Dhaka , Sunday, 1 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না          —–ডা. শফিকুর রহমান জায়গার সংকট, আগাছা-জঙ্গলে বেহাল বাগেরহাটের বড় কবরস্থান, দাফনেও ভোগান্তি বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা ৩০ অক্টোবর থেকে দুবলার চরে শুঁটকি উৎসব, জীবিকার সন্ধানে সাগরে নামছেন হাজারো জেলে বাগেরহাটে নাগরিক ফোরামের ত্রৈমাসিক সভা ও কার্যক্রম মূল্যায়নর কর্মশালা অনুষ্ঠিত  ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ, বাগেরহাটে কাটাখালীতে পথসভা পল্টন ট্র্যাজেডিতে শহীদদের স্মরণে বাগেরহাটে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল বাগেরহাটে বাংলালিংক কর্মীকে কুপিয়ে লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বাগেরহাটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ

বাগেরহাটে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, জেলায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬৪ রোগী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 10:50:04 pm, Sunday, 5 July 2026
  • 61 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

বাগেরহাটে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার এবং জনসচেতনতার ঘাটতির কারণে জেলাজুড়ে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।বাগেরহাট সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (৫ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় নতুন করে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন এবং মোল্লাহাট ১জন ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ৪৭ জন, কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন, শরণখোলা ২ জন, মোংলা ১জন এবং মোল্লাহাট ১ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জেলার সব সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। আক্রান্তদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী মনিরা বেগম বলেন, কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলাম। প্রথমে সাধারণ জ্বর ভেবে ওষুধ খেয়েছিলাম। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করাই। তখন ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এখন চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছি। আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থ বোধ করছি।আরেক রোগীর স্বজন মো. অয়ন বলেন,হঠাৎ জ্বরের সঙ্গে শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এসে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। এখন আগের চেয়ে অবস্থার উন্নতি হয়েছে। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, হঠাৎ করেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কচুয়া উপজেলার কয়েকটি এলাকায় সংক্রমণের হার বেশি। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় চিকিৎসক ও নার্সরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। প্রতিটি রোগীকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৯৭ জন বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৪০ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বর্তমানে জেলা হাসপাতালে ৪৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স ম মাহবুবুল আলম বলেন,ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। শুধু রাতে নয়, দিনের বেলায় বিশ্রাম বা ঘুমের সময়ও মশারি ব্যবহার করা উচিত। কারও জ্বর হলে নিজে থেকে ওষুধ সেবন না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সম্মিলিতভাবে সবাই সচেতন ও সতর্ক থাকলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বাগেরহাটে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, জেলায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬৪ রোগী

আপডেট টাইম : 10:50:04 pm, Sunday, 5 July 2026

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

বাগেরহাটে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার এবং জনসচেতনতার ঘাটতির কারণে জেলাজুড়ে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।বাগেরহাট সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (৫ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় নতুন করে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন এবং মোল্লাহাট ১জন ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ৪৭ জন, কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন, শরণখোলা ২ জন, মোংলা ১জন এবং মোল্লাহাট ১ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জেলার সব সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। আক্রান্তদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী মনিরা বেগম বলেন, কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলাম। প্রথমে সাধারণ জ্বর ভেবে ওষুধ খেয়েছিলাম। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করাই। তখন ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এখন চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছি। আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থ বোধ করছি।আরেক রোগীর স্বজন মো. অয়ন বলেন,হঠাৎ জ্বরের সঙ্গে শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এসে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। এখন আগের চেয়ে অবস্থার উন্নতি হয়েছে। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, হঠাৎ করেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কচুয়া উপজেলার কয়েকটি এলাকায় সংক্রমণের হার বেশি। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় চিকিৎসক ও নার্সরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। প্রতিটি রোগীকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৯৭ জন বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৪০ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বর্তমানে জেলা হাসপাতালে ৪৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স ম মাহবুবুল আলম বলেন,ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। শুধু রাতে নয়, দিনের বেলায় বিশ্রাম বা ঘুমের সময়ও মশারি ব্যবহার করা উচিত। কারও জ্বর হলে নিজে থেকে ওষুধ সেবন না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সম্মিলিতভাবে সবাই সচেতন ও সতর্ক থাকলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।