Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে IELTS ও জাপানি ভাষা শিক্ষা নিয়ে সেমিনার বাগেরহাট পৌরসভার সড়ক উন্নয়নে অনিয়মের অভিযোগ, পুরোনো ঠিকাদারের হাতেই একাধিক কাজ,

সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার ।

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 01:43:57 pm, Tuesday, 14 July 2026
  • 44 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি।

মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২৬ দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৪৫ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এসময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনী তার সহযোগীসহ সর্বমোট ৭ জন সদস্য এবং বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সক্রিয় সদস্য ইতোমধ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। এছাড়াও সম্প্রতি সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।এ প্রেক্ষিতে গত ১৩ জুলাই ২০২৬ সোমবার বিকাল ৫ টায় বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের চরপুটিয়া খাল সংলগ্ন এলাকায় ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। এসময় তাদের কাছে থাকা ৩ টি বিদেশি বন্দুক, ১ টি এইট শুটার, ১ টি ফোর শুটার, ৫ টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫ টি দেশীয় পাইপগান, ২ টি চায়না পাইপগান, ৩৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ কোস্ট গার্ডের নিকট জমা প্রদান করে আত্মসমর্পণকারী ডাকাত জাহাঙ্গীর শেখ (৪৫), মুজাহিদ গাজী (২৭), বিল্লাল শেখ (৩৫), জাহিদ হাসান (২৮), সুমন ঢালী (৩০), এরশাদ শিকারী (৪২), ওয়াহিদুজ্জামান (৩০), আইউব শেখ (৪২), রাফসান ঢালী (৩০), পারভেজ শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৫), জহুরুল গাজী (৩৮), সিরাজুল তরফদার (৩৮), আমিনুল ইসলাম (৪০), আসাদুল ইসলাম (৪২), বাবুল শেখ (৪৫), শাজাহান শেখ (৪২), হেলাল (৩৮) খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও বটিয়াঘাটা থানার বাসিন্দা। আকরাম শেখ (৪৫), নুরুল ইজারদার (৫০), হাসান শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৮), জিয়া শেখ (৩৮), কবির সুলতান (৫৫), কাইয়ুম জমাদ্দার (৪০) ও শরিফুল ইসলাম বয়াতি (২১) বাগেরহাট জেলার রামপাল, ফকিরহাট, কচুয়া, মোড়লগঞ্জ, শরণখোলা এবং মোঃ জয়নাল আবেদীন (৩৮) পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার বাসিন্দা।

 

কোস্টগার্ড ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সুন্দরবনের সকল সক্রিয় বনদস্যুকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। সরকারের নির্দেশনা, আপনাদের সকলের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয়

সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার ।

আপডেট টাইম : 01:43:57 pm, Tuesday, 14 July 2026

বাগেরহাট প্রতিনিধি।

মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২৬ দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৪৫ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এসময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনী তার সহযোগীসহ সর্বমোট ৭ জন সদস্য এবং বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সক্রিয় সদস্য ইতোমধ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। এছাড়াও সম্প্রতি সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।এ প্রেক্ষিতে গত ১৩ জুলাই ২০২৬ সোমবার বিকাল ৫ টায় বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের চরপুটিয়া খাল সংলগ্ন এলাকায় ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। এসময় তাদের কাছে থাকা ৩ টি বিদেশি বন্দুক, ১ টি এইট শুটার, ১ টি ফোর শুটার, ৫ টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫ টি দেশীয় পাইপগান, ২ টি চায়না পাইপগান, ৩৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ কোস্ট গার্ডের নিকট জমা প্রদান করে আত্মসমর্পণকারী ডাকাত জাহাঙ্গীর শেখ (৪৫), মুজাহিদ গাজী (২৭), বিল্লাল শেখ (৩৫), জাহিদ হাসান (২৮), সুমন ঢালী (৩০), এরশাদ শিকারী (৪২), ওয়াহিদুজ্জামান (৩০), আইউব শেখ (৪২), রাফসান ঢালী (৩০), পারভেজ শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৫), জহুরুল গাজী (৩৮), সিরাজুল তরফদার (৩৮), আমিনুল ইসলাম (৪০), আসাদুল ইসলাম (৪২), বাবুল শেখ (৪৫), শাজাহান শেখ (৪২), হেলাল (৩৮) খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও বটিয়াঘাটা থানার বাসিন্দা। আকরাম শেখ (৪৫), নুরুল ইজারদার (৫০), হাসান শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৮), জিয়া শেখ (৩৮), কবির সুলতান (৫৫), কাইয়ুম জমাদ্দার (৪০) ও শরিফুল ইসলাম বয়াতি (২১) বাগেরহাট জেলার রামপাল, ফকিরহাট, কচুয়া, মোড়লগঞ্জ, শরণখোলা এবং মোঃ জয়নাল আবেদীন (৩৮) পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার বাসিন্দা।

 

কোস্টগার্ড ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সুন্দরবনের সকল সক্রিয় বনদস্যুকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। সরকারের নির্দেশনা, আপনাদের সকলের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।