Dhaka , Sunday, 1 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না          —–ডা. শফিকুর রহমান জায়গার সংকট, আগাছা-জঙ্গলে বেহাল বাগেরহাটের বড় কবরস্থান, দাফনেও ভোগান্তি বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা ৩০ অক্টোবর থেকে দুবলার চরে শুঁটকি উৎসব, জীবিকার সন্ধানে সাগরে নামছেন হাজারো জেলে বাগেরহাটে নাগরিক ফোরামের ত্রৈমাসিক সভা ও কার্যক্রম মূল্যায়নর কর্মশালা অনুষ্ঠিত  ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ, বাগেরহাটে কাটাখালীতে পথসভা পল্টন ট্র্যাজেডিতে শহীদদের স্মরণে বাগেরহাটে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল বাগেরহাটে বাংলালিংক কর্মীকে কুপিয়ে লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বাগেরহাটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ

সালিশে অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা নাকি অন্য রহস্য -তদন্ত দাবি পরিবারের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 07:09:58 pm, Tuesday, 12 August 2025
  • 190 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি 

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে  সালিশি বৈঠকে প্রকাশ্যে অপমানের পর নদীর পাড়ে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় এক তরুণী গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। নিহতের নাম বন্যা তরফদার (২২)। তিনি বন্যা বাগেরহাট সদর উপজেলার খাড়া সম্বল গ্রামের রথীন মল্লিকের স্ত্রী । দশ মাস বয়সী এক কন্যা সন্তানের জননী ছিলেন বর্ণা। এ ঘটনার পর এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, সাথে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন ও সন্দেহ।ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে হেড়মা বাজার এলাকায়। শনিবার সকালে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  বছর খানিক আগে বন্যার সঙ্গে রথীনের বিয়ে হয়। বিয়ের শুরুর কিছুদিন ভালো থাকলেও পরবর্তীতে দাম্পত্য জীবনে শুরু হয় কলহ। প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন তিনি। ছয় মাস আগে এক তীব্র ঝগড়ার পর রথীন তাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন এবং আর কোনো যোগাযোগ রাখেননি।ঘটনার দিন বিকেলে স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার উদ্যোগে তার বাড়িতে সালিশি বৈঠক বসে। সেখানে দুই পক্ষের পরিবারের কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। , বৈঠকের সময় বন্যাকে নানা অপমানজনক কথা বলা হয় এবং প্রকাশ্যে অপদস্ত করা হয়। বৈঠক শেষে কান্নাজড়িত অবস্থায় তিনি সেখান থেকে চলে যান।এর ঘণ্টাখানেক পর স্থানীয়রা খবর পান, নদীর পাড়ে একটি গাছে তার মরদেহ ঝুলছে। উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চলছে ভিন্নমত। কেউ বলছেন, সালিশে অপমান সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন; আবার কেউ সন্দেহ করছেন, এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে।নিহতের পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর অবহেলা ও মানসিক চাপে ছিলেন বন্যা। সালিশে অপমানের পর তিনি ভেঙে পড়েন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন।স্থানীয়  মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, গ্রামীণ সালিশে নারীদের প্রকাশ্যে অপমান করা সমাজে এখনো বড় সমস্যা। এ ধরনের মানসিক আঘাত অনেক সময় নারীদের চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।এদিকে দশ মাস বয়সী শিশু কন্যা এখন মায়ের স্নেহ হারিয়ে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সালিশে অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা নাকি অন্য রহস্য -তদন্ত দাবি পরিবারের

আপডেট টাইম : 07:09:58 pm, Tuesday, 12 August 2025

বাগেরহাট প্রতিনিধি 

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে  সালিশি বৈঠকে প্রকাশ্যে অপমানের পর নদীর পাড়ে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় এক তরুণী গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। নিহতের নাম বন্যা তরফদার (২২)। তিনি বন্যা বাগেরহাট সদর উপজেলার খাড়া সম্বল গ্রামের রথীন মল্লিকের স্ত্রী । দশ মাস বয়সী এক কন্যা সন্তানের জননী ছিলেন বর্ণা। এ ঘটনার পর এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, সাথে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন ও সন্দেহ।ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে হেড়মা বাজার এলাকায়। শনিবার সকালে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  বছর খানিক আগে বন্যার সঙ্গে রথীনের বিয়ে হয়। বিয়ের শুরুর কিছুদিন ভালো থাকলেও পরবর্তীতে দাম্পত্য জীবনে শুরু হয় কলহ। প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন তিনি। ছয় মাস আগে এক তীব্র ঝগড়ার পর রথীন তাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন এবং আর কোনো যোগাযোগ রাখেননি।ঘটনার দিন বিকেলে স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার উদ্যোগে তার বাড়িতে সালিশি বৈঠক বসে। সেখানে দুই পক্ষের পরিবারের কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। , বৈঠকের সময় বন্যাকে নানা অপমানজনক কথা বলা হয় এবং প্রকাশ্যে অপদস্ত করা হয়। বৈঠক শেষে কান্নাজড়িত অবস্থায় তিনি সেখান থেকে চলে যান।এর ঘণ্টাখানেক পর স্থানীয়রা খবর পান, নদীর পাড়ে একটি গাছে তার মরদেহ ঝুলছে। উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চলছে ভিন্নমত। কেউ বলছেন, সালিশে অপমান সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন; আবার কেউ সন্দেহ করছেন, এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে।নিহতের পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর অবহেলা ও মানসিক চাপে ছিলেন বন্যা। সালিশে অপমানের পর তিনি ভেঙে পড়েন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন।স্থানীয়  মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, গ্রামীণ সালিশে নারীদের প্রকাশ্যে অপমান করা সমাজে এখনো বড় সমস্যা। এ ধরনের মানসিক আঘাত অনেক সময় নারীদের চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।এদিকে দশ মাস বয়সী শিশু কন্যা এখন মায়ের স্নেহ হারিয়ে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।