Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে IELTS ও জাপানি ভাষা শিক্ষা নিয়ে সেমিনার বাগেরহাট পৌরসভার সড়ক উন্নয়নে অনিয়মের অভিযোগ, পুরোনো ঠিকাদারের হাতেই একাধিক কাজ,

দর্শনা কেরুজ চিনিকলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২৯ কোটি টাক নুনাফা অর্জন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 03:58:08 pm, Tuesday, 30 September 2025
  • 358 বার

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
দেশের একের পর এক চিনিকল যখন লোকসানের বোঝা টেনে প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে, তখন
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা কেরু এন্ড কো¤পানি চিনিকল কমপ্লেক্স উল্টো ইতিহাস গড়েছে। প্রতিষ্ঠার ৮৮ বছর পর প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানটি রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেছে। তবে চিনি কারখানা বিভাগে সাড়ে ৬২ কোটি টাকা লোকসান এখন বড় মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।কেরু কম্পেলেক্স হিসাব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৬টি বিভাগের মধ্যে ৫টিতে লাভ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মুনাফা এসেছে ডিস্টিলারি বিভাগ থেকে। সেখানে বিদেশি মদ (ফরেন লিকার) উৎপাদিত হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ২২০ কেস এবং কান্ট্রি স্প্রিট উৎপাদিত হয়েছে ২৪ লাখ ৮৯ হাজার প্রুফ লিটার। পাশাপাশি ভিনেগার উৎপাদন হয়েছে ২১ হাজার লিটার। এসব পণ্যের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯০ কোটি ২৬ লাখ টাকা।এ ছাড়া বাণিজ্যিক খামার থেকে এসেছে ৩৬ লাখ ৯ হাজার টাকা, পরীক্ষামূলক খামার থেকে ৩০ লাখ ২ হাজার টাকা, জৈবসার কারখানা থেকে ৭৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা এবং ফার্মাসিউটিক্যালস বিভাগ থেকে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা মুনাফা।সব মিলিয়ে সরকারকে রাজস্ব ও ভ্যাট বাবদ প্রদান করা হয়েছে ১৪০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। লোকসানী চিনি কারখানার ক্ষতি পূরণ করেও কেরু এন্ড কো¤পানি ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকার নিট মুনাফা অর্জন করেছে, যা কেরুর ৮৮ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।তবে চিনি কারখানা বিভাগে লোকসানের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। কারখানার মহাব্যবস্থাপক (কারখানা) সুমন কুমার বলেন,বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া এই মিলের যন্ত্রপাতি পুরনো হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বিএমআর (ব্যালান্সিং, মডার্নাইজেশন অ্যান্ড রিপ্লেসমেন্ট) প্রকল্প চলছে। কাজ শেষ হলে লোকসান অনেকটাই কমে আসবে।কৃষি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আশরাফুল আলম ভুইয়া জানান, আখের সঙ্গে সাথী ফসল, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও বেশি চিনি উৎপাদনকারী আখ রোপনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজিবুল হাসান বলেন,অটোমেশন ও আধুনিক বোতলজাতকরণের কারণে উৎপাদন বেড়েছে, বিক্রয়ও বেড়েছে। ফলে মুনাফা এ বছর রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাব্বিক হাসান (এফসিএমএ) জানান,১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম কেরু কম্পেলেক্স ১২৯ কোটির বেশি মুনাফা অর্জন করেছে। এতে  কর্মকর্তা-কর্মচারী, আখচাষী এবং স্থানীয় মানুষের অবদান অনস্বীকার্য। তবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে আখচাষ বাড়ানোর বিকল্প নেই। এমন প্রেক্ষাপটে শ্রমিক কর্মচারী ও স্থানীয়রা বলছেন, কেরুর সাফল্য প্রমাণ করেছে চিনি শিল্প পুরোপুরি অচল নয়। তবে পুরনো যন্ত্রপাতি ও আখ ঘাটতি দূর না করা গেলে লোকসানের বোঝা চিনি
কারখানার ঘাড় থেকে নামানো সম্ভব হবে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয়

