বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের ফকিরহাটের মূলঘরের গোদাড়া চিত্রা নদীতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ৬৫তম ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চৈত্র সংক্রান্তী আয়োজনে চিত্রা নদীর গোয়ালখালী থেকে গোদাড়া পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার নদী পথে এই নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় ৮ টি দল অংশগ্রহণ করে। এতে প্রথম স্থান অধিকার করে কলিগাতী নৌকা বাইচ দল এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ভাই ভাই মায়ারখালী দল। এ সময় বিজয়ী দলগুলোর হাতে পুরস্কার হিসেবে ফ্রিজ তুলে দেওয়া হয়।কলকলিয়া ত্রিপল্লী মাঝি মিলন সংঘের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ মজুমদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন , বাগেরহাট জেলা বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার শেখ মোঃ জাকির হোসেন, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ফকির তরিকুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা শেখ ইফতেখার আহমেদ পলাশ, মোড়ল কামরুজ্জামান, মোল্লা রাজু আহমেদ, সৈয়দ মাসুদুল ইসলাম, খান আরিফুজ্জামান পিন্টু, সুব্রত গোলদার ও নিরুপম মজুমদারসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।আয়োজন কমিটির সভাপতি নরেন্দ্রনাথ মজুমদার বলেন,গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিবছর আমরা এই আয়োজন করি।আর বিশেষ করে বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এ বছরও নৌকাবাইচ হয়েছে।প্রধান অতিথি জেলা বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার শেখ মোঃ জাকির হোসেন বলেন,নৌকাবাইচ বাংলার প্রাচীনতম লোকজ খেলাগুলোর একটি। শত শত মানুষ এখানে একত্রিত হয়ে যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা চাই এ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলার সংস্কৃতি আরও ছড়িয়ে পড়ুক।জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ফকির তরিকুল ইসলাম বলেন,এই আয়োজন শুধু খেলাধুলা নয় বরং মানুষের মাঝে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে তোলে। হাজারো মানুষ নদীর দুই পাড়ে ভিড় জমিয়েছে যা প্রমাণ করে নৌকাবাইচ এখনও মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত।ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা বলেন,গ্রামীণ সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে এ ধরনের আয়োজন অপরিহার্য। আজকে যে উৎসবমুখর পরিবেশ আমরা দেখছি, তা আমাদের শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করে। আগামী দিনে এ আয়োজন আরও বড় পরিসরে হওয়া উচিত।প্রতিযোগিতা দেখতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন ,প্রতিবছর পরিবার নিয়ে তারা এই নৌকাবাইচ দেখতে আসি ঐতিহ্যের এ আয়োজন তাদের আনন্দ দেয় এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির আবহকে জীবন্ত করে তোলে।নৌকাবাইচকে ঘিরে দুই তীরে উপচে পড়ে হাজারো মানুষের ঢল। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী দর্শনার্থীরা ভিড় জমিয়ে উপভোগ করেন প্রাচীন এ লোকজ উৎসব। দর্শনার্থীদের উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা চিত্রা নদী এলাকা। আয়োজনকে কেন্দ্র করে বসে গ্রামীণ মেলাও। আর গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ এই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা শুধু বিনোদন নয় বরং স্থানীয় সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য উৎসব।
শিশুদের পড়িয়ে, হাটে বড়ই বিক্রি করে এসএসসিতে এ প্লাস পেল দুর্জয়
Reporter Name 


















