Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে IELTS ও জাপানি ভাষা শিক্ষা নিয়ে সেমিনার বাগেরহাট পৌরসভার সড়ক উন্নয়নে অনিয়মের অভিযোগ, পুরোনো ঠিকাদারের হাতেই একাধিক কাজ,

নন্দীগ্রামে সবুজ মাঠে ঝাঁকে ঝাঁকে শামুকখোল পাখির আগমন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 01:35:02 pm, Tuesday, 21 July 2026
  • 23 বার

নিজস্ব প্রতিবেদক,

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ ও জলাভূমিতে আবারও দেখা মিলেছে দুর্লভ প্রজাতির শামুকখোল পাখির আগমন। শত শত শামুকখোল পাখির কলরবে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুখর হয়ে উঠেছে নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। ধান কাটা ফাঁকা মাঠে ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে পাখিগুলোকে। এ মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।

গত রবিবার সকালে নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের রিধইল-সিধইল মাঠে প্রায় দুই থেকে তিনশত শামুকখোল পাখি একসঙ্গে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যায়। দিনের আলোয় আশপাশের জলাশয় ও কৃষি জমি থেকে শামুক, ব্যাঙ, ছোট মাছ, কাঁকড়া ও বিভিন্ন জলজপ্রাণী খেয়ে সন্ধ্যা নামতেই তারা ফিরে যায় নিজেদের আবাসস্থলে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিধইল-সিধইল গ্রামের চারপাশের বাঁশবাগান, বট, পাকুড়, তেঁতুল ও অন্যান্য বড় গাছে বাসা বেঁধেছে পাখিগুলো। এ ছাড়াও নন্দীগ্রাম, ফোকপাল ও কালিকাপুর মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব পাখিগুলোর পদচারণা দেখা যাচ্ছে। বিকেলের পর গাছের উঁচু ডালে শত শত পাখিকে পাশাপাশি বসে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। গ্রামবাসীরা জানান, ধূসর-সাদা রঙের এই শামুকখোল পাখির ডানা বড়, ঠোঁট লম্বা এবং মাঝখানে ফাঁকাযুক্ত হওয়ায় সহজেই শামুকের খোল ভেঙে ভেতরের অংশ খেতে পারে। লেজ ও পাখার শেষভাগ কালো রঙের হওয়ায় দূর থেকেই শামুকখোল পাখিগুলোকে আলাদা করে চেনা যায়। দেখতে অনেকটা বক পাখির মতো হলেও আচরণ ও খাদ্যাভ্যাসে রয়েছে ভিন্নরকম বৈশিষ্ট্য।

পাখি বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, শুকনো ডাল, কাঠি, লতাপাতা ঘাস দিয়ে স্ত্রী ও পুরুষ শামুকখোল পাখি মিলে প্রায় ১০ থেকে ১২দিনে বাসা তৈরি করে। জুলাই-আগস্ট মাসে তিন থেকে পাঁচটি ডিম দেয় এবং প্রায় ২৫দিনে ডিম ফুটে ছানা বের হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই ছানাগুলো উড়তে সক্ষম হয়। প্রায় ৮১ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এই পাখির ডানার বিস্তার প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার। ঠোঁটের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার এবং পা প্রায় ১৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার। প্রজনন মৌসুমে এদের দেহ আরও উজ্জ্বল সাদা রঙ ধারণ করে। বর্ষা মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চলের জলাভূমি এলাকায় শামুকখোল পাখির উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। পর্যাপ্ত খাদ্য ও নিরাপদ পরিবেশ পেলে তারা দীর্ঘ সময় একই এলাকায় অবস্থান করে। খাদ্যের সংকট দেখা দিলে আবার অন্যত্র চলে যায় এবং অনুকূল পরিবেশ ফিরে এলে পুনরায় একই এলাকায় ফিরে আসে শামুকখোল পাখি। প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর অতিথিদের নিরাপদ আবাস ও খাদ্যসংস্থানের জন্য স্থানীয়রা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। পরিবেশবিদদের মতে, শামুকখোল পাখির আগমন কোনো এলাকার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের সুস্থতার একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

বনবিভাগ বগুড়ার নন্দীগ্রামে কর্মরত সাইফুল ইসলাম জানান, পরিযায়ী পাখিরা বিভিন্ন মৌসুমে একস্থান থেকে অন্যস্থানে ভ্রমণ করে। সাধারণত যেখানে তারা নিরাপদ আশ্রয় ও পর্যাপ্ত খাবার পায়, সেখানেই কয়েক মাস পর্যন্ত অবস্থান করে। তিনি আরও বলেন, রিধইল-সিধইল গ্রামে আশ্রয় নেওয়া এই অতিথি পাখিদের কেউ যেনো কোনোভাবে বিরক্ত না করে বা শিকার করতে না পারে, সেজন্য এলাকাটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয়

নন্দীগ্রামে সবুজ মাঠে ঝাঁকে ঝাঁকে শামুকখোল পাখির আগমন

আপডেট টাইম : 01:35:02 pm, Tuesday, 21 July 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক,

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ ও জলাভূমিতে আবারও দেখা মিলেছে দুর্লভ প্রজাতির শামুকখোল পাখির আগমন। শত শত শামুকখোল পাখির কলরবে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুখর হয়ে উঠেছে নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। ধান কাটা ফাঁকা মাঠে ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে পাখিগুলোকে। এ মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।

গত রবিবার সকালে নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের রিধইল-সিধইল মাঠে প্রায় দুই থেকে তিনশত শামুকখোল পাখি একসঙ্গে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যায়। দিনের আলোয় আশপাশের জলাশয় ও কৃষি জমি থেকে শামুক, ব্যাঙ, ছোট মাছ, কাঁকড়া ও বিভিন্ন জলজপ্রাণী খেয়ে সন্ধ্যা নামতেই তারা ফিরে যায় নিজেদের আবাসস্থলে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিধইল-সিধইল গ্রামের চারপাশের বাঁশবাগান, বট, পাকুড়, তেঁতুল ও অন্যান্য বড় গাছে বাসা বেঁধেছে পাখিগুলো। এ ছাড়াও নন্দীগ্রাম, ফোকপাল ও কালিকাপুর মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব পাখিগুলোর পদচারণা দেখা যাচ্ছে। বিকেলের পর গাছের উঁচু ডালে শত শত পাখিকে পাশাপাশি বসে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। গ্রামবাসীরা জানান, ধূসর-সাদা রঙের এই শামুকখোল পাখির ডানা বড়, ঠোঁট লম্বা এবং মাঝখানে ফাঁকাযুক্ত হওয়ায় সহজেই শামুকের খোল ভেঙে ভেতরের অংশ খেতে পারে। লেজ ও পাখার শেষভাগ কালো রঙের হওয়ায় দূর থেকেই শামুকখোল পাখিগুলোকে আলাদা করে চেনা যায়। দেখতে অনেকটা বক পাখির মতো হলেও আচরণ ও খাদ্যাভ্যাসে রয়েছে ভিন্নরকম বৈশিষ্ট্য।

পাখি বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, শুকনো ডাল, কাঠি, লতাপাতা ঘাস দিয়ে স্ত্রী ও পুরুষ শামুকখোল পাখি মিলে প্রায় ১০ থেকে ১২দিনে বাসা তৈরি করে। জুলাই-আগস্ট মাসে তিন থেকে পাঁচটি ডিম দেয় এবং প্রায় ২৫দিনে ডিম ফুটে ছানা বের হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই ছানাগুলো উড়তে সক্ষম হয়। প্রায় ৮১ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এই পাখির ডানার বিস্তার প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার। ঠোঁটের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার এবং পা প্রায় ১৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার। প্রজনন মৌসুমে এদের দেহ আরও উজ্জ্বল সাদা রঙ ধারণ করে। বর্ষা মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চলের জলাভূমি এলাকায় শামুকখোল পাখির উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। পর্যাপ্ত খাদ্য ও নিরাপদ পরিবেশ পেলে তারা দীর্ঘ সময় একই এলাকায় অবস্থান করে। খাদ্যের সংকট দেখা দিলে আবার অন্যত্র চলে যায় এবং অনুকূল পরিবেশ ফিরে এলে পুনরায় একই এলাকায় ফিরে আসে শামুকখোল পাখি। প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর অতিথিদের নিরাপদ আবাস ও খাদ্যসংস্থানের জন্য স্থানীয়রা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। পরিবেশবিদদের মতে, শামুকখোল পাখির আগমন কোনো এলাকার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের সুস্থতার একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

বনবিভাগ বগুড়ার নন্দীগ্রামে কর্মরত সাইফুল ইসলাম জানান, পরিযায়ী পাখিরা বিভিন্ন মৌসুমে একস্থান থেকে অন্যস্থানে ভ্রমণ করে। সাধারণত যেখানে তারা নিরাপদ আশ্রয় ও পর্যাপ্ত খাবার পায়, সেখানেই কয়েক মাস পর্যন্ত অবস্থান করে। তিনি আরও বলেন, রিধইল-সিধইল গ্রামে আশ্রয় নেওয়া এই অতিথি পাখিদের কেউ যেনো কোনোভাবে বিরক্ত না করে বা শিকার করতে না পারে, সেজন্য এলাকাটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।