Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে IELTS ও জাপানি ভাষা শিক্ষা নিয়ে সেমিনার

কোটালীপাড়ায় সরকারি জমি দখল করে মন্দির নির্মাণ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 07:00:06 pm, Monday, 16 March 2026
  • 203 বার

কোটালীপাড়া প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় সরকারি জমি দখল করে মন্দির নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের খাগবাড়ী গ্রামে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাগবাড়ী গ্রামের ২৮ নম্বর গোবিন্দপুর মৌজার বিআরএস ৮৫৫ নম্বর দাগে মোট ১১ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন শীতল হালদার, বিমল হালদার ও অমল হালদার। পরবর্তীতে অমল হালদার মারা গেলে তার স্ত্রী নিভা হালদার ওই দাগের ৩.৮৩ শতাংশ জমির মালিক হন। এছাড়া ৪১০ নম্বর দাগের ৪.২২ শতাংশ জমিসহ মোট প্রায় ৮ শতাংশ জমি তিনি খাগবাড়ী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কতৃপক্ষের কাছে বিক্রি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, মন্দির কমিটি ক্রয়কৃত জমির বাইরে গিয়ে একই দাগে অন্য দুই শরিকের অবিক্রীত জমিসহ অতিরিক্ত জায়গা দখল করে সেখানে মন্দির নির্মাণ করছেন। পাশাপাশি জনসাধারণের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত একটি ইটের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।স্থানীয়দের দাবি, ক্রয়কৃত জমির সীমা অতিক্রম করে অন্তত ৫২ শতাংশ খাস খতিয়ানের সরকারি জমিও জোরপূর্বক দখল করে সেখানে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। এতে করে এলাকাবাসীর চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।এদিকে সরকারি জমি দখল করে মন্দির নির্মাণের অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দা শংকর হালদার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ করার পরও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। বরং দখল কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে।শংকর হালদার আরও অভিযোগ করেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং জীবননাশের হুমকিও দেওয়া হয়।এ বিষয়ে খাগবাড়ী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য হরশিত বাড়ৈ বলেন, “আমরা সমঝোতার ভিত্তিতেই কাজ করছি।রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কিশোর কুমার চক্রবর্তী বলেন, “মন্দির নির্মাণের কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য আমরা বাধা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা সেই বাধা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।”উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, “শংকর হালদার নামে একজন এ বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন। তখন চেয়ারম্যান ও মন্দির কমিটির সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। তারা জানিয়েছিল জনসাধারণের চলাচলের জন্য বিকল্প রাস্তা রয়েছে এবং মন্দিরের অবস্থান ঠিক আছে। সরকারি জায়গা উন্মুক্ত থাকলে সবাই ব্যবহার করতে পারে। তবে যদি এখন দেখা যায় তারা অবৈধভাবে সরকারি জায়গায় প্রাচীর নির্মাণ করে জায়গাটি বদ্ধ করে ফেলেছে, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা এবং জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু

কোটালীপাড়ায় সরকারি জমি দখল করে মন্দির নির্মাণ

আপডেট টাইম : 07:00:06 pm, Monday, 16 March 2026

কোটালীপাড়া প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় সরকারি জমি দখল করে মন্দির নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের খাগবাড়ী গ্রামে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাগবাড়ী গ্রামের ২৮ নম্বর গোবিন্দপুর মৌজার বিআরএস ৮৫৫ নম্বর দাগে মোট ১১ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন শীতল হালদার, বিমল হালদার ও অমল হালদার। পরবর্তীতে অমল হালদার মারা গেলে তার স্ত্রী নিভা হালদার ওই দাগের ৩.৮৩ শতাংশ জমির মালিক হন। এছাড়া ৪১০ নম্বর দাগের ৪.২২ শতাংশ জমিসহ মোট প্রায় ৮ শতাংশ জমি তিনি খাগবাড়ী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কতৃপক্ষের কাছে বিক্রি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, মন্দির কমিটি ক্রয়কৃত জমির বাইরে গিয়ে একই দাগে অন্য দুই শরিকের অবিক্রীত জমিসহ অতিরিক্ত জায়গা দখল করে সেখানে মন্দির নির্মাণ করছেন। পাশাপাশি জনসাধারণের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত একটি ইটের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।স্থানীয়দের দাবি, ক্রয়কৃত জমির সীমা অতিক্রম করে অন্তত ৫২ শতাংশ খাস খতিয়ানের সরকারি জমিও জোরপূর্বক দখল করে সেখানে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। এতে করে এলাকাবাসীর চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।এদিকে সরকারি জমি দখল করে মন্দির নির্মাণের অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দা শংকর হালদার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ করার পরও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। বরং দখল কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে।শংকর হালদার আরও অভিযোগ করেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং জীবননাশের হুমকিও দেওয়া হয়।এ বিষয়ে খাগবাড়ী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য হরশিত বাড়ৈ বলেন, “আমরা সমঝোতার ভিত্তিতেই কাজ করছি।রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কিশোর কুমার চক্রবর্তী বলেন, “মন্দির নির্মাণের কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য আমরা বাধা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা সেই বাধা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।”উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, “শংকর হালদার নামে একজন এ বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন। তখন চেয়ারম্যান ও মন্দির কমিটির সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। তারা জানিয়েছিল জনসাধারণের চলাচলের জন্য বিকল্প রাস্তা রয়েছে এবং মন্দিরের অবস্থান ঠিক আছে। সরকারি জায়গা উন্মুক্ত থাকলে সবাই ব্যবহার করতে পারে। তবে যদি এখন দেখা যায় তারা অবৈধভাবে সরকারি জায়গায় প্রাচীর নির্মাণ করে জায়গাটি বদ্ধ করে ফেলেছে, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা এবং জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।