Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে IELTS ও জাপানি ভাষা শিক্ষা নিয়ে সেমিনার

বাগেরহাটে তৈরি হচ্ছে কংক্রিট ব্লক, বাড়ছে পরিবেশবান্ধব নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 07:47:25 pm, Sunday, 21 June 2026
  • 86 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি

গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে বিটুমিনাস কার্পেটিং ও মাটিপোড়া ইটের পরিবর্তে বাগেরহাটে ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ইউনি ব্লক। একই সঙ্গে হলো ব্লক, সলিড ব্লক ও অন্যান্য কংক্রিট ব্লক দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে আবাসিক ভবন, মসজিদ, লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এটি টেকসই, ব্যয় সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে এসব নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার।কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে পোড়া ইট তৈরির প্রচলিত ধারা থেকে বেড়িয়ে আসার উদ্যোগ হিসেবে বাগেরহাটে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে কংক্রিটের হলো ব্লক, এএসি ব্লক, ডিজাইন ব্লক ,ইকো-ব্রিক, ইউনি ব্লক ও পার্কিং টাইলস। বাগেরহাটে উদ্যোক্তা আবু সাইদ, আল মামুন, ফিরোজ আহমেদ, জিয়াউল হক, কামাল হোসেন, জিয়াউর রহমান এর কারখানায় প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে হাজার হাজার কংক্রিট ব্লক। ফ্লাই অ্যাশ , পাথর ও মোটা বালু দিয়ে তৈরি এসব ব্লক পোড়া ইটের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ২৪ জন উদ্যোক্তা পরিবেশবান্ধব নির্মাণ সামগ্রী উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় পরিচালিত Sustainable Microenterprise and Resilient Transformation (SMART) প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা পেয়ে অনেকেই এই খাতে বিনিয়োগ করেছেন। ফলে সৃষ্টি হয়েছে নতুন উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ।হলো ব্লক, ইকো-ব্রিক, ইউনি ব্লক ও পার্কিং টাইলস ব্যবহার করে নির্মাণ করা হচ্ছে বাড়িঘর, বাণিজ্যিক স্থাপনা এবং গ্রামীণ সড়ক। কম খরচ, দ্রুত নির্মাণ এবং দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে সাধারণ মানুষের কাছেও এসব নির্মাণসামগ্রীর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।

এরই মধ্যে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার তেলিপুকুর এলাকায় নির্মিত হয়েছে পরিবেশবান্ধব একটি মডেল মসজিদ। কোডেক ও পিকেএসএফ এর সহযোগিতায় নির্মিত এই মসজিদে প্রচলিত পোড়া ইটের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে কংক্রিট হলো ব্লক, সলিড ব্লক, স্টার ব্লক ও ইউনি পেভারস। প্রায় ১ হাজার ৪৩৫ বর্গফুট আয়তনের এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ২০০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।অন্যদিকে ইউনি ব্লক দিয়ে নির্মিত গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও যানবাহন চালকরা। তাদের মতে, রাস্তা যেমন মজবুত, তেমনি দৃষ্টিনন্দন। বৃষ্টি হলেও কাদা হয় না এবং চলাচলও সহজ হয়।

SMART EFCM প্রজেক্টের প্রকল্প ব্যবস্থাপক লোকমান হোসেন বলেন, পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়াতে প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। এতে একদিকে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব নির্মাণ প্রযুক্তির প্রসার ঘটছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পোড়া ইট তৈরিতে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমির উর্বর মাটি ব্যবহার হয় এবং ইটভাটার ধোঁয়ায় পরিবেশে ছড়ায় ক্ষতিকর কার্বন। দক্ষিণাঞ্চলের পাঁচ জেলায় বর্তমানে পাঁচ শতাধিক ইটভাটা সক্রিয় রয়েছে। এসব ভাটায় বছরে প্রায় ১৫০ কোটি ইট উৎপাদনের ফলে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে যুক্ত হচ্ছে এবং নষ্ট হচ্ছে কৃষিজমির উর্বর মাটি।

এলজিইডির বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরীফুজ্জামান বলেন, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে ইউনি ব্লকের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। এসব সড়ক দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণেও সুবিধাজনক।

কোডেকের পরিচালক (প্রোগ্রাম অ্যান্ড নলেজ ম্যানেজমেন্ট) স্থপতি কাজী ওয়াফিক আলম বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে প্রচলিত ইট অনেক ক্ষেত্রে টেকসই হয় না। সেখানে কংক্রিট ব্লক একটি কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্ন উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।বাগেরহাটে ইতোমধ্যে ব্লক ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচটি আবাসিক ভবন, একটি লাইব্রেরি ভবন, একটি মডেল মসজিদ এবং ৮৫০ মিটার দীর্ঘ একটি গ্রামীণ সড়ক। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকায়  নির্মাণসামগ্রী উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অন্তত ২৪ জন উদ্যোক্তা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবেশ রক্ষা, কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে কংক্রিট ব্লক ও ইউনি ব্লকের ব্যবহার নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এর ব্যবহার আরও বাড়ানো গেলে মাটিপোড়া ইটের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ খাত আরও বিকশিত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু

বাগেরহাটে তৈরি হচ্ছে কংক্রিট ব্লক, বাড়ছে পরিবেশবান্ধব নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার

আপডেট টাইম : 07:47:25 pm, Sunday, 21 June 2026

বাগেরহাট প্রতিনিধি

গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে বিটুমিনাস কার্পেটিং ও মাটিপোড়া ইটের পরিবর্তে বাগেরহাটে ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ইউনি ব্লক। একই সঙ্গে হলো ব্লক, সলিড ব্লক ও অন্যান্য কংক্রিট ব্লক দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে আবাসিক ভবন, মসজিদ, লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এটি টেকসই, ব্যয় সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে এসব নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার।কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে পোড়া ইট তৈরির প্রচলিত ধারা থেকে বেড়িয়ে আসার উদ্যোগ হিসেবে বাগেরহাটে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে কংক্রিটের হলো ব্লক, এএসি ব্লক, ডিজাইন ব্লক ,ইকো-ব্রিক, ইউনি ব্লক ও পার্কিং টাইলস। বাগেরহাটে উদ্যোক্তা আবু সাইদ, আল মামুন, ফিরোজ আহমেদ, জিয়াউল হক, কামাল হোসেন, জিয়াউর রহমান এর কারখানায় প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে হাজার হাজার কংক্রিট ব্লক। ফ্লাই অ্যাশ , পাথর ও মোটা বালু দিয়ে তৈরি এসব ব্লক পোড়া ইটের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ২৪ জন উদ্যোক্তা পরিবেশবান্ধব নির্মাণ সামগ্রী উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় পরিচালিত Sustainable Microenterprise and Resilient Transformation (SMART) প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা পেয়ে অনেকেই এই খাতে বিনিয়োগ করেছেন। ফলে সৃষ্টি হয়েছে নতুন উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ।হলো ব্লক, ইকো-ব্রিক, ইউনি ব্লক ও পার্কিং টাইলস ব্যবহার করে নির্মাণ করা হচ্ছে বাড়িঘর, বাণিজ্যিক স্থাপনা এবং গ্রামীণ সড়ক। কম খরচ, দ্রুত নির্মাণ এবং দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে সাধারণ মানুষের কাছেও এসব নির্মাণসামগ্রীর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।

এরই মধ্যে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার তেলিপুকুর এলাকায় নির্মিত হয়েছে পরিবেশবান্ধব একটি মডেল মসজিদ। কোডেক ও পিকেএসএফ এর সহযোগিতায় নির্মিত এই মসজিদে প্রচলিত পোড়া ইটের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে কংক্রিট হলো ব্লক, সলিড ব্লক, স্টার ব্লক ও ইউনি পেভারস। প্রায় ১ হাজার ৪৩৫ বর্গফুট আয়তনের এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ২০০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।অন্যদিকে ইউনি ব্লক দিয়ে নির্মিত গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও যানবাহন চালকরা। তাদের মতে, রাস্তা যেমন মজবুত, তেমনি দৃষ্টিনন্দন। বৃষ্টি হলেও কাদা হয় না এবং চলাচলও সহজ হয়।

SMART EFCM প্রজেক্টের প্রকল্প ব্যবস্থাপক লোকমান হোসেন বলেন, পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়াতে প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। এতে একদিকে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব নির্মাণ প্রযুক্তির প্রসার ঘটছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পোড়া ইট তৈরিতে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমির উর্বর মাটি ব্যবহার হয় এবং ইটভাটার ধোঁয়ায় পরিবেশে ছড়ায় ক্ষতিকর কার্বন। দক্ষিণাঞ্চলের পাঁচ জেলায় বর্তমানে পাঁচ শতাধিক ইটভাটা সক্রিয় রয়েছে। এসব ভাটায় বছরে প্রায় ১৫০ কোটি ইট উৎপাদনের ফলে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে যুক্ত হচ্ছে এবং নষ্ট হচ্ছে কৃষিজমির উর্বর মাটি।

এলজিইডির বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরীফুজ্জামান বলেন, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে ইউনি ব্লকের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। এসব সড়ক দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণেও সুবিধাজনক।

কোডেকের পরিচালক (প্রোগ্রাম অ্যান্ড নলেজ ম্যানেজমেন্ট) স্থপতি কাজী ওয়াফিক আলম বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে প্রচলিত ইট অনেক ক্ষেত্রে টেকসই হয় না। সেখানে কংক্রিট ব্লক একটি কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্ন উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।বাগেরহাটে ইতোমধ্যে ব্লক ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচটি আবাসিক ভবন, একটি লাইব্রেরি ভবন, একটি মডেল মসজিদ এবং ৮৫০ মিটার দীর্ঘ একটি গ্রামীণ সড়ক। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকায়  নির্মাণসামগ্রী উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অন্তত ২৪ জন উদ্যোক্তা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবেশ রক্ষা, কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে কংক্রিট ব্লক ও ইউনি ব্লকের ব্যবহার নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এর ব্যবহার আরও বাড়ানো গেলে মাটিপোড়া ইটের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ খাত আরও বিকশিত হবে।