নন্দীগ্রাম প্রতিনিধি
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত এক চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শনিবার থেকে হাসপাতালের বহির্বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তবে জরুরি বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেলে বগুড়ার কাহালু উপজেলার দেবখন্দ গ্রামের রুবেল আহমেদের ১২ বছর বয়সী মেয়ে মারজানা খাতুন কীটনাশক পান করলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে বিকেল চারটার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সে সময় জরুরি বিভাগে দায়িত্বে ছিলেন ডা. আতিক শাহরিয়ার। এ সময় রোগীর স্বজনদের সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে চিকিৎসক শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ ওঠে। ডা. আতিক শাহরিয়ার অভিযোগ করে বলেন, বিষপানকারী মারজানাকে হাসপাতালে আনার পর তিনি তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করেন এবং স্টমাক ওয়াশের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দায়িত্বরত সহকর্মীদের ডাকেন। তবে সহকর্মীরা আসতে কিছুটা বিলম্ব হলে রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। এতে রোগীর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, এত বড় হাসপাতালে এ ধরনের ব্যবস্থা নেই কেন? একপর্যায়ে তাঁরা তাঁর ওপর চড়াও হন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তবে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক রোগীকে স্পর্শ পর্যন্ত করেননি। বারবার অনুরোধ করার পরেও কোনো চিকিৎসা না দিয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর বগুড়ায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা গত শনিবার থেকে বহির্বিভাগে সেবা প্রদান বন্ধ রাখেন। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তোফাজ্জল হোসেন মন্ডল বলেন, চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বহির্বিভাগের চিকিৎসকরা কাজ থেকে বিরত রয়েছেন। তবে জরুরি বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে রোগীদের চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। হাসপাতালে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভর্তি আব্দুল খালেক বলেন, আমাদের চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা দিনে দুইবার এসে দেখে যাচ্ছেন। কী কারণে এমন পরিস্থিতি হয়েছে তা আমরা জানি না। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের দাবি, বিষপান করা রোগীকে হাসপাতালে আনার পর প্রাথমিক কোনো চিকিৎসা না দিয়ে বগুড়ায় পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। এরপর রোগীর স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকের কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে তাঁরা বলেন, একজন চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। একই সঙ্গে হাসপাতালের বিভিন্ন পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন ঘটছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। তাঁদের ভাষ্য, এর আগেও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু কখনও বহির্বিভাগ বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। এদিকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (৭ জুন) দুপুরে বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. এস এম নূর-ই-শাদীদ হাসপাতালে এসে চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য শুনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে হাসপাতালের বহির্বিভাগ কবে থেকে চালু হবে সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বৈঠক চলছে। সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে।
শিশুদের পড়িয়ে, হাটে বড়ই বিক্রি করে এসএসসিতে এ প্লাস পেল দুর্জয়
Reporter Name 


















