Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে IELTS ও জাপানি ভাষা শিক্ষা নিয়ে সেমিনার বাগেরহাট পৌরসভার সড়ক উন্নয়নে অনিয়মের অভিযোগ, পুরোনো ঠিকাদারের হাতেই একাধিক কাজ,

নবীনগরে পুলিশ হেফাজতে যুবকের মৃত্যু

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 06:01:33 pm, Tuesday, 30 September 2025
  • 76 বার

মোজাম্মেল চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে,
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পুলিশ হেফাজতে মোঃ আব্দুল্লাহ-(২৩) নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় নবীনগর উপজেলার ছলিমগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মোঃ মহিম উদ্দিনকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এ ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু সাঈদ মোঃ গাউছাল আজম ও পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক (ডিআইওয়ান) মোঃ মহিদুল ইসলাম।
এর আগে মৃতের চাচাতো বড় ভাই শাকিল মিয়া বাদী হয়ে রোববার রাতে ছলিমগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মোঃ মহিম উদ্দিনসহ চার জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০-২৫জনকে আসামী করা হয়েছে।
মামলার অপর আসামীরা হলেন নবীনগর উপজেলার ছলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়াইল গ্রামের তবি মিয়া-(৩৪), একই গ্রামের আল আমিন-(৩২), বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাহেরচরের আয়নাল হক-(৩০)।মৃত মোঃ আব্দুল্লাহ জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তেজখালি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের মোঃ আবুল হোসেনের ছেলে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত আব্দুল্লাহ নবীনগর উপজেলার ছলিমগঞ্জ অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে পুলিশী হেফাজতে ছিলেন। মৃতের পরিবার, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর নবীনগর উপজেলার ছলিমগঞ্জের তবি মিয়ার বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতনামা চোরেরা তার বাড়ি থেকে নগদ ৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তবি মিয়ার আত্মীয় নবীনগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তবি মিয়া, আল-আমিন ও আয়নালসহ অজ্ঞাতনামা ২০-২৫জন আব্দুল্লাহকে চোর সন্দেহে ছলিমগঞ্জ বাজারের সিএনজি স্ট্যান্ডের সামনে থেকে আটক করে। পরে তারা প্রথমে আবদুল্লাহকে রাস্তায় ও পরে বাড়িতে নিয়ে বেদম মারধোর করে। এক পর্যায়ে তারা প্লাস দিয়ে আবদুল্লাহর হাতে ও কপালের চামড়া উঠিয়ে ফেলে। পরে আব্দুল্লাহকে সলিমগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মাহিম উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেন। স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আবদুল্লাহকে পুলিশ ক্যাম্পে নেয়া হয়। মাহিম উদ্দিন ও তার লোকজন বিষয়টি কাউকে কিছুনা জানিয়ে আব্দুল্লাহকে অবৈধভাবে ছলিমগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পে আটকে রেখে নির্যাতন করে। নির্যাতনে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে আব্দুল্লাহ। রোববার বিকেলে ছলিমগঞ্জ অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা আব্দুল্লাহকে ছলিমগঞ্জ অলিউর রহমান (প্রাঃ) হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান। তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়।
মৃতের চাচাতো বড় ভাই শাকিল মিয়া বলেন, মিথ্যা চুরির অভিযোগে আমার ভাইকে গণপিটুনি দিয়েছে। আমার ভাইয়ের পায়ে সুই ঢুকিয়েছে। প্লাস দিয়ে কপালের চামড়া তুলেছে। ছলিমগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পে আটকে রেখে আমার ভাইকে নির্যাতন করেছে পুলিশ।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে আব্দুল্লাহ মারা গেলে তার ভাইয়ের মামলায় সলিমগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মাহিম উদ্দিনকে সোমবার সকালে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিকেলে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে জেলা হাজতে প্রেরণ করে।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক সাংবাদিকদের জানান, আব্দুল্লাহকে ক্যাম্পে আটক রাখা হয়েছিল এবং নির্যাতন করা হয়েছিল বলে আমরা মনে করছি। বিভিন্ন সময় তাকে চিকিৎসা দেয়ার সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। অন্যান্য আসামীদেরকেও গ্রেপ্তার চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু সাঈদ মোঃ গাউছাল আজম ও পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক (ডিআইওয়ান) মোঃ মহিদুল ইসলাম।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয়