দর্শনা কেরুজ চিনিকলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২৯ কোটি টাক নুনাফা অর্জন

আপডেট টাইম : 03:58:08 pm, Tuesday, 30 September 2025

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
দেশের একের পর এক চিনিকল যখন লোকসানের বোঝা টেনে প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে, তখন
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা কেরু এন্ড কো¤পানি চিনিকল কমপ্লেক্স উল্টো ইতিহাস গড়েছে। প্রতিষ্ঠার ৮৮ বছর পর প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানটি রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেছে। তবে চিনি কারখানা বিভাগে সাড়ে ৬২ কোটি টাকা লোকসান এখন বড় মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।কেরু কম্পেলেক্স হিসাব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৬টি বিভাগের মধ্যে ৫টিতে লাভ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মুনাফা এসেছে ডিস্টিলারি বিভাগ থেকে। সেখানে বিদেশি মদ (ফরেন লিকার) উৎপাদিত হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ২২০ কেস এবং কান্ট্রি স্প্রিট উৎপাদিত হয়েছে ২৪ লাখ ৮৯ হাজার প্রুফ লিটার। পাশাপাশি ভিনেগার উৎপাদন হয়েছে ২১ হাজার লিটার। এসব পণ্যের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯০ কোটি ২৬ লাখ টাকা।এ ছাড়া বাণিজ্যিক খামার থেকে এসেছে ৩৬ লাখ ৯ হাজার টাকা, পরীক্ষামূলক খামার থেকে ৩০ লাখ ২ হাজার টাকা, জৈবসার কারখানা থেকে ৭৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা এবং ফার্মাসিউটিক্যালস বিভাগ থেকে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা মুনাফা।সব মিলিয়ে সরকারকে রাজস্ব ও ভ্যাট বাবদ প্রদান করা হয়েছে ১৪০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। লোকসানী চিনি কারখানার ক্ষতি পূরণ করেও কেরু এন্ড কো¤পানি ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকার নিট মুনাফা অর্জন করেছে, যা কেরুর ৮৮ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।তবে চিনি কারখানা বিভাগে লোকসানের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। কারখানার মহাব্যবস্থাপক (কারখানা) সুমন কুমার বলেন,বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া এই মিলের যন্ত্রপাতি পুরনো হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বিএমআর (ব্যালান্সিং, মডার্নাইজেশন অ্যান্ড রিপ্লেসমেন্ট) প্রকল্প চলছে। কাজ শেষ হলে লোকসান অনেকটাই কমে আসবে।কৃষি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আশরাফুল আলম ভুইয়া জানান, আখের সঙ্গে সাথী ফসল, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও বেশি চিনি উৎপাদনকারী আখ রোপনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজিবুল হাসান বলেন,অটোমেশন ও আধুনিক বোতলজাতকরণের কারণে উৎপাদন বেড়েছে, বিক্রয়ও বেড়েছে। ফলে মুনাফা এ বছর রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাব্বিক হাসান (এফসিএমএ) জানান,১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম কেরু কম্পেলেক্স ১২৯ কোটির বেশি মুনাফা অর্জন করেছে। এতে  কর্মকর্তা-কর্মচারী, আখচাষী এবং স্থানীয় মানুষের অবদান অনস্বীকার্য। তবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে আখচাষ বাড়ানোর বিকল্প নেই। এমন প্রেক্ষাপটে শ্রমিক কর্মচারী ও স্থানীয়রা বলছেন, কেরুর সাফল্য প্রমাণ করেছে চিনি শিল্প পুরোপুরি অচল নয়। তবে পুরনো যন্ত্রপাতি ও আখ ঘাটতি দূর না করা গেলে লোকসানের বোঝা চিনি
কারখানার ঘাড় থেকে নামানো সম্ভব হবে না।