Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে IELTS ও জাপানি ভাষা শিক্ষা নিয়ে সেমিনার

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তোলপার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 02:51:22 pm, Sunday, 26 October 2025
  • 1137 বার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট
বাগেরহাটের কচুয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে, আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। তদন্ত পূর্বক ঘটনার সঠিক বিচারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ২০২৪ সালে এসএসসি পাশ করার পরে ওই শিক্ষার্থী ঢাকার কাছাকাছি একটা জেলোয় থাকেন। তাই তিনি প্রধান শিক্ষককে বলেছিলেন, ঢাকায় আসলে যেন তিনি সার্টিফিকেট ও প্রত্যয়ণপত্র নিয়ে আসেন। অভিযুক্ত শিক্ষক এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলনে যোগ দিতে ঢাকায় ছিলেন। পূর্ব নির্ধারিত সময় ১৪ অক্টোবর সনদ ও প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার জন্য ওই শিক্ষার্থী ঢাকায় আসেন। ওই শিক্ষক তাকে নাস্তা করান এবং গুলিস্তানের নবাবপুর রোডে অবস্থিত হোটেল সাদমান ইন্টারন্যাশনাল (আবাসিক) এ যাওয়ার অনুরোধ করেণ। হোটেলের ৮১৬ নাম্বার কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন ওই শিক্ষার্থী। পরে ওই শিক্ষার্থীর ডাক চিৎকারে পাশের কক্ষ থেকে লোকজন আসেন এবং ওই শিক্ষককে রিসিপশনে নিয়ে যায়। সেখানে ওই শিক্ষককে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন শিক্ষার্থী।
বিষয়টি নিয়ে ওই শিক্ষার্থী ২৩ অক্টোবর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক এ্যাকাউন্ট ও প্রাণের শহর কচুয়া – Praner Shohor Kachua নামের একটি গ্রুপে স্টাটাস দেয় ওই শিক্ষার্থী। এরপরই বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জুড়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়।
ওই শিক্ষার্থী বলেন, প্রধান শিক্ষককে তিনি খুব শ্রদ্ধা করতেন। ওই শিক্ষক তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করবেন তিনি ভাবতেই পারেন না। এই ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।এ বিষয়ে জানতে বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আল মাহমুদকে ফোন করে ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার একটা ফোন আসছে পরে কথা বলব। পরে তাকে কয়েকবার ফোন করা হলেও, তিনি ফোন রিসিভ করেননি।এদিকে শুক্রবার বিকেলে কচুয়া প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন এই শিক্ষক। সেখানে তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তার কাছে আসেন এবং সনদপত্র-প্রতয়ন পত্র নিয়ে চলে যায়। ওই শিক্ষার্থী তার কাছে নৌবাহিনীতে চাকুরীর জন্য ৫০ হাজারা টাকা চায়, ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি করায় ওই শিক্ষার্থী রুমের চাবি নিয়ে দৌড় দেয়। পরে ৯-১০ দিন পর ফেসবুকে পোস্ট দেয়।ঢাকায় ওই শিক্ষকের সাথে হোটেল কক্ষ শেয়ার করে থাকা গজালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সবুজ হাসান বলেন, যে ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, ওই সময় তিনি হোটেলে ছিলেন না। হোটেলের লোকজন আমাকে ফোন করে আনে। ওই শিক্ষার্থী ফেসবুকে যেভাবে উল্লেখ করেছে, ওইসব কথা বলেছে। পরে শুনেছি শিক্ষার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে হোটেলের লোকজন নাকি প্রধান শিক্ষক আল মাহমুদকে লাঞ্চিত করেছেন।হোটেল সাদমান ইন্টারন্যাশনাল (আবাসিক)- এর কর্মকর্তা মোহসিনুর রহমান বলেন, শিক্ষক আল মাহমুদ ওই শিক্ষার্থীকে নিজের মেয়ে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন। আমরা বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানোর কথা বলি। কিন্তু ওই শিক্ষার্থী নিজে এবং মুঠোফোনে শিক্ষার্থীর মা বিষয়টি থানা পুলিশ না জানাতে অনুরোধ করেণ। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীর মায়ের কথা অনুযায়ী তাকে নিরাপদে গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। আর ওই শিক্ষককে তাদের কলিগদের জিম্মায় পাঠিয়ে দেওয়া হয।বাগেরহাট জেলা শিক্ষা অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) মোহা: সাদেকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোন অভিযোগ আমরা পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে, তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তোলপার

