Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে IELTS ও জাপানি ভাষা শিক্ষা নিয়ে সেমিনার বাগেরহাট পৌরসভার সড়ক উন্নয়নে অনিয়মের অভিযোগ, পুরোনো ঠিকাদারের হাতেই একাধিক কাজ,

সাজার শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে বাগেরহাটে সেলাই মেশিন ও ভ্যানগাড়ি বিতরণ।

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 06:47:16 pm, Sunday, 2 August 2026
  • 27 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি ।

অপরাধ থেকে ফিরে এসে স্বাভাবিক ও আত্মনির্ভরশীল জীবন গড়ে তুলতে সাজার শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাগেরহাটে সেলাই মেশিন, ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ১০টায় বাগেরহাট জেলা কারাগারের প্রধান ফটকে জেলা প্রবেশন অফিসারের কার্যালয়ের আয়োজনে এবং জেলা অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির উদ্যোগে এ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহযোগিতা করে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও বাগেরহাট জেলা কারাগার। অনুষ্ঠানে চারজন উপকারভোগীর মধ্যে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি, চারটি সেলাই মেশিন এবং শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। উপকারভোগীদের মধ্যে মোংলা উপজেলার জালাল শেখকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি দেওয়া হয়। এছাড়া কচুয়া উপজেলার মোছাম্মৎ আকলিমা বেগম, মোরেলগঞ্জ উপজেলার লাইলী বেগম এবং চিতলমারী উপজেলার আয়েশা আক্তার ও চম্পা রানী পালের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার মুহাম্মদ আবু সাদ্দাত। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রবেশন অফিসার শেখ সহিদুর রহমান। এ সময় বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ শাওন, সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, জেলা কারাগার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পুনর্বাসনের মাধ্যমে সাজাভোগ শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা গেলে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে। একই সঙ্গে তারা আত্মসম্মান বজায় রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন। তাই শাস্তির পাশাপাশি মানবিক পুনর্বাসন কার্যক্রম অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

উপকারভোগী জালাল শেখ বলেন, “দীর্ঘ ২৩ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছি। জেলা কারাগারের পক্ষ থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি পেয়েছি। এটি চালিয়ে সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারব। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। অপর উপকারভোগী আকলিমা বেগম বলেন, আমি ২৬ বছর কারাভোগ করেছি। একই মামলায় আমার স্বামীও কারাগারে ছিলেন এবং ২০০৬ সালে কারাগারেই মারা যান। কারাগারে থাকাকালে দর্জির কাজ শিখেছি। মুক্তির পর একটি সেলাই মেশিন পেয়েছি। এটি দিয়ে সৎভাবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারব।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, পাপকে ঘৃণা করতে হবে, পাপীকে নয়। সাজাভোগ শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসন কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে তাদের সেলাই মেশিন, ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। সমাজের সবাই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাদের গ্রহণ করলে তারা নতুনভাবে জীবন শুরু করতে পারবেন। অপরাধ দমনে শুধু শাস্তি নয়, সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক সহযোগিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয়

সাজার শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে বাগেরহাটে সেলাই মেশিন ও ভ্যানগাড়ি বিতরণ।

আপডেট টাইম : 06:47:16 pm, Sunday, 2 August 2026

বাগেরহাট প্রতিনিধি ।

অপরাধ থেকে ফিরে এসে স্বাভাবিক ও আত্মনির্ভরশীল জীবন গড়ে তুলতে সাজার শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাগেরহাটে সেলাই মেশিন, ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ১০টায় বাগেরহাট জেলা কারাগারের প্রধান ফটকে জেলা প্রবেশন অফিসারের কার্যালয়ের আয়োজনে এবং জেলা অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির উদ্যোগে এ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহযোগিতা করে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও বাগেরহাট জেলা কারাগার। অনুষ্ঠানে চারজন উপকারভোগীর মধ্যে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি, চারটি সেলাই মেশিন এবং শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। উপকারভোগীদের মধ্যে মোংলা উপজেলার জালাল শেখকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি দেওয়া হয়। এছাড়া কচুয়া উপজেলার মোছাম্মৎ আকলিমা বেগম, মোরেলগঞ্জ উপজেলার লাইলী বেগম এবং চিতলমারী উপজেলার আয়েশা আক্তার ও চম্পা রানী পালের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার মুহাম্মদ আবু সাদ্দাত। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রবেশন অফিসার শেখ সহিদুর রহমান। এ সময় বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ শাওন, সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, জেলা কারাগার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পুনর্বাসনের মাধ্যমে সাজাভোগ শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা গেলে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে। একই সঙ্গে তারা আত্মসম্মান বজায় রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন। তাই শাস্তির পাশাপাশি মানবিক পুনর্বাসন কার্যক্রম অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

উপকারভোগী জালাল শেখ বলেন, “দীর্ঘ ২৩ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছি। জেলা কারাগারের পক্ষ থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি পেয়েছি। এটি চালিয়ে সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারব। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। অপর উপকারভোগী আকলিমা বেগম বলেন, আমি ২৬ বছর কারাভোগ করেছি। একই মামলায় আমার স্বামীও কারাগারে ছিলেন এবং ২০০৬ সালে কারাগারেই মারা যান। কারাগারে থাকাকালে দর্জির কাজ শিখেছি। মুক্তির পর একটি সেলাই মেশিন পেয়েছি। এটি দিয়ে সৎভাবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারব।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, পাপকে ঘৃণা করতে হবে, পাপীকে নয়। সাজাভোগ শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসন কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে তাদের সেলাই মেশিন, ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। সমাজের সবাই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাদের গ্রহণ করলে তারা নতুনভাবে জীবন শুরু করতে পারবেন। অপরাধ দমনে শুধু শাস্তি নয়, সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক সহযোগিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।