দূর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে ওই মামলাটি করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু

বাগেরহাটে ভারতীয় দুই নাগিরককে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান,

আপডেট টাইম : 07:24:29 pm, Tuesday, 13 May 2025

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট
বাগেরহাটে জালিয়াতির মাধ্যমে ভারতীয় দুই সহোদর নাগিরককে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করায় অভিযোগে নির্বাচন কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুরে বাগেরহাট দুদক কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক (এডি) মো. সাইদুর রহমান বাদী হয়ে দুদক বাগেরহাট কার্যালয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় পারস্পরিক যোগসাজশে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিধিবহির্ভূতভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে।আসামীরা হলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার তৎকালীন নির্বাচন কর্মকর্তা ও বর্তমান বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার হাওলাদার, চিতলমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ নিজাম উদ্দিন ও চিতলমারী উপজেলার আড়ুয়াবর্ণি গ্রামের বাসিন্দা সাবেক সেনা সদস্য মো. মোশাররফ হোসেন মোল্লা। এই মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে চিতলমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ নিজাম উদ্দিনকে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস না করা সত্তে¡ও শ্রী ফনি ভূষণ ওরফে মনি মÐল এবং প্রতুল চন্দ্র মন্ডলের নামের দুই সহোদরকে চিতলমারী থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ ও তা ব্যবহার করে একজনকে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেওয়া হয়। ওই দুই জন ভারতীয় নাগরিক হলেও আড়ুয়াবর্নি গ্রামে থাকা তাঁদের পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রির জন্য স্থানীয় মোশাররফ হোসেন মোল্লা তাদের দেশে নিয়ে আসেন এবং ২০১৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করান। দুদক সূত্র বলছে, ওই আবেদনে নির্ধারিত ফরমে ১৯৪৮ সালের ১ জানুয়ারিতে  ফণিভূষণ মন্ডল এবং ১৯৫৩ সালের ৪ এপ্রিল প্রতুল মন্ডলের জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়। আবেদনের ৪ দিন পর তাদের দুই ভাইকে জন্ম নিবন্ধন দেন চেয়ারম্যান শেখ নিজাম উদ্দিন। এরপর ওই জন্মনিবন্ধন দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্রের জন্য নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন তারা। যার প্রেক্ষিতে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাচন অফিস হতে তাঁর নামে জাতীয় পরিচয়পত্র (নং: ১৯৪৮০১২০৮০০০০০০০১) ইস্যু করা হয়। অনুসন্ধানকালে ফণিভূষন ওরফে মনি মন্ডলের নামে সৃষ্ট জাতীয় পরিচয়পত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ফণিভূষন ওরফে মনি মন্ডলের জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৪৮ সালে। কিন্তু তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরী করা হয় ২০১৭ সালে। যা তাঁর জন্মের ৬৯ বছর পর। ভোটার তালিকা হতে বাদ পড়ার কারণ হিসেবে ভোটার নিবন্ধন
ফরমের ৩২নং ঘরে উল্লেখ করা হয়েছে চিকিৎসার জন্য এলাকার বাইরে থাকা। ফণিভূষন ওরফে মনি মন্ডলের বাবার নাম মৃত শশধর মন্ডল দেয়া হলেও তৈরি করা জাতীয়পরিচয়পত্রে বাবার নাম মৃত রবীন্দ্রনাথ মন্ডল। ভোটার নিবন্ধন ফরমের ৭ নং ঘরে বাবার মৃত্যু হয়েছে ১৯৪৪ সালে। সে অনুযায়ী, পিতার মৃত্যুর ৪ বছর পরে ফনিভূষনের জন্ম। ফরমে শনাক্তকারী হিসেবে সুষেন মন্ডল নামের এক ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার ব্যবহার করে তাঁর স্বাক্ষর জাল করে সনাক্তকারী হিসেবে দেখানো হয়। আর ফণিভূষন ওরফে মনি মন্ডলের বর্তমান ঠিকানা দেওয়া হয় বাগেরহাট পৌরসভার সোনাতলা গ্রাম। তবে তদন্তকালে দুদক ওই এলাকায় সেই ব্যক্তির কোন অস্তিত পাওয়া যায়নি। এমন আরও অনেক জাল জালিয়াতি হয়েছে এবং ওই এনআইডি ব্যবহার করে ফনিভূষণকে দাতা দেখিয়ে সম্পত্তি বিক্রয় করা হয়েছে। দুদক, বাগেরহাট কার্যালয়ের এডি মো. সাইদুর রহমান বলেন, পারস্পরিক যোগসাজশ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে উক্ত ব্যক্তিকে বিধিবহির্ভূতভাবে জাল জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণ করে জাতীয় পরিচয়পত্র করেছেন যা দুদকের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।তাই দন্ডবিধির ৪২০,৪৬৭, ৪৬৮,৪৭১,১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দূর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে ওই মামলাটি করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।