আপডেট টাইম : 02:51:22 pm, Sunday, 26 October 2025

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট
বাগেরহাটের কচুয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে, আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। তদন্ত পূর্বক ঘটনার সঠিক বিচারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ২০২৪ সালে এসএসসি পাশ করার পরে ওই শিক্ষার্থী ঢাকার কাছাকাছি একটা জেলোয় থাকেন। তাই তিনি প্রধান শিক্ষককে বলেছিলেন, ঢাকায় আসলে যেন তিনি সার্টিফিকেট ও প্রত্যয়ণপত্র নিয়ে আসেন। অভিযুক্ত শিক্ষক এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলনে যোগ দিতে ঢাকায় ছিলেন। পূর্ব নির্ধারিত সময় ১৪ অক্টোবর সনদ ও প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার জন্য ওই শিক্ষার্থী ঢাকায় আসেন। ওই শিক্ষক তাকে নাস্তা করান এবং গুলিস্তানের নবাবপুর রোডে অবস্থিত হোটেল সাদমান ইন্টারন্যাশনাল (আবাসিক) এ যাওয়ার অনুরোধ করেণ। হোটেলের ৮১৬ নাম্বার কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন ওই শিক্ষার্থী। পরে ওই শিক্ষার্থীর ডাক চিৎকারে পাশের কক্ষ থেকে লোকজন আসেন এবং ওই শিক্ষককে রিসিপশনে নিয়ে যায়। সেখানে ওই শিক্ষককে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন শিক্ষার্থী।
বিষয়টি নিয়ে ওই শিক্ষার্থী ২৩ অক্টোবর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক এ্যাকাউন্ট ও প্রাণের শহর কচুয়া – Praner Shohor Kachua নামের একটি গ্রুপে স্টাটাস দেয় ওই শিক্ষার্থী। এরপরই বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জুড়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়।
ওই শিক্ষার্থী বলেন, প্রধান শিক্ষককে তিনি খুব শ্রদ্ধা করতেন। ওই শিক্ষক তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করবেন তিনি ভাবতেই পারেন না। এই ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।এ বিষয়ে জানতে বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আল মাহমুদকে ফোন করে ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার একটা ফোন আসছে পরে কথা বলব। পরে তাকে কয়েকবার ফোন করা হলেও, তিনি ফোন রিসিভ করেননি।এদিকে শুক্রবার বিকেলে কচুয়া প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন এই শিক্ষক। সেখানে তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তার কাছে আসেন এবং সনদপত্র-প্রতয়ন পত্র নিয়ে চলে যায়। ওই শিক্ষার্থী তার কাছে নৌবাহিনীতে চাকুরীর জন্য ৫০ হাজারা টাকা চায়, ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি করায় ওই শিক্ষার্থী রুমের চাবি নিয়ে দৌড় দেয়। পরে ৯-১০ দিন পর ফেসবুকে পোস্ট দেয়।ঢাকায় ওই শিক্ষকের সাথে হোটেল কক্ষ শেয়ার করে থাকা গজালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সবুজ হাসান বলেন, যে ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, ওই সময় তিনি হোটেলে ছিলেন না। হোটেলের লোকজন আমাকে ফোন করে আনে। ওই শিক্ষার্থী ফেসবুকে যেভাবে উল্লেখ করেছে, ওইসব কথা বলেছে। পরে শুনেছি শিক্ষার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে হোটেলের লোকজন নাকি প্রধান শিক্ষক আল মাহমুদকে লাঞ্চিত করেছেন।হোটেল সাদমান ইন্টারন্যাশনাল (আবাসিক)- এর কর্মকর্তা মোহসিনুর রহমান বলেন, শিক্ষক আল মাহমুদ ওই শিক্ষার্থীকে নিজের মেয়ে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন। আমরা বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানোর কথা বলি। কিন্তু ওই শিক্ষার্থী নিজে এবং মুঠোফোনে শিক্ষার্থীর মা বিষয়টি থানা পুলিশ না জানাতে অনুরোধ করেণ। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীর মায়ের কথা অনুযায়ী তাকে নিরাপদে গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। আর ওই শিক্ষককে তাদের কলিগদের জিম্মায় পাঠিয়ে দেওয়া হয।বাগেরহাট জেলা শিক্ষা অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) মোহা: সাদেকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোন অভিযোগ আমরা পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে, তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।