Dhaka , Tuesday, 3 November 2026
শিরোনাম :
জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দায়িত্ব পেলেন বাগেরহাটের সৈয়দ মোরশেদ আনোয়ার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে বাগেরহাটে যুবদলের প্রস্তুতি সভা বাগেরহাটে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে চেক বিতরণ বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সড়ক মন্ত্রীর এসি প্রদান বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না          —–ডা. শফিকুর রহমান জায়গার সংকট, আগাছা-জঙ্গলে বেহাল বাগেরহাটের বড় কবরস্থান, দাফনেও ভোগান্তি বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা ৩০ অক্টোবর থেকে দুবলার চরে শুঁটকি উৎসব, জীবিকার সন্ধানে সাগরে নামছেন হাজারো জেলে

টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত বাগেরহাট, ভোগান্তিতে সাধারন মানুষ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 02:32:23 pm, Wednesday, 9 July 2025
  • 38 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে টানা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে জেলার সদর, মোরেলগঞ্জ, মোংলা, শরণখোলা, রামপালসহ ৯টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন স্থানে ১১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।ভারী বর্ষণের কারণে রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়েছে, শহরের বহু এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম জলাবদ্ধতা। বিশেষ করে বাগেরহাট পৌরসভা চত্ত্বর, শহরের রাহাতের মোড়, সাধনার মোড়, নাগেরবাজার, পোস্ট অফিস মোড় ও শালতলা এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে আছে। জেলার সব নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে এক থেকে দুই ফুট পর্যন্ত বেড়েছে।জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। রিকশাচালক, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ কাজ হারিয়ে পড়েছেন বিপাকে। চা দোকানি সুমন শেখ বলেন, দোকানে পানি উঠে গেছে। সামনে পানি জমে আছে, বেচাকেনা একদম বন্ধ।শিক্ষক অনিমেষ সাহা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘর থেকে বের হওয়াই দায় হয়ে উঠেছে। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা এতটাই নাজুক যে একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। এর কোনো সমাধান কবে হবে, জানি না।পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কালাম জানান, বাড়ির চারপাশে হাঁটু পানি। রান্নাঘরেও পানি ঢুকে গেছে, পানি সেচে বাইরে ফেলতে হচ্ছে। চরম কষ্টে দিন কাটছে।অন্যদিকে, লঘুচাপের প্রভাবে উত্তাল বঙ্গোপসাগরের কারণে সুন্দরবনের কটকা, কচিখালী, সুপতি, দুবলা, শরণখোলা ও মোংলা এলাকার খালে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে শত শত মাছ ধরা ট্রলার। মোংলা বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে বন্দরে খাদ্যবাহীসহ ৯টি পণ্যবোঝাই জাহাজ রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এসব জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। মোংলা বন্দরের উপ-পরিচালক (বোর্ড ও জনসংযোগ) মো. মাকরুজ্জামান জানান, বন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে সাগরে মাছ ধরা সম্ভব না হওয়ায় বহু ট্রলার নিরাপদে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে আশ্রয় নিয়েছে।মোংলা আবহাওয়া অফিসের প্রধান আবহাওয়াবিদ হারুন আর রশিদ বলেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্য বিরাজ করছে। এর ফলে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় মোংলা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দায়িত্ব পেলেন বাগেরহাটের সৈয়দ মোরশেদ আনোয়ার

টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত বাগেরহাট, ভোগান্তিতে সাধারন মানুষ

আপডেট টাইম : 02:32:23 pm, Wednesday, 9 July 2025

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে টানা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে জেলার সদর, মোরেলগঞ্জ, মোংলা, শরণখোলা, রামপালসহ ৯টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন স্থানে ১১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।ভারী বর্ষণের কারণে রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়েছে, শহরের বহু এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম জলাবদ্ধতা। বিশেষ করে বাগেরহাট পৌরসভা চত্ত্বর, শহরের রাহাতের মোড়, সাধনার মোড়, নাগেরবাজার, পোস্ট অফিস মোড় ও শালতলা এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে আছে। জেলার সব নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে এক থেকে দুই ফুট পর্যন্ত বেড়েছে।জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। রিকশাচালক, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ কাজ হারিয়ে পড়েছেন বিপাকে। চা দোকানি সুমন শেখ বলেন, দোকানে পানি উঠে গেছে। সামনে পানি জমে আছে, বেচাকেনা একদম বন্ধ।শিক্ষক অনিমেষ সাহা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘর থেকে বের হওয়াই দায় হয়ে উঠেছে। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা এতটাই নাজুক যে একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। এর কোনো সমাধান কবে হবে, জানি না।পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কালাম জানান, বাড়ির চারপাশে হাঁটু পানি। রান্নাঘরেও পানি ঢুকে গেছে, পানি সেচে বাইরে ফেলতে হচ্ছে। চরম কষ্টে দিন কাটছে।অন্যদিকে, লঘুচাপের প্রভাবে উত্তাল বঙ্গোপসাগরের কারণে সুন্দরবনের কটকা, কচিখালী, সুপতি, দুবলা, শরণখোলা ও মোংলা এলাকার খালে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে শত শত মাছ ধরা ট্রলার। মোংলা বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে বন্দরে খাদ্যবাহীসহ ৯টি পণ্যবোঝাই জাহাজ রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এসব জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। মোংলা বন্দরের উপ-পরিচালক (বোর্ড ও জনসংযোগ) মো. মাকরুজ্জামান জানান, বন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে সাগরে মাছ ধরা সম্ভব না হওয়ায় বহু ট্রলার নিরাপদে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে আশ্রয় নিয়েছে।মোংলা আবহাওয়া অফিসের প্রধান আবহাওয়াবিদ হারুন আর রশিদ বলেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্য বিরাজ করছে। এর ফলে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় মোংলা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।