নবীনগরে পুলিশ হেফাজতে যুবকের মৃত্যু

আপডেট টাইম : 06:01:33 pm, Tuesday, 30 September 2025

মোজাম্মেল চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে,
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পুলিশ হেফাজতে মোঃ আব্দুল্লাহ-(২৩) নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় নবীনগর উপজেলার ছলিমগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মোঃ মহিম উদ্দিনকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এ ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু সাঈদ মোঃ গাউছাল আজম ও পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক (ডিআইওয়ান) মোঃ মহিদুল ইসলাম।
এর আগে মৃতের চাচাতো বড় ভাই শাকিল মিয়া বাদী হয়ে রোববার রাতে ছলিমগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মোঃ মহিম উদ্দিনসহ চার জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০-২৫জনকে আসামী করা হয়েছে।
মামলার অপর আসামীরা হলেন নবীনগর উপজেলার ছলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়াইল গ্রামের তবি মিয়া-(৩৪), একই গ্রামের আল আমিন-(৩২), বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাহেরচরের আয়নাল হক-(৩০)।মৃত মোঃ আব্দুল্লাহ জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তেজখালি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের মোঃ আবুল হোসেনের ছেলে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত আব্দুল্লাহ নবীনগর উপজেলার ছলিমগঞ্জ অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে পুলিশী হেফাজতে ছিলেন। মৃতের পরিবার, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর নবীনগর উপজেলার ছলিমগঞ্জের তবি মিয়ার বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতনামা চোরেরা তার বাড়ি থেকে নগদ ৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তবি মিয়ার আত্মীয় নবীনগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তবি মিয়া, আল-আমিন ও আয়নালসহ অজ্ঞাতনামা ২০-২৫জন আব্দুল্লাহকে চোর সন্দেহে ছলিমগঞ্জ বাজারের সিএনজি স্ট্যান্ডের সামনে থেকে আটক করে। পরে তারা প্রথমে আবদুল্লাহকে রাস্তায় ও পরে বাড়িতে নিয়ে বেদম মারধোর করে। এক পর্যায়ে তারা প্লাস দিয়ে আবদুল্লাহর হাতে ও কপালের চামড়া উঠিয়ে ফেলে। পরে আব্দুল্লাহকে সলিমগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মাহিম উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেন। স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আবদুল্লাহকে পুলিশ ক্যাম্পে নেয়া হয়। মাহিম উদ্দিন ও তার লোকজন বিষয়টি কাউকে কিছুনা জানিয়ে আব্দুল্লাহকে অবৈধভাবে ছলিমগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পে আটকে রেখে নির্যাতন করে। নির্যাতনে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে আব্দুল্লাহ। রোববার বিকেলে ছলিমগঞ্জ অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা আব্দুল্লাহকে ছলিমগঞ্জ অলিউর রহমান (প্রাঃ) হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান। তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়।
মৃতের চাচাতো বড় ভাই শাকিল মিয়া বলেন, মিথ্যা চুরির অভিযোগে আমার ভাইকে গণপিটুনি দিয়েছে। আমার ভাইয়ের পায়ে সুই ঢুকিয়েছে। প্লাস দিয়ে কপালের চামড়া তুলেছে। ছলিমগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পে আটকে রেখে আমার ভাইকে নির্যাতন করেছে পুলিশ।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে আব্দুল্লাহ মারা গেলে তার ভাইয়ের মামলায় সলিমগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মাহিম উদ্দিনকে সোমবার সকালে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিকেলে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে জেলা হাজতে প্রেরণ করে।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক সাংবাদিকদের জানান, আব্দুল্লাহকে ক্যাম্পে আটক রাখা হয়েছিল এবং নির্যাতন করা হয়েছিল বলে আমরা মনে করছি। বিভিন্ন সময় তাকে চিকিৎসা দেয়ার সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। অন্যান্য আসামীদেরকেও গ্রেপ্তার চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু সাঈদ মোঃ গাউছাল আজম ও পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক (ডিআইওয়ান) মোঃ মহিদুল ইসলাম।