Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে IELTS ও জাপানি ভাষা শিক্ষা নিয়ে সেমিনার বাগেরহাট পৌরসভার সড়ক উন্নয়নে অনিয়মের অভিযোগ, পুরোনো ঠিকাদারের হাতেই একাধিক কাজ,

এএসআই নিয়োগ পরীক্ষায় রংপুরে জালিয়াতি, দালাল চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার।

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 08:47:50 pm, Saturday, 1 August 2026
  • 90 বার

‎রংপুর ডেস্ক।

‎বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ জালিয়াতি ও প্রতারণার একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে রংপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ভুয়া প্রবেশপত্র তৈরি, প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ এবং মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসা এই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক ভুয়া পরীক্ষার্থী, এক প্রক্সি পরীক্ষার্থী, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের একজন কর্মকর্তা এবং চক্রের আরেক সক্রিয় সদস্য। অভিযানে তাদের কাছ থেকে জাল প্রবেশপত্র, মোবাইল ফোন, অর্থ লেনদেনের স্ক্রিনশটসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

‎শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে এ অভিযান পরিচালনা করে রংপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ডিবির একটি বিশেষ টিম নিয়োগ পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছিল। পরীক্ষার্থীদের পরিচয় ও প্রবেশপত্র যাচাইয়ের অংশ হিসেবে পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটকে স্থাপিত ফেইস ডিটেকশন পয়েন্টে দায়িত্ব পালনকালে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এক যুবকের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে থামানো হয়। পরে ওই যুবক, মো. আশরাফুল ইসলাম (২১)-এর প্রবেশপত্র যাচাই করে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তাকে একাডেমিক ভবনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন যে, তার কাছে থাকা প্রবেশপত্রটি সম্পূর্ণ জাল। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে, তার হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রক্সি পরীক্ষার্থী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. তাজমিলুর রহমান (১৯)। তাৎক্ষণিকভাবে তাকেও আটক করা হয়।

‎জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল ইসলাম জানান, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কামালকাছনা কার্যালয়ে কর্মরত ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর মো. বাদশা মাসউদ আলম (৪৮) এবং নুরুল ইসলাম (৪৬) নামের আরেক ব্যক্তি তাকে পুলিশের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেন। তারা আশরাফুলের বাবার সঙ্গে ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে চাকরি নিশ্চিত করার চুক্তি করেন। এই চুক্তির অংশ হিসেবে আশরাফুল দিনাজপুর থেকে ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাবে প্রথম ধাপে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দেন। টাকা পাওয়ার পর চক্রের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার কাছে একটি জাল প্রবেশপত্র পাঠিয়ে দেয় এবং সেটি ব্যবহার করে পরীক্ষায় অংশ নিতে নির্দেশ দেয়। তদন্তে আরও জানা যায়, আশরাফুল কখনোই নিয়োগের বিধি অনুযায়ী প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি। অর্থাৎ বৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোনো ধাপ সম্পন্ন না করেই জাল প্রবেশপত্রের মাধ্যমে সরাসরি লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
‎আশরাফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকা থেকে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মো. বাদশা মাসউদ আলমকে গ্রেপ্তার করে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তল্লাশি করে প্রতারণার পরিকল্পনা, অর্থ লেনদেন, জাল প্রবেশপত্র প্রেরণ এবং চাকরি দেওয়ার আশ্বাসসংক্রান্ত বিভিন্ন কথোপকথনের তথ্য পাওয়া যায়। পরে বাদশা মাসউদ আলমকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নুরুল ইসলামসহ আরও দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চাকরিপ্রত্যাশীকে পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
‎তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই চক্রটি শুধু জাল প্রবেশপত্র তৈরি করেই ক্ষান্ত থাকেনি; তারা নিজেদের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিত এবং বিভিন্ন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নাম ও পদবি ব্যবহার করে চাকরিপ্রত্যাশীদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করত। এমনকি পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তাদের কাছেও ভুয়া পরিচয়ে ফোন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডিবির তদন্তে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি সুসংগঠিত প্রতারক চক্র, যারা পরিকল্পিতভাবে সরকারি চাকরিপ্রত্যাশীদের টার্গেট করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে আরও ভুক্তভোগী থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযানের ধারাবাহিকতায় চক্রের আরেক সদস্য মো. নুরুল ইসলামকে আরপিএমপির কোতোয়ালী থানার সহযোগিতায় ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একটি জাল প্রবেশপত্র, অর্থ লেনদেনের স্ক্রিনশট, একাধিক মোবাইল ফোন এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। এসব আলামত পরবর্তী তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
‎গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার শিরাইল (ডাঙ্গাপাড়া) গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলাম (২১), রংপুরের কামালকাছনায় কর্মরত ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর মো. বাদশা মাসউদ আলম (৪৮), দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ছাতইল গ্রামের মো. তাজমিলুর রহমান (১৯) এবং নীলফামারী সদর উপজেলার খামাতপাড়া (বটতলা) এলাকার মো. নুরুল ইসলাম (৪৬)। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আরপিএমপির কোতোয়ালী থানায় Public Examinations (Offences) (Amendment) Act, 2026-এর ৩ ও ১৩ ধারাসহ দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪০৯, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৪, ১০৯, ১৭০ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রংপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং প্রতারণাকারী দালাল চক্র নির্মূলে তাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। কোনো ব্যক্তি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ দাবি করলে তা বিশ্বাস না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রত্যাশীদের বৈধ প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো প্রলোভনে পা না দেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয়

এএসআই নিয়োগ পরীক্ষায় রংপুরে জালিয়াতি, দালাল চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার।

আপডেট টাইম : 08:47:50 pm, Saturday, 1 August 2026

‎রংপুর ডেস্ক।

‎বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ জালিয়াতি ও প্রতারণার একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে রংপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ভুয়া প্রবেশপত্র তৈরি, প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ এবং মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসা এই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক ভুয়া পরীক্ষার্থী, এক প্রক্সি পরীক্ষার্থী, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের একজন কর্মকর্তা এবং চক্রের আরেক সক্রিয় সদস্য। অভিযানে তাদের কাছ থেকে জাল প্রবেশপত্র, মোবাইল ফোন, অর্থ লেনদেনের স্ক্রিনশটসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

‎শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে এ অভিযান পরিচালনা করে রংপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ডিবির একটি বিশেষ টিম নিয়োগ পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছিল। পরীক্ষার্থীদের পরিচয় ও প্রবেশপত্র যাচাইয়ের অংশ হিসেবে পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটকে স্থাপিত ফেইস ডিটেকশন পয়েন্টে দায়িত্ব পালনকালে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এক যুবকের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে থামানো হয়। পরে ওই যুবক, মো. আশরাফুল ইসলাম (২১)-এর প্রবেশপত্র যাচাই করে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তাকে একাডেমিক ভবনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন যে, তার কাছে থাকা প্রবেশপত্রটি সম্পূর্ণ জাল। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে, তার হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রক্সি পরীক্ষার্থী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. তাজমিলুর রহমান (১৯)। তাৎক্ষণিকভাবে তাকেও আটক করা হয়।

‎জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল ইসলাম জানান, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কামালকাছনা কার্যালয়ে কর্মরত ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর মো. বাদশা মাসউদ আলম (৪৮) এবং নুরুল ইসলাম (৪৬) নামের আরেক ব্যক্তি তাকে পুলিশের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেন। তারা আশরাফুলের বাবার সঙ্গে ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে চাকরি নিশ্চিত করার চুক্তি করেন। এই চুক্তির অংশ হিসেবে আশরাফুল দিনাজপুর থেকে ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাবে প্রথম ধাপে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দেন। টাকা পাওয়ার পর চক্রের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার কাছে একটি জাল প্রবেশপত্র পাঠিয়ে দেয় এবং সেটি ব্যবহার করে পরীক্ষায় অংশ নিতে নির্দেশ দেয়। তদন্তে আরও জানা যায়, আশরাফুল কখনোই নিয়োগের বিধি অনুযায়ী প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি। অর্থাৎ বৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোনো ধাপ সম্পন্ন না করেই জাল প্রবেশপত্রের মাধ্যমে সরাসরি লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
‎আশরাফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকা থেকে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মো. বাদশা মাসউদ আলমকে গ্রেপ্তার করে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তল্লাশি করে প্রতারণার পরিকল্পনা, অর্থ লেনদেন, জাল প্রবেশপত্র প্রেরণ এবং চাকরি দেওয়ার আশ্বাসসংক্রান্ত বিভিন্ন কথোপকথনের তথ্য পাওয়া যায়। পরে বাদশা মাসউদ আলমকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নুরুল ইসলামসহ আরও দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চাকরিপ্রত্যাশীকে পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
‎তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই চক্রটি শুধু জাল প্রবেশপত্র তৈরি করেই ক্ষান্ত থাকেনি; তারা নিজেদের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিত এবং বিভিন্ন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নাম ও পদবি ব্যবহার করে চাকরিপ্রত্যাশীদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করত। এমনকি পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তাদের কাছেও ভুয়া পরিচয়ে ফোন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডিবির তদন্তে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি সুসংগঠিত প্রতারক চক্র, যারা পরিকল্পিতভাবে সরকারি চাকরিপ্রত্যাশীদের টার্গেট করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে আরও ভুক্তভোগী থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযানের ধারাবাহিকতায় চক্রের আরেক সদস্য মো. নুরুল ইসলামকে আরপিএমপির কোতোয়ালী থানার সহযোগিতায় ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একটি জাল প্রবেশপত্র, অর্থ লেনদেনের স্ক্রিনশট, একাধিক মোবাইল ফোন এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। এসব আলামত পরবর্তী তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
‎গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার শিরাইল (ডাঙ্গাপাড়া) গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলাম (২১), রংপুরের কামালকাছনায় কর্মরত ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর মো. বাদশা মাসউদ আলম (৪৮), দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ছাতইল গ্রামের মো. তাজমিলুর রহমান (১৯) এবং নীলফামারী সদর উপজেলার খামাতপাড়া (বটতলা) এলাকার মো. নুরুল ইসলাম (৪৬)। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আরপিএমপির কোতোয়ালী থানায় Public Examinations (Offences) (Amendment) Act, 2026-এর ৩ ও ১৩ ধারাসহ দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪০৯, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৪, ১০৯, ১৭০ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রংপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং প্রতারণাকারী দালাল চক্র নির্মূলে তাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। কোনো ব্যক্তি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ দাবি করলে তা বিশ্বাস না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রত্যাশীদের বৈধ প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো প্রলোভনে পা না দেